জাতিসংঘ সদর দপ্তরসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে বাংলাদেশ পুলিশের সদস্যরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২:৩৫ পিএম, ২৯ মে ২০২২

‘জনগণের অংশীদারত্বেই শান্তি ও সমৃদ্ধি’ প্রতিপাদ্যে রোববার (২৯ মে) অনুষ্ঠিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস-২০২২। বাংলাদেশ পুলিশের সদস্যরা ১৯৮৯ সাল থেকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত।

নিরাপত্তা ও চিকিৎসা সেবাসহ নানান সেবামূলক কাজ করছেন বাংলাদেশ। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনেকেই মৃত্যুবরণ করেছেন। আবার পুরুষের পাশাপাশি বাংলাদেশ পুলিশের নারী সদস্যরাও বেশ কদিন ধরে শান্তিরক্ষা মিশনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন।

নারীরা এরই মধ্যে আসীন হয়েছেন বাহিনীটির বিভিন্ন উচ্চপদে। নেতৃত্ব দিচ্ছেন বেশ কয়েকটি ইউনিটের। বোমা ফাটার শব্দ কিংবা অস্ত্রের ঝনঝনানিতেও তারা অকুতোভয়। কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশগুলোতে অংশ নিচ্ছেন জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী মিশনে।

পুলিশ সদর দপ্তর জানায়, বিশ্বের ২১টি দেশের ২২টি মিশনে মোট ২০ হাজার ৭৯৪ জন শান্তিরক্ষী অংশ নিয়েছেন। এখন চারটি দেশে চারটি মিশনে বাংলাদেশ পুলিশের ৪৯৯ জন সদস্য নিয়োজিত। এর বাইরে জাতিসংঘ লগবেইজ, বিরিন্দিসি, ইতালিতে একজন ও জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আছেন আরও একজন।

Bd-Police3.jpg

বাংলাদেশ পুলিশের ৫ জন নারী পুলিশ কর্মকর্তা সিভিলিয়ান পুলিশ অফিসার হিসেবে প্রথম ২০০০ সালে পূর্ব তিমুর মিশনে যোগ দেন। ২০১০ সালে মধ্য আমেরিকার দেশ হাইতিতে এমআইএনইউএসটিএএইচ মিশনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বর্তমানে অতিরিক্ত ডিআইজি) রখফার সুলতানা খানমের নেতৃত্বে বাংলাদেশ পুলিশের প্রথম অল ফিমেল ফর্মড পুলিশ ইউনিট (এফপিইউ) যোগদান করে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশ পুলিশের নবদিগন্তের সূচনা করে।

হাইতি মিশনে নিয়োজিত প্রথম নারী ফর্মড পুলিশ ইউনিটটি ২০১৭ সালের জুলাইতে দেশে ফেরে। সুদানে ২০০৮ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ইউএনএএমআইডি মিশন সমাপ্ত হওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছে আরেকটি ইউনিট। আবার একটি নারী ফর্মড পুলিশ ইউনিট কঙ্গোতে ২০১১ সাল থেকে দায়িত্ব পালন করে চলেছে।

এখন পর্যন্ত শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বাংলাদেশ পুলিশের ২১ জন সদস্য মারা গেছেন। আহত হয়েছেন ১২ জন। ২০১৯ সালে কঙ্গো মিশন পরিদর্শনকালে অ্যাডিশনাল আইজি রওশন আরা বেগম মৃত্যুবরণ করেন।

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে আরও জানা যায়, বর্তমানে পুলিশের ফর্মড পুলিশ ইউনিটের ৩টি এফপিইউ, আইপি ও প্রফেশনাল লেভেলসহ মোট ৫০১ জন পুলিশ সদস্য শান্তিরক্ষী হিসেবে কর্মরত। এর মধ্যে ১৪৮ জন নারী পুলিশ সদস্য নিয়োজিত। যা মোট শান্তিরক্ষীর প্রায় ৩০ ভাগ।

সেন্ট্রাল আফ্রিকান মিশন ও মালিতে প্রথমবারের মতো দুজন করে মোট চারজনকে আইপিও হিসেবে পাঠানো হয়। বাংলাদেশ পুলিশের সদস্যরা ফেনকোফোন মিশনে ইনডিভিজুয়াল পুলিশ অফিসার হিসেবে নিয়োজিত। এর মধ্যে মালিতে দুই, সেন্ট্রাল আফ্রিকায় দুই এবং কঙ্গোদে তিন নারী শান্তিরক্ষীসহ মোট ১০ জন কর্মরত।

Bd-Police3.jpg

পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া আ্যন্ড প্ল্যানিং) মো. কামরুজ্জামান বলেন, দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনেও উজ্জ্বল ভূমিকায় কাজ করছে পুলিশ সদস্যরা। বাংলাদেশ পুলিশ থেকেই প্রথম এফপিইউ ফর্মড পুলিশ নারী পুলিশ সদস্য গেছেন। বাংলাদেশ পুলিশ থেকে প্রথম নারী কন্টিনজেন্ট গেছেন। কঙ্গোতে বাংলাদেশ নারী পুলিশ সদস্যদের একটি আলাদা কন্টিনজেন্ট রয়েছে।

তিনি বলনে, বর্তমানে জাতিসংঘ সদর দপ্তর, নিউইয়র্কে অ্যাডিশনাল ডিআইজি মোহাম্মদ আশফাকুল আলম ও জাতিসংঘ লগবেজ, বিরিন্দিসি, ইতালিতে পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার প্রফেশনাল জবে নিয়োজিত। বিশ্বের ২১টি দেশের ২২টি মিশনে মোট ২০ হাজার ৭৯৪ জন শান্তিরক্ষী অংশ নিয়েছেন। এখন ৪টি দেশে ৪টি মিশনে বাংলাদেশ পুলিশের ৪৯৯ জন সদস্য নিয়োজিত।

বাংলাদেশ পুলিশের স্পেশাল ব্র্যাঞ্চের (পাসপোর্ট) বিশেষ পুলিশ সুপার ফরিদা ইয়াসমিন জাগো নিউজকে বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনেও নারী সদস্যদের সংখ্যাটাও বেড়েছে। এটি নিঃসন্দেহে পজিটিভ একটি বিষয়। জাতিসংঘে ২০০০ সাল থেকে পুরুষের পাশাপাশি নারীদের কাজের সুযোগ হয়।

এরপর ২০১০ সাল থেকে সম্পূর্ণ কন্টিনেন্টে বাংলাদেশ পুলিশের নারী সদস্যরা জাতিসংঘে যাওয়া শুরু করেন। জাতিসংঘ মিশনে কাজ করতে গেলে ভাষাগত সমস্যা, আবহাওয়া, আলাদা সংস্কৃতি ও আলাদা পরিবেশের চ্যালেঞ্জ থাকে। এর মধ্যেও আমাদের মানিয়ে নিয়ে কাজ করতে হয়। নিজের দেশের পতাকার মান অক্ষুণ্ন রাখতে মর্যাদার সঙ্গে জাতিসংঘে আমাদের দেশের নারীরা কাজ করে চলেছেন।

টিটি/এমআরএম/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]