মায়ের সঙ্গে ছোটাছুটি-লুটোপুটিতে বেড়ে উঠছে বাঘ শাবক দুটি

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:৪২ পিএম, ১৪ জুন ২০২২

কখনো একদম গ্রিলঘেঁষে দাঁড়ায় ওরা। অপলক চোখে তাকিয়ে দেখে দর্শনার্থীদের। পরক্ষণে খাঁচার ভেতরে ছোটাছুটি করে। একজন অন্যজনের ঘাড়ে উঠছে। হঠাৎ ছুটছে মায়ের কোলে। কখনো মায়ের পিঠে চড়ে বসছে, আবার কখনো ওরা লুটোপুটিতে ব্যস্ত। ক্ষুধা লাগলেই মায়ের দুধ খাচ্ছে বাঘ শাবক দুটি। তবে মায়ের সঙ্গে খাঁচার ভেতরে রাখা মাংস ছিঁড়ে খাওয়ার চেষ্টাও করছে ওরা।

এ দৃশ্য মিরপুরে জাতীয় চিড়িয়াখানার। দুই মাস ১০ দিন বয়সী বাঘ শাবক দুটি দিনভর ব্যস্ত থাকে মায়ের সঙ্গে খুনসুটিতে। নিরাপত্তার কারণে ওদের বাবাকে রাখা হয়েছে পাশের খাঁচায়। ফলে বেলির একক সংসারে বেড়ে উঠছে দুই শাবক, যার মধ্যে একটি শাবক সাদা। এটি বিরল প্রজাতির বলে জানা গেছে।

jagonews24

চিড়িয়াখানা সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ এপ্রিল টগর-বেলি দম্পতির ঘরে আসে নতুন দুই অতিথি। এনিয়ে তৃতীয়বারের মতো এ দম্পতির প্রজনন হয়েছে। দুই শাবক জন্মের পর ওদের বাবা টগরকে পাশেই পৃথক খাঁচায় রাখা হয়। শাবক দুটি রয়েছে মায়ের সঙ্গে এক খাঁচায়। ছয়মাস বয়স পর্যন্ত ওদেরকে রাখা হবে মা বেলির খাঁচায়। দিনভর ছোটাছুটি-লুটোপুটি করে দিন কাটছে ওদের।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দর্শনার্থী দেখলেই বাঘ শাবক দুটি ভয় পায়। এজন্য ওদের খাঁচার কাছাকাছি দর্শনার্থীদের যেতে দেওয়া হচ্ছে না। অন্তত ছয়মাস পর ওদেরকে খাঁচার কাছে গিয়ে দেখতে পারবেন দর্শনার্থীরা।

jagonews24

চিড়িয়াখানার কিউরেটর মো. মুজিবুর রহমান মঙ্গলবার জাগো নিউজকে বলেন, ‘এখনো পর্যন্ত শাবক দুটি ভালো আছে। ২১ দিন পর পর ওদের রক্ত পরীক্ষা করা হচ্ছে। ওদের সুস্থতা নিশ্চিতে বাড়তি পরিচর্যার ব্যবস্থা করা হয়েছে। শাবক দুটিকে দেখলে আমাদেরও ভালো লাগে। নিজেদের সন্তানের মতো পরম যত্নে ওদের রাখার চেষ্টা করছি।’

তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত শাবক দুটি ছেলে না মেয়ে, তা শনাক্ত করা যায়নি। ছয়মাস বয়স হলে এটি করা হবে। ওদের মায়ের সঙ্গে রাখা হয়েছে। ওই খাঁচায় সিসিটিভি বসানো হয়েছে। কিছুক্ষণ পরপর ওদের খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।’

jagonews24

শাবক দুটি সুস্থভাবে বেড়ে উঠবে এবং দর্শনার্থীদের আকর্ষণ বাড়াবে এমনটাই প্রত্যাশা চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের।

এমএইচএম/এএএইচ/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।