‘দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনৈতিক হাব তৈরি করবে পদ্মা সেতু’

সায়েম সাবু
সায়েম সাবু সায়েম সাবু , জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১:৪০ পিএম, ২২ জুন ২০২২

আমির হোসেন আমু। জন্ম, ১৯৪০ সালে ঝালকাঠি জেলায়। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বর্ষিয়ান রাজনীতিবিদ, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য। সাবেক মন্ত্রী। বঙ্গবন্ধুর অন্যতম রাজনৈতিক সহচর।

স্বপ্নের পদ্মা সেতু উদ্বোধন উপলক্ষে অনুভূতি প্রকাশ করেন জাগো নিউজের কাছে। বলেন, পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়নের মধ্যে দিয়েই বাংলাদেশের আত্মমর্যাদা বেড়ে গেছে বহুগুণ। বাংলাদেশ এখন আরও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার সক্ষমতা অর্জন করেছে বলে মন্তব্য করেন।

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক সায়েম সাবু

জাগো নিউজ: বাংলাদেশ সৃষ্টির পর নিজেদের অর্থে সবচেয়ে বড় প্রকল্পের বাস্তবায়ন ‘পদ্মা সেতু’। আপনি দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ। এই সেতুর সঙ্গে অবশ্যই আবেগ-অনুভূতি মিশে আছে?

আমির হোসেন আমু: দক্ষিণাঞ্চল এক সময় অবহেলিত ছিল। সত্য কথা বলতে কী, এক সময় এ অঞ্চলে অবকাঠামোগত উন্নয়নই ছিল না। দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলোর রাস্তাঘাট, সেতু ছিল না বললেই চলে।

১৯৯৬ সালে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর থেকেই এ অঞ্চলে তিনি নজর দিয়েছেন। বরিশাল থেকে পটুয়াখালী যেতে এক সময় চার-পাঁচ ঘণ্টা লাগতো। ফেরিতে করে নদী পার হতে হতো। আজ সব কয়টি নদীতে সেতু করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এখন বরিশাল থেকে কুয়াকাটা যেতে সর্বোচ্চ তিন ঘণ্টা সময় লাগে।

শেখ হাসিনার সরকারের উন্নয়নের এটিই হচ্ছে বাস্তবতা। বরিশাল থেকে মাওয়া যেতে শিকারপুর, দোয়ারিকায় ফেরি পার হতে হতো। ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর তিনি সেতু করে দিয়েছেন এই দুই জায়গায়। বরিশাল কীর্তনখোলার ওপর সেতু করে দিয়েছেন। পদ্মা সেতু হওয়ার আগেই এই সেতুগুলো সম্পন্ন হয়েছিল। কিন্তু পদ্মা সেতুর কারণে আমাদের কাছে দূরত্ব রয়েই গিয়েছিল।

পদ্মা সেতুর আগে সাধারণ মানুষের অভিব্যক্তি আপনারাও জেনেছেন। একজন সন্তান তার অসুস্থ মাকে নিয়ে সময়মতো ঢাকায় চিকিৎসার জন্য নিয়ে যেতে পারতো না। ফেরি না পাওয়ার কারণে মুমূর্ষ রোগীর মৃত্যুও ঘটেছে। সময়ক্ষেপণের কারণে অনেকেই পরীক্ষায় অংশ নিতে পারতো না। ফেরির কারণে এ অঞ্চলের মানুষ নানান সমস্যায় জর্জরিত ছিল।

পদ্মা সেতু আমাদের জন্য কখনই বিলাসী ভাবনা ছিল না। এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল। এই সেতু নির্মাণের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। একই সঙ্গে তিনি গোটা বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন নিজস্ব অর্থায়নে এর বাস্তবায়ন করে। বাংলাদেশের পরিচয় মিলতো অভাব, রোগ, দুর্যোগ আর বন্যার মাধ্যমে। এমন একটি দেশে পদ্মা সেতুর মতো প্রকল্প করা চারটিখানি কথা নয়। এটি একটি আধুনিক মানের সেতু। ভূমিকম্পে সহনীয় মাত্রা রিখটার স্কেলে ৯। এটি পৃথিবীর অন্যতম একটি প্রকল্প। যে কারণে ব্যয়ও বেশি হয়েছে। আমি মনে করি পদ্মা সেতু বিশ্বের বুকে একটি নিদর্শন তৈরি করেছে।

পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া ব্রিজ নিয়ে নানা গল্প আছে। এমন গল্প এখন পদ্মা সেতু নিয়েও তৈরি হচ্ছে।

