সৌদিতে চুরি করতেন গাড়ি, দেশে ফিরে মোবাইল ফোন

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:০৪ পিএম, ১৯ মে ২০২২
গ্রেফতার আজিজ মোহাম্মদ, রনি হাওলাদার ও জাকির হোসেন

দীর্ঘ ৩৩ বছর সৌদি আরবে ছিলেন আজিজ মোহাম্মদ (৪৫)। সৌদিতে পড়াশোনা শেষে শুরু করেন ব্যবসা। তবে ব্যবসায় খুব বেশি সুবিধা করতে না পারায় শুরু করেন গাড়ি চুরি। সৌদিতে গাড়ি চুরির মামলায় তিন বছর সাজাও হয় তার। সাজা ভোগ করে ২০১৮ সালে বাংলাদেশে ফিরে আসেন। পরে কক্সবাজার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে একটি মাদরাসায় শিক্ষকতা শুরু করেন আজিজ। কিছুদিন পর মাদরাসায় মোবাইল চুরি করে ধরা পড়লে চাকরি চলে তার।

এরপর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে সংবাদ সম্মেলনের সময় স্টেশন ম্যানেজার মাসুদ সারওয়ারের মোবাইল ও ওয়ালেট চুরি করেন আজিজ। চুরি যাওয়া মোবাইলফোন উদ্ধারসহ আজিজ মোহাম্মদকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের গুলশান বিভাগ। এ সময় আরও দুজনকে গ্রেফতার করা হয়। তারা হলেন- রনি হাওলাদার (৪০) ও জাকির হোসেন (২৫)।

বৃহস্পতিবার (১৯ মে) গোয়েন্দা গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মশিউর রহমান জাগো নিউজকে এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, সৌদি আরবে অবস্থানকালে আজিজ বিএমডব্লিউ, লেক্সাসের মতো বিভিন্ন ব্র্যান্ডের দামি গাড়িও চুরি করতেন। ২০১৫ সালে গাড়ি চুরির মামলায় সৌদি পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন আজিজ। গাড়ি চুরির মামলায় তিন বছর সাজাও হয় তার। সাজা ভোগ করে ২০১৮ সালে বাংলাদেশে এসে কক্সবাজার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অবস্থান নিয়ে একটি মাদরাসায় শিক্ষকতা শুরু করেন। কিছুদিন পরে মাদরাসায় মোবাইল চুরি করে ধরা পড়লে চাকরি চলে যায়। এরপর থেকে তিনি ঢাকা শহরে এসে বিভিন্ন মেসে অবস্থান করেন।

গোয়েন্দা পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ঘটনার (স্টেশন ম্যানেজারের মোবাইল চুরি) ২৫ দিন পর তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় বুধবার (১৮ মে) চোরাই মোবাইলসহ আজিজ মোহাম্মদকে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে আজিজ স্বীকার করেছেন যে, সংবাদ সম্মেলন চলাকালে সুকৌশলে স্টেশন ম্যানেজারের ফোন এবং ওয়ালেট চুরি করে পালিয়ে যান তিনি।

৫ সেকেন্ডের মধ্যে পকেট থেকে মোবাইল ফোন উধাও
কোনো মোবাইল ফোনসেট চুরি করতে মালিকের গতিবিধি লক্ষ্য রাখতেন আজিজ। এরপর সুযোগ বুঝে মাত্র ৪ থেকে ৫ সেকেন্ডের মধ্যে ভিকটিমের পকেট থেকে মোবাইল হাতিয়ে নিতেন তিনি। এরপর চুরি করা মোবাইল রনি হাওলাদার ও জাকিরের কাছে দেড় হাজার থেকে এক হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি করতেন। জাকির চোরাই মোবাইলগুলো কিছুদিন তার কাছে রেখে লক খোলা, আইএমইআই নম্বর পরিবর্তন করে সাধারণ মানুষের কাছে এবং বিক্রয় ডটকমে বিজ্ঞাপন দিয়ে পাঁচ থেকে ১০ হাজার টাকায় বিক্রি করতেন।

তবে যেসব মোবাইলের লক খুলতে বা আইএমইআই পরিবর্তন করতে পারতেন না সেগুলোর বিভিন্ন পার্টস খুলে বিক্রি কর দিতেন আজিজ। তিনি দীর্ঘ তিন বছর ধরে রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, টিএসসি, নগর ভবন, গুলিস্তান, ধানমন্ডি লেক ও যাত্রাবাড়ীসহ বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতি সপ্তাহে ৮ থেকে ১০টি করে মোবাইল ফোন চুরি করতেন বলে স্বীকার করেছেন।

টিটি/কেএসআর/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]