পি কে হালদারের সব শেয়ার ফ্রিজ করার নির্দেশ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০:০৪ পিএম, ১৯ মে ২০২২
ফাইল ছবি

দেশের আর্থিক খাতে ব্যাপক লুটপাট চালানো প্রশান্ত কুমার (পি কে) হালদারের কোম্পানির সব ধরনের শেয়ার ফ্রিজ করার জন্য সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডকে (সিডিবিএল) নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউারিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলার আসামি পি কে হালদারের শেয়ার ফ্রিজ করার বিষয়ে আদালতের আদেশের প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (১৯ মে) এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিএসইসির নির্দেশে বলা হয়েছে, মহানগর দায়রা জজ ও মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত এবং দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ করা মামলায় আদালত গত ১৩ এপ্রিল পি কে হালদারের অস্থাবর সম্পদ অবরুদ্ধ বা ফ্রিজ করার আদেশ দেন।

সে অনুযায়ী পি কে হালদারের অস্থাবর সম্পদ, কোম্পানির শেয়ার অবরুদ্ধ বা ফ্রিজ করার জন্য সিডিবিএল’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবর পাঠানো চিঠিতে অনুরোধ জানিয়েছে বিএসইসি।

বিএসইসির দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, বৃহস্পতিবার কমিশন থেকে সিডিবিএলকে চিঠি দিয়ে পিকে হালদারের সব শেয়ার ফ্রিজ করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম জাগো নিউজকে বলেন, এ বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই।

পি কে হালদার ২০১৪ সালের সংসদ নির্বাচনের আগে-পরে শেয়ারবাজার থেকে ভিন্ন নামে ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, ফাস ফাইন্যান্স এবং পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের শেয়ার কিনে মালিকানায় আসে। কোম্পানি তিনটির দখল নিয়ে ব্যাপক লুটপাট চলায় পি কে হালদার।

এখন পর্যন্ত দুদকের দায়ের করা মামলায় ইন্টারন্যাশনাল লিজিং থেকে ভুয়া ঋণ সৃষ্টি ও আত্মসাতের মাধ্যমে আড়াই হাজার কোটি টাকা, ফাস ফাইন্যান্স থেকে ২ হাজার ২০০ কোটি টাকা এবং পিপলস লিজিং থেকে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার প্রাথমিক তথ্য পাওয়ার কথা বলা হয়েছে। পি কে হালদারের লুটপাটের শিকার হওয়া এই তিনটি প্রতিষ্ঠানই আর্থিক দুরবস্থার মধ্যে পতিত হয়েছে।

লোকসানে পতিত হওয়ায় কোম্পানিগুলো কয়েক বছর ধরে বিনিয়োগকারীদের কোনো লভ্যাংশ দিতে পারছে না। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে শেয়ার দামেও। শেয়ারের অস্বাভাবিক দরপতন হওয়ায় ২০১৯ সালের ১৪ জুলাই থেকে শেয়ারবাজারে পিপলস লিজিংয়ের শেয়ার লেনদেন বন্ধ করে দেয় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কর্তৃপক্ষ। সেইসঙ্গে এখনও কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন বন্ধ রয়েছে। আর ফাস ফাইন্যান্স ও ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের শেয়ার লেনদেন হলেও দীর্ঘদিন ধরে দরপতনের মধ্যে পতিত হয়।

এদিকে দেশের আর্থিক খাতে লুটপাট চালিয়ে বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে ভারতে আস্তানা গড়ে পি কে হালদার। নাম বদল করে ভারতে আত্মগোপনে থাকা আর্থিক কেলেঙ্কারির এই হোতাকে গত শানিবার ভারতের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) গ্রেফতার করে।

অবশ্য শুক্রবার সারাদিন ধরে ইডির কর্মকর্তারা পি কে হালদারসহ তার সহযোগীদের বিভিন্ন অফিসে হানা দেন এবং বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ উদ্ধার করেন। বর্ধমানের কাটোয়া, উত্তর ২৪ পরগনা ও দক্ষিণ ২৪ পরগনাসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পি কে হালদার, উত্তম মিত্র, প্রিতিশ হালদার ও প্রিতিশ হালদারের স্ত্রী ও জামাতা সঞ্জীব হালদারকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এমএএস/এসএইচএস/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]