১৫ জুন শুরু জনশুমারি, নেওয়া হবে বিদেশিদের তথ্যও

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:১৬ পিএম, ২৫ মে ২০২২

কয়েক দফা তারিখ পরিবর্তনের পর আগামী ১৫ জুন থেকে শুরু হবে জনশুমারি। দেশব্যাপী এ কার্যক্রম চলবে ২১ জুন পর্যন্ত। তথ্য সংগ্রহে তিন লাখ ৯৫ হাজার ট্যাবলেট ব্যবহার করা হবে। জনশুমারি আগের ১০ জুন শুক্রবার ও ১৭ জুন শুক্রবার জুমার খুতবায় প্রচার ও প্রচারণা চালানো হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিদের তথ্য নেওয়া হবে।

বুধবার (২৫ মে) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) ‘জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২’ এর মাস্টার ট্রেইনারদের চার দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালায় এসব কথা জানান প্রকল্পটির পরিচালক (উপ-সচিব) মো. দিলদার হোসেন।

তিনি আরও বলেন, জুমার খুতবায় জনশুমারির প্রচার করা হবে। এছাড়া সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে প্রচার-প্রচারণা চালানো হবে। জনশুমারিতে বাংলাদেশে অবস্থানরত সব নাগরিকের তথ্য নেওয়া হবে। পাশাপাশি দেশে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিদের তথ্য নেওয়া হবে।

দিলদার হোসেন বলেন, জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এর মাধ্যমে বাংলাদেশের ভৌগোলিক সীমানাবেষ্টিত অঞ্চলের সব গৃহ, সাধারণ, প্রাতিষ্ঠানিক ও বস্তি খানা (পরিবার), ভাসমান জনগোষ্ঠী, খানায় বসবাসরত সকল সদস্যের জনমিতিক ও আর্থ-সামাজিক তথ্য তুলে আনা হবে। যেমন গৃহের সংখ্যা ও ধরন, বাসস্থানের মালিকানা, খাবার পানির প্রধান উৎস, টয়লেটের সুবিধা, বিদ্যুৎ সুবিধা, রান্নার জ্বালানির প্রধান উৎস, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, বৈদেশিক রেমিট্যান্স, খানা সদস্যের বয়স, লিঙ্গ, বৈবাহিক অবস্থা, ধর্ম, প্রতিবন্ধিতা, শিক্ষা, কর্ম, প্রশিক্ষণ, মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট ব্যবহার, ব্যাংক মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, জাতীয়তা, নিজ জেলা ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হবে।

‘স্বাধীনতা পরবর্তীসময়ে বাংলাদেশ দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় বিভিন্ন চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে বর্তমান ডিজিটাল বাংলাদেশে রূপান্তরিত হচ্ছে। উন্নয়নের মহাসড়কে দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলছে। বাংলাদেশ আজ বিশ্ব দরবারে উন্নয়নের রোল মডেল। করোনা মহামারিতে বিপর্যস্ত বিশ্বকে ঘুরে দাঁড়িয়ে পুনরায় অর্থনীতির চাকা সচল করার বিষয়ে তথ্য প্রযুক্তির ভূমিকা অনস্বীকার্য। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন ডিজিটাল উদ্যোগ মানুষকে দেখিয়েছে নতুন পথ, জুগিয়েছে প্রেরণা। সময় ও যুগের চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে সময়োপযোগী, নির্ভুল তথ্য দেওয়া এবং সরকার ঘোষিত ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ বিনির্মাণে অবদান রাখার অভিপ্রায়ে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রথম ‘ডিজিটাল শুমারি’ পরিচালনার উদ্যোগ নিয়েছে।’

দিলদার হোসেন, স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম জনশুমারি অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭৪ সালে। দ্বিতীয় জনশুমারি ও গৃহগণনা অনুষ্ঠিত হয় ১৯৮১ সালে। দশ বছর পর্যাবৃত্তি অনুসরণপূর্বক দেশের তৃতীয়য়, চতুর্থ ও পঞ্চম জনশুমারি ও গৃহগণনা যথাক্রমে ১৯৯১, ২০০১ ও ২০১১ সালে অনুষ্ঠিত হয়। কোভিড-১৯ মহামারির কারণে পৃথিবীর অন্য অনেক দেশের মতো ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনায় ১০ বছর পর্যাবৃত্তি অনুসরণপূর্বক ২০২১ সালে পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি। এজন্য আগামী ১৫ জুন থেকে ২১ জুন জনশুমারির তথ্যসংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। ১৫ জুন রাত ১২টা থেকে ‘শুমারি রেফারেন্স পয়েন্ট/সময়’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) মহাপরিচালক মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রশিক্ষণ কর্মশালায় বক্তব্য রাখেন- অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল, পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সমন্বয় ও সংস্কার বিভাগের সচিব মো. সামসুল আরেফিন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সিনিয়র সচিব এন এম জিয়াউল আলম, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব ড. শাহনাজ আরেফিন। এছাড়া বক্তব্য রাখেন জনশুমারি ও গৃহগণনা প্রকল্পের টেকনিক্যাল টিমের প্রধান ড. দিপংকর রায়।

এমওএস/আরএডি/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]