সিলেটে বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২:৪৮ পিএম, ২৫ মে ২০২২

টানা বৃষ্টি আর উজানের ঢলে সিলেটের বন্যা পরিস্থিতি ক্রমান্বয়ে অবনতির দিকে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে বন্যার্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে আহ্বান জানিয়েছে সিলেট বিভাগ যোগাযোগ ও উন্নয়ন পরিষদ। একই সঙ্গে ১০ দফা দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

বুধবার (২৫ মে) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে এ দাবি জানান সংগঠনটির নেতারা।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে সিলেট বিভাগে প্রলয়ংকারী বন্যায় জনজীবন বিপন্ন। গরিব ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের সব আয়ের উৎস বন্ধ হয়ে গেছে। ব্যাপক জমির ফসল নষ্ট হয়েছে, নিম্ন আয়ের মানুষ খেয়ে না খেয়ে অনাহারে-অর্ধাহারে দিনাতিপাত করছে। এমন সময় সরকারি-বেসরকারি রিলিফ কার্যক্রম অপ্রতুল।

বক্তারা বলেন, এমতাবস্থায় সিলেট বিভাগ যোগাযোগ ও উন্নয়ন পরিষদ, ঢাকার উদ্যোগে ১০ দফা দাবি নিয়ে দাঁড়িয়েছে।

দাবিগুলো হলো:
১। সিলেট বিভাগের বন্যাকবলিত উপজেলাগুলোকে চিহ্নিত করে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন তৈরি করে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোকে বন্যাদুর্গত এলাকা ঘোষণা করা।
২। দুর্গত এলাকায় নদ-নদীর বাঁধগুলোকে দ্রুত মেরামতের প্রয়োজন এবং এ বাঁধের উন্নয়ন ও মেরামতের লক্ষ্যে তৈরি প্রকল্পগুলোকে দ্রুত অনুমোদন ও বাস্তবায়ন প্রয়োজন। নতুন প্রকল্প তৈরি করে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের লক্ষ্যে জরুরি ভিত্তিতে কর্মসূচি নিতে তা বাস্তবায়ন প্রয়োজন।
৩। ডাইক বাঁধ মেরামতের জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার লক্ষ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর সহায়তায় নেওয়ার প্রয়োজন। তাই সেনাবাহিনীর সহায়তায় দ্রুত ডাইক বাঁধ মেরামত করার দাবি জানাচ্ছি। সুরমা ও কুশিয়ারা সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় বিশেষ অগ্রাধিকার এবং উন্নত কারিগরী ও বাস্তবায়ন পদ্ধতি না নিলে সীমান্ত পরিবর্তনের ঝুঁকি থাকবে।
৪। গরিব ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য জরুরি ভিত্তিতে দুর্গত এলাকাগুলোতে সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ব্যাপক সম্প্রসারণ প্রয়োজন। কমপক্ষে সিলেট বিভাগের নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে ১০ লাখ নতুন উপকার ভোগী চিহ্নিত করে সেবা সম্প্রসারণ প্রয়োজন। এছাড়া বাড়িঘর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের ঘর তৈরির জন্য জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতে হবে।
৫। সিলেটের বিভিন্ন নদীকে নিয়মিত খননের মাধ্যমে নদীর নাব্যতা রক্ষা করা জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজন।
৬। নদীর অবৈধ দখল, বালু উত্তোলন ও পরিবেশ দূষণ জরুরিভিত্তিতে ঠেকাতে হবে।
৭। হাওর অঞ্চলের সুপরিকল্পিত উন্নয়নের লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিতে হবে।
৮। বছরের বাকি সময়ে ধানের বীজ ও চারা, শাক-সবজির বীজ, মাছের পোনা, গবাদি পশু এবং ছাগল ও হাঁস মুরগির ছানা সরবরাহ করে কৃষি পূর্ণবাসন কার্যক্রমকে শক্তিশালী করতে হবে।
৯। কার্যক্রম বাস্তবায়নে স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করতে হবে, যেন মান ও তদারকি নিশ্চিত করা যায়।
১০। কৃষিঋণের কিস্তি কমপক্ষে ১ বছরের জন্য আদায় স্থগিত রাখা।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সিলেট বিভাগ যোগাযোগ ও উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি ড. আহমদ আল কবির ও সাধারণ সম্পাদক মো. কুতুব উদ্দিন সোহেল।

এমআইএস/এমএএইচ/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]