মহামারি-প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে তামাকে মৃত্যুহার বেশি: মানস

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:৫৯ পিএম, ২৪ মে ২০২২

দেশের ৬৭ শতাংশ মানুষ অসংক্রামক রোগে মারা যায়। যার জন্য দায়ী করা হয় তামাককে। ২০১৮ সালে তামাকের কারণে ৩০ হাজার ৫৭০ কোটি টাকার অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া মহামারি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও সড়ক দুর্ঘটনার চাইতে তামাকে মৃত্যুহার বেশি।

এসব তথ্য জানিয়েছে মাদকদ্রব্য ও নেশা নিরোধ সংস্থা (মানস)। মঙ্গলবার (২৪ মে) সকালে ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটিতে ‘তামাক নিয়ন্ত্রণে তামাক কোম্পানি থেকে শেয়ার প্রত্যাহারে করণীয়’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভা হয়।

সভায় মানসের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক ড. অরুপরতন চৌধুরি সভাপতিত্ব করেন। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আব্দুল মজিদ প্রমুখ। তামাক নিয়ন্ত্রণ গবেষক সুশান্ত সিনহার মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

তিনি বলেন, মানুষের সংখ্যার অনুপাতে বাংলাদেশ বিশ্বের অষ্টম বৃহত্তর সিগারেট ব্যবহারকারী দেশ। বাংলাদেশ তামাক কোম্পানিগুলোর উর্বর ব্যবসা ক্ষেত্র। দেশে প্রতিদিন গড়ে ১৯ কোটি ৭০ লাখ সিগারেট বিক্রি হয়। দেশে সিগারেটের উৎপাদন না বাড়লেও বাড়ছে ব্রিটিশ অ্যামেরিকান টোব্যাকোর (বিএটি) মুনাফা। করোনাকালেই মুনাফা বেড়েছে পাঁচ গুণ! তামাক কোম্পানি সরকারকে যে রাজস্ব দেয় তার কতটা জনগণ দেয়, কতটা কোম্পানি দেয় তা পরিষ্কার নয়। প্রকৃতপক্ষে, রাজস্বের ৯৫ শতাংশ দেয় জনগণ, অথচ ক্রেডিট নেয় তামাক কোম্পানি। কার্যকর তামাক নিয়ন্ত্রণে এসব বিষয় নজরদারি ও ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।

তামাক নিয়ন্ত্রণ গবেষক সুশান্ত সিনহা বলেন, নীতিগত সুবিধার মাধ্যমে বছরে ৭ হাজার কোটি টাকা জনগণের কাছ থেকে বাড়তি নিচ্ছে বিএটিবি। সামান্য শেয়ারের সুযোগ নিয়ে সরকারের ছয়জন কর্মকর্তাকে বিএটির বোর্ড অব ডিরেক্টরিতে যুক্ত করা হয়েছে এবং তারা ব্যক্তি স্বার্থে বছরের পর বছর সেখানে থেকেই যাচ্ছেন।

আরেফিন সিদ্দিক বলেন, তামাক কোম্পানির মতো প্রাণঘাতী পণ্য উৎপাদনকারী কোম্পানিতে সরকারের প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের প্রতিনিধিত্ব করা উচিৎ নয়। নৈতিকতার দিক থেকে যা সাংঘর্ষিক। তামাক কোম্পানিতে সরকারের কর্মকর্তাদের এই প্রতিনিধিত্ব তা পুনরায় বিবেচনা করতে হবে।

ড. মোহাম্মদ আব্দুল মজিদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর তামাকমুক্ত দেশ গড়ার ঘোষণা, একটি রাষ্ট্রীয় ঘোষণা। কিন্ত তা বাস্তবায়নে এখনো কোনো রোডম্যাপ নেই। উপরন্তু, তামাক কোম্পানিতে শেয়ার রাখা বিরাট স্বার্থের দ্বন্দ্ব। বিএটিবি থেকে সরকারের বিনিয়োগ প্রত্যাহার করা জরুরি।

সভাপতির বক্তব্যে অরুপরতন চৌধুরী বলেন, তামাকের ব্যবসায় সরকারের অংশীদারিত্বের বিষয়টি সরকারের দ্বৈতনীতি। সরকার প্রধান যেখানে তামাকের বিরুদ্ধে, সেখানে সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহ তামাক কোম্পানির পক্ষে কাজ করা উচিৎ নয়। শস্যের মধ্যে ভূত থাকায় দেশে তামাক নিয়ন্ত্রণ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ব্যাহত হচ্ছে।

এসএম/জেডএইচ/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]