জিরো টলারেন্স নীতির জন্য হাসিনাকে আসামের মুখ্যমন্ত্রীর ধন্যবাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:০০ পিএম, ২৮ মে ২০২২
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন ও মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মা

সন্ত্রাস ও বিদ্রোহ দমনে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স নীতি’র জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ভারতের আসামের মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মা।

শনিবার (২৮ মে) গুয়াহাটির খানাপাড়ার কোনিয়াধারা রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে বৈঠককালে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের উন্নয়ন একে অপরের পরিপূরক। বর্তমানে অনেক ভারতীয় বাংলাদেশে কাজ করছেন এবং বাংলাদেশ ভারতে চতুর্থ বৃহত্তম রেমিট্যান্স প্রেরণকারী দেশ।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ ও ভারত তাদের সেরা সম্পর্ক উপভোগ করছে।

আসাম ও সিলেটের জনগণের মধ্যে ঐতিহ্যবাহী সংযোগের কথা উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, আসাম তাদের পণ্যের বাজার এবং প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে মানসম্পন্ন পণ্যের উৎস হিসেবে বাংলাদেশের গতিশীল আর্থ-সামাজিক প্রবৃদ্ধির সুবিধা নিতে পারে।

তিনি দু’দেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধি ও পর্যটন প্রসারের ওপর জোর দেন। তিনি পরামর্শ দেন, নৌপথ দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধিতে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে।

এসময় ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, আসাম ব্যবসা-বাণিজ্য, যোগাযোগ ও সংস্কৃতিক কার্যক্রমের মাধ্যমে দু’দেশের জনগণের অভিন্ন স্বার্থে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে আগ্রহী।

তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল ও দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সম্প্রতিক গতিশীলতার ভূয়সী প্রশংসা করেন।

মুখ্যমন্ত্রী কোভিড-১৯ মহামারিকালে বাংলাদেশ সরকারের সাফল্যের প্রশংসা করেন। ব্রিটিশ আমলে বন্দর নগরী চট্টগ্রামের সঙ্গে রেলপথে বাণিজ্যের গুরত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা স্মরণ করেন।

শান্তি ও স্থিতিশীলতা তার রাজ্যে উন্নয়ন প্রক্রিয়ার মূল কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, আসাম উন্নত চিকিৎসা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে এগিয়ে যাচ্ছে। রাজ্যটি বাংলাদেশি জনগণের চিকিৎসা ও শিক্ষার অন্যতম গন্তব্য হতে পারে।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও আসামের মুখ্যমন্ত্রী দু’দেশের মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্ক নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং তারা আশা করেন আগামী ৫০ বছরে এই সম্পর্ক আরও জোরদার হবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় আসামে আশ্রয় নেন উল্লেখ করে বলেন, আসাম ও ভারত তার হৃদয়ে একটি বিশেষ স্থান দখল করে আছে।

তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী ভারতীয়দের পরিবারের সদস্যদের জন্য ২০০ বৃত্তি প্রদানের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।

ড. মোমেন ২০২১ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের অনুষ্ঠানে যোগদান উপলক্ষে ভারতের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরের কথা স্মরণ করেন।

তিনি আসামের মুখ্যমন্ত্রী আয়োজিত নৈশ্যভোজে অংশ নেন। এতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর ও আসিয়ান দেশগুলোর রাষ্ট্রদূতসহ ভারতের কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের বেশ কয়েকজন মন্ত্রীও অংশগ্রহণ করেন।

ড. মোমেন ২৮ ও ২৯ মে আয়োজিত ন্যাচারাল অ্যালাইস ইন ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ইন্ডিপেন্ডেন্স’র (এনএডিআই) তৃতীয় সংস্করণে যোগ দিতে শুক্রবার (২৭ মে) গৌহাটি পৌঁছান।

ইএ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]