এ প্রকল্পের কারণে গোটা দেশ অর্থনৈতিকভাবে অনেক এগিয়ে যাবে। পদ্মা সেতু আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়নের প্রতীক বলে মনে করি। আর সহজ কথায় যদি বলি, এই সেতু ফলে দক্ষিণাঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক হাব তৈরি হবে। এখানে মানুষ এখন বিনিয়োগ করতে আসবে। এটি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত কল্যাণকর একটি অবকাঠামো।

জাগো নিউজ: আপনি বঙ্গবন্ধুর সহচর্যে ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে পদ্মা পাড়ি দিয়ে রাজনীতি করেছেন। বঙ্গবন্ধুকেও স্মরণ করবেন এমন আবেগে।

আমির হোসেন আমু: বঙ্গবন্ধুর একজন কর্মী হিসেবে আমি মনে করি, গোটা জাতি তার ওপরে আস্থা ও বিশ্বাস রেখেই মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিল। স্বাধীনতার পর তিনি সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন। মানুষ বঙ্গবন্ধুর ওপর আস্থা রেখে যে ভুল করেননি, তার প্রমাণ দিচ্ছেন তারই সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্ব পেয়েও যেমন আমি বড় তৃপ্ত তেমনি শেখ হাসিনার নেতৃত্বেও। বঙ্গবন্ধুর হাত ধরে যেমন মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেছি, তেমনি বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নে সাক্ষর রেখেছি। আওয়ামী লীগের প্রতিটি আন্দোলনে শরিক থেকেছি, শেখ হাসিনার উন্নয়নে অংশ নিয়েছি। এটিই আমার পরম পাওয়া। এই সার্থকতার পথ ধরেই পদ্মা সেতুর জয়গান গাওয়ার সৌভাগ্য হয়েছে।

বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল পৃথিবীর বুকে বাঙালি একটি আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসেবে দাঁড়াবে। আজ বাংলাদেশের মর্যাদা বহুগুণ বাড়িয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

জাগো নিউজ: দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের উচ্ছ্বাস কীভাবে ধারণ করছেন?

আমির হোসেন আমু: সাধারণ মানুষের উচ্ছ্বাস মানেই আমাদের উচ্ছ্বাস। রাজনীতি সাধারণ মানুষের জন্যই। আমরা প্রতিনিয়ত গণমাধ্যম, সামাজিক মাধ্যমে মানুষের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করার বিষয়টি লক্ষ্য করছি। এটি আমাকে আপ্লুত করছে।

এই সেতু সাধারণ মানুষের কাছে অপ্রত্যাশিত প্রাপ্তি। আজ থেকে ২০ বছর আগেও তারা হয়তো এই সেতু নিয়ে কল্পনা করেনি। আজ বাস্তবে রূপ পেয়েছে। এটি গোটা দেশকেই শুধু যুক্ত করবে না, দক্ষিণ এশিয়ার ইকোনমিক্যাল হাব তৈরি করবে পদ্মা সেতু।

জাগো নিউজ: সক্ষমতার প্রশ্নে নতুন চ্যালেঞ্জও তৈরি করবে এ প্রকল্প?

আমির হোসেন আমু: আমরা চ্যালেঞ্জ নিয়েই এগিয়ে যাচ্ছি। প্রতিটি প্রকল্পই চ্যালেঞ্জ নিয়ে গ্রহণ করা হয়। নিজেদের টাকায় সর্ববৃহৎ প্রকল্প তৈরি করে আমরা আরও চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করার সক্ষমতা অর্জন করেছি বলে মনে করি।

সিদ্ধান্ত গ্রহণের ব্যাপকতা আরও বাড়বে সরকারের নেওয়া মেগা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে। আমরা উন্নত দেশে পরিণত হওয়ার দ্বারপ্রান্তে। আমরা যে পথে হাঁটছি তা টেকসই পথ। এখান থেকে সটকে পড়ার সুযোগ নেই।

এএসএস/এএসএ/এমএস

পদ্মা সেতু আমাদের জন্য কখনই বিলাসী ভাবনা ছিল না। এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল। এই সেতু নির্মাণের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

এই প্রকল্পের কারণে গোটা দেশ অর্থনৈতিকভাবে অনেক এগিয়ে যাবে। পদ্মা সেতু আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়নের প্রতীক বলে মনে করি। আর সহজ কথায় যদি বলি, এই সেতু দক্ষিণাঞ্চল গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক হাব তৈরি হবে।

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]