জ্বালানির দাম না বাড়িয়ে ভর্তুকির দাবি ব্যবসায়ীদের

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:১১ পিএম, ২১ মে ২০২২

বিশ্বের সংকটময় পরিস্থিতিতে জ্বালানির দাম না বাড়িয়ে সরকারের কাছে ভর্তুকির দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

শনিবার (২১ মে) বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাবের ওপর আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

সম্মেলনে ব্যবসায়ীরা জানান, বর্তমানে সংকটময় পরিস্থিতিতে আমাদের দেশে গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়ালে ব্যাপক মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাবে। এ সময় পরিস্থিতি বিবেচনায় গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব স্থগিত করার কথা বলেন তারা। পণ্য-দ্রব্যের মূল্যস্ফীতির কথা ভেবে বিদ্যুতের দাম না বাড়িয়ে প্রয়োজনে সরকারকে ভর্তুকি দেওয়ার প্রস্তাব দেন তারা।

এ সময় এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্বে জিডিপির অনেক উন্নয়ন হয়েছে। তবে মহামারির সময় থেকেই আমাদের উৎপাদন খরচ বহুগুণে বেড়েছে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বিভিন্ন সেক্টরে।

লিখিত বক্তব্যে জসিম উদ্দিন আরও বলেন, কোভিড-১৯ ও ইউক্রেন-রাশিয়া সংকটের কারণে প্রতিটি দেশে খাদ্যপণ্য, শিল্পের কাঁচামাল ও উৎপাদন উপকরণসহ সকল খাতে ব্যাপক মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে মাত্রাতিরিক্ত পরিবহন ব্যয় ও ব্যবসা পরিচালনার খরচ বৃদ্ধির কারণে বিশ্বের প্রায় সর্বত্র মূল্যস্ফীতির হার বেড়েছে। যার জন্য জনজীবনে বিপর্যস্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

‘রপ্তানি শিল্পে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় এ খাতে বিশ্বব্যাপী চাহিদা হ্রাসের সঙ্গে সঙ্গে মূল্য বৃদ্ধিজনিত বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় আমাদের টিকে থাকা প্রকৃত অর্থে অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর নেতিবাচক প্রভাব আমাদের ব্যালেন্স অব পেমেন্টে ও বিদেশি মুদ্রা রিজার্ভের ওপর পড়ছে। আবার সঞ্চয় কমে যাওয়ার ফলে বিনিয়োগ ও ব্যাংকিং খাতের অর্থ প্রবাহে ভারসাম্যহীনতার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।’

‘এ সংকটময় সময়ে পাইকারি পর্যায়ে গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির প্রভাব বহুমাত্রিক মূল্যস্ফীতিকে উসকে দেবে। এর ফলে কৃষি, শিল্প ও সেবাসহ সার্বিকভাবে জীবন-জীবিকা নির্বাহের ক্ষেত্রে অচলাবস্থার সৃষ্টি হবে। অর্থনৈতিক উন্নয়নের চলমান ধারায় প্রতিবন্ধকতা তৈরি হবে।’

তিনি আরও বলেন, কোভিডের পর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেল ও এলএনজির ওপর প্রভাব পড়েছে। এ অবস্থায় জ্বালানি তেলের সাময়িক মূল্য বৃদ্ধির কারণে বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি সমীচীন হবে না। প্রয়োজনে জ্বালানি তেল ও এলএনজির মূল্য পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসার পরই মূল্য সমন্বয় করা যেতে পারে। সরকার চাইলে জ্বালানি তহবিল থেকে পরিস্থিতি সামাল দিতে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেওয়া ব্যবসায়ীরা জানান, করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও আমাদের জিডিপি প্রবৃদ্ধি (৬ দশমিক ৯৪ শতাংশ) অর্জিত হয়েছে। এমন সময় জ্বালানির দাম বাড়ালে পণ্যের দাম আরও বেড়ে যাবে। এমন পরিস্থিতিতে দাম না বাড়ানোর দাবি জানান তারা।

ইএআর/এমপি/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]