বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কমাতে প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণে গুরুত্বারোপ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:৪১ পিএম, ২৩ জুন ২০২২

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেশে বন্যার তীব্রতা বেড়ে গেছে। এ অবস্থায় দেশ এবং জনগণকে রক্ষায় হাওর-বাঁওর, নদী-খাল, জলাশয়-জলাভূমিসহ প্রাকৃতিক জল ধারণ এলাকা সংরক্ষণে গুরুত্বারোপ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুন) ‘ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট’ আয়োজিত এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় বক্তারা এ অভিমত দেন। ‘বন্যা পরিস্থিতি: নদী খাল ও জলাধার সংরক্ষণের গুরুত্ব ও করণীয়’ শীর্ষক এ আলোচনা সঞ্চালনা করেন ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্টের প্রজেক্ট ম্যানেজার নাঈমা আকতার।

আলোচনা সভায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ মাকসুদ হাসেম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বন্যার তীব্রতা বেড়ে গেছে। প্লাবনভূমিতে অপরিকল্পিত উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন না হলে বন্যার ভয়াবহতা এতটা হতো না। কোনো ধরনের উন্নয়ন কার্যক্রমে যেন প্লাবনভূমি নষ্ট না হয়, সে বিষয়টি নীতিমালার মাধ্যমে নিