দু-তিনদিনের মধ্যে আসছে অর্থনৈতিক কৃচ্ছ্রতা সাধনের নীতি

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:০৮ পিএম, ১৯ মে ২০২২

নিত্যপণ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখা ও টাকার বিপরীতে ডলারের দাম নিয়ন্ত্রণে আগামী দু-তিনদিনের মধ্যে অর্থনৈতিক কৃচ্ছ্রতা সাধনের নতুন নীতি আসছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।

এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছে মন্ত্রিসভা। বৃহস্পতিবার (১৯ মে) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে তার কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান।

মন্ত্রিসভার বৈঠকে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে আলোচনা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে সচিব বলেন, ‘সভায় দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। দ্রব্যমূল্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বাণিজ্য ও অর্থ মন্ত্রণালয়কে কতগুলো নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, পর্যাপ্ত এবং কম্প্রিহেনসিভ ব্যবস্থা নিয়ে সবার কাছে তুলে ধরার জন্য।

বিশেষ করে কীভাবে জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাচ্ছে বা সাপ্লাই কমে যাচ্ছে— এ জিনিসগুলো কীভাবে হ্যান্ডেল করতে পারবো। কোন জায়গায় রেস্ট্রিকশন দিলে ভালো হবে বা ওপেন করলে ভালো হবে। এগুলো দু-তিনদিনের মধ্যে আলাপ আলোচনা করে তুলে ধরতে হবে।

এছাড়া ডলারের যে ক্রাইসিস হচ্ছে এটা কীভাবে সলভ করা যায় এটা বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে বসে দু-তিনদিনের মধ্যে প্রেসের সামনে বসার জন্য। আগামী ২ থেকে ৩ দিনের মধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংক এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেবে।’

খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘তাদের বলা হয়েছে, এ সিনারিওতে আমাদের কি করণীয়, যেমন মনে করেন আপনি একটি সাজেশন দিলেন ফল আনার মধ্যে ট্যাক্স বাড়িয়ে দেন যাতে ফল বেশি না আসে। এখন বৈশাখ মাস এখন তো আম, জাম, কাঁঠাল পর্যাপ্ত থাকবে। এরকম একটি সাজেশন আপনি দিলেন এটা বিবেচনা করে লজিক্যাল কিনা সেটা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া।

৮ বা ৯ হাজার কোটি টাকার ফল আসে বছরে। ৯ হাজার কোটি টাকা ইজ মোর দেন ওয়ান বিলিয়ন ডলার। এখন ট্যাক্স যদি সাময়িকভাবে বাড়ানো হয় বা অন্য যে আইটেমগুলো আছে সেগুলোতে ট্যাক্স বাড়ান, এ বিষয়গুলো আলোচনা করে ২ থেকে ৩ দিনের মধ্যে একটি সিদ্ধান্ত নিতে বলা হয়েছে।’

উদ্বুদ্ধ পরিস্থিতিতে গণমাধ্যমকে গঠনমূলক সংবাদ পরিবেশনের অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, আপনাদের কাছেও আমাদের একটি আবেদন যে গঠনমূলক জিনিসগুলো আলোচনা করতে হবে। এ যে কোভিড রিকভার করা যাচ্ছিলো কিন্তু ইউরোপের যে যুদ্ধটা এটা ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ইকোনোমিক ক্রাইসিস শুধু না, সাপ্লাইয়েরও একটি ক্রাইসিস হচ্ছে। কারণ রাশান দেশগুলো হলো ফুড এবং এনার্জি সাপ্লাইয়ে সারপ্লাস।’

খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘এখন এখান থেকে যদি না বের হতে পারে ফুড এবং এনার্জি তাহলে সারা বিশ্বই কিন্তু ভুগছে। কালই দেখলাম নাইন পারসেন্ট ইনফ্লেশন হয়েছে গ্রেট ব্রিটেনে। যুক্তরাষ্ট্রেও আট পারসেন্টের বেশি। আমরা তো ওয়ার্ল্ডের বাইরে না, আমরা তো ওয়ার্ল্ডের অংশ। সেক্ষেত্রে আমাদেরও হয়তো কিছু কিছু ক্ষেত্রে আরও রেশনাল বিহেভ করতে হবে সেজন্য আমরা মিডিয়াকে অনুরোধ করবো এটাই একটু পজিটিভওয়েতে প্রচার করার জন্য। আমরা সবাই যেন একটু সাশ্রয়ী থাকি বা রেশনাল থাকি।’

আরএমএম/এমএএইচ/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]