‘দেশে জিডিপি বাড়লেও শ্রমিকের প্রকৃত মজুরি বাড়েনি’

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০:০৫ পিএম, ২০ মে ২০২২

স্বাধীনতার পর ১৯৮১ সাল থেকে দেশের জিডিপি (মোট দেশজ উৎপাদন) বাড়লেও শ্রমিকের প্রকৃত মজুরি বাড়েনি বলে জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম এম আকাশ।

শুক্রবার (২০ মে) বিকেলে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র আয়োজিত ‘উন্নয়নের সুফল থেকে শ্রমিকেরা বঞ্চিত কেন’ শীর্ষক আলোচনাসভায় এ কথা বলেন তিনি।

আলোচনাসভায় ১৯৮১ সাল থেকে ৯০ এর সময় শ্রমিক আন্দোলনের ফলে শ্রমিকদের মজুরি বাড়ার হার দেশের মোট জিডিপি বাড়ার হারের চেয়ে বেশি ছিল জানিয়ে অধ্যাপক ড. এম এম আকাশ বলেন, ‘কিন্তু ৯০ এর পর থেকে ২০০০ পর্যন্ত জিডিপি বেড়েছে কিন্তু শ্রমিকের প্রকৃত মজুরি বাড়েনি। ২০০০ সালের পর উৎপাদনশীলতা, উন্নয়ন, জিডিপি আরও বেড়েছে। কিন্তু আনুপাতিক হারে শ্রমিকের প্রকৃত মজুরি বাড়েনি।’

অর্থনীতির ভাষায় মানুষের উন্নয়নকেই সামগ্রিক উন্নয়ন হিসেবে বিবেচনা করা হয় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘উন্নয়ন বলতে কার উন্নয়ন? ১৭ কোটি ৯০ লাখ মানুষের কোনো উন্নয়নের ছাপ নেই। ১০ লাখের কিছুটা উন্নয়ন দেখা যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী প্রায়ই বলেন, ক্ষুধামুক্ত দেশ চাই। কিন্তু উনি রাতের বেলা বের হয়ে ঘুরে দেখুক মানুষের কি অবস্থা। এ অবস্থায় শ্রমিকদের শুধু নিজের কথা ভাবলে তাদের উন্নয়ন হবে না। সবার জন্য, ন্যায় বিচারের জন্য শ্রমিকদের লড়াই করতে হবে।'

সভায় বাংলাদেশ ইনস্টিটিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক ড. বিনায়ক সেন বলেন, ‘গত ৩০ বছরে যেভাবে উন্নয়ন আয় বেড়েছে সেভাবে শ্রমিকের মজুরি বাড়েনি। জিডিপি, উৎপাদনশীলতা অনুযায়ী খুবই কম হারে মজুরি বেড়েছে। এখানেই মূল বঞ্চনা।’

বিশ্বব্যাংকের তথ্যানুযায়ী ৯০-৯১ সালে দেশের মোট আয়ে ১০ শতাংশ শিল্প খাতের অবদান ছিল জানিয়ে বিনায়ক সেন বলেন, 'এখন এটা প্রায় ২০ শতাংশ। ভারতে ১৭ শতাংশ, পাকিস্তানে আরও কম। শ্রীলঙ্কায়ও কম। সাম্প্রতিক সময়ে শুধু দক্ষিণ এশিয়ায় শুধু বাংলাদেশেই শিল্প খাতের আয় বেড়েছে। কিন্তু সে অনুপাতে শিল্প শ্রমিকের আয় বাড়েনি।’

শ্রমিকেরা প্রতিনিয়ত প্রকৃত মজুরি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সংবিধানের ১৯ অনুচ্ছেদে সুযোগের সমতার কথা বলা হয়েছে। আরও বলা হয়েছে, প্রত্যেকেই তার যোগ্যতা অনুযায়ী পারিশ্রমিক পাবেন। এখানে বঞ্চনার কোনো সুযোগ নেই।’

সভার সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি শহীদুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘মাথাপিছু আয় ২৭শ ডলার আর শ্রমিকের মাইনে ২৭শ টাকা, এটা তো সরকারের উন্নয়নের কথা সঙ্গে মিলছে না। এ অবস্থার অবসান ঘটাতে হবে। শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে সামগ্রিক মুক্তির উদ্দেশে আরও সংগঠিত হয়ে লড়াই করতে হবে।’

আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক ডা. ওয়াহেদুল ইসলাম খান, সহসভাপতি মাহবুবুল আলম, যুগ্ম সম্পাদক আবুল কালাম আজাদসহ প্রমুখ।

এএএম/এমএএইচ/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]