চাকরির প্রলোভনে ১২ লাখ টাকা আত্মসাৎ, প্রতারক গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:১৭ পিএম, ১৮ মে ২০২২

জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা (এনএসআই) সংস্থায় চাকরির প্রলোভন ও ভুয়া নিয়োগপত্র দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে হাসান মাহমুদ অপু (৩২) নামের একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রাজধানীর জাহাঙ্গীর গেট স্বাধীনতা টাওয়ারের সামনে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে এনএসআই। তার কাছ থেকে একটি মোটরসাইকেল ও একটি আইফোন জব্দ করা হয়।

পুলিশ জানায়, লেফটেন্যান্ট কর্নেল পরিচয় দিয়ে একজন ভুক্তভোগীর কাছ থেকে সেনাবাহিনীতে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ১২ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে হাসান মাহমুদ অপু। তার বিরুদ্ধে বনানী থানায় মামলা হয়েছে। মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

বুধবার (১৮ মে) বিকেলে জাগো নিউজকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরে আযম মিয়া।

তিনি বলেন, চাকরির প্রলোভন ও ভুয়া নিয়োগপত্র দিয়ে ১২ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে হাছান মাহমুদ অপুকে আটক করে এনএসআই। এরপর আমাদের কাছে হস্তান্তরের পর আটক অপুর বিরুদ্ধে মামলা করেন ভুক্তভোগী মো. সোহেল রানা। সোহেল রানা তার ছোট ভাই ও বোন জামাইয়ের ভাতিজার চাকরির জন্য ১২ লাখ টাকা দেন হাসান অপুর কাছে। এই টাকা আত্মসাৎ করেছে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী সোহেল।

ভুক্তভোগী সোহেল রানার থানায় দেওয়া অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আসামি মো. হাসান অপু তার পূর্বপরিচিত। সে সুবাদে গত বছরের ২ অক্টোবর বনানী কাঁচাবাজারের সামনে তাদের দেখা হয় এবং কথা হয়। কথাবার্তার একপর্যায় তিনি নিজেকে সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট কর্নেল পরিচয় দেন। এরপর তার ছোটভাই মামুন খানকে আট লাখ টাকার বিনিময়ে এনএসআইয়ের অপারেশন ইন্সপেক্টর পদে তিন মাসের মধ্যে চাকরি দেবে বলে প্রস্তাব দেয়। তার প্রস্তাবে ভুক্তভোগী সোহেল রানা রাজি হয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে অক্টোবরের তৃতীয় সপ্তাহে আসামি হাসান অপুর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে দুই দফায় চার লাখ টাকা দেন। বাকি চার লাখ টাকা চাকরিতে যোগদানের পর দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। ২০ ডিসেম্বর চাকরিপ্রার্থী মামুন খানের নামে এনএসআইয়ের একটি নিয়োগপত্র দেয় এবং তার আত্মীয়-স্বজনের মধ্যে আর কেউ চাকরিপ্রার্থী থাকলে জুনিয়র অডিটর পদে চাকরির সুযোগ আছে বলে জানান হাসান।

অভিযোগে সোহেল উল্লেখ করেন, ভুক্তভোগী সোহেলের বোনজামাইয়ে দুই ভাতিজাকে জুনিয়র অডিটর পদে চাকরির জন্য চলতি বছরের ২৫ জানুয়ারি থেকে ৩১ জানুয়ারির মধ্যে নগদ আট লাখ টাকা এবং বাকি আট লাখ টাকা চাকরিতে যোগদানের পর দিতে হবে বলে কথা হয়। ভুক্তভোগীর ছোট ভাই চাকরিপ্রার্থী মামুন খান নিয়োগপত্র নিয়ে এনএসআই সদর দপ্তরে যোগদান করতে গেলে ওই নিয়োগপত্রটি ভুয়া বলে জানা যায়।

এ বিষয়ে প্রতারক হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি একেক সময় একেক ধরনের কথা বলেন। চাকরি না হওয়ায় ১২ লাখ ফেরত চাইতে গেলে ভয়-ভীতি ও হুমকি দেয় হাসান অপু। পরবর্তীতে জানা যায়, প্রতারক হাসান অপু সেনাবাহিনীর লে. কর্নেল নয়। তিনি নিজের পরিচয় গোপন করে অপরাধমূলক কাজ করে জানজালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া নিয়োগপত্র তৈরি করে প্রতারনামূলকভাবে বিভিন্ন তারিখ ও সময়ে মোট ১২ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে।

টিটি/বিএ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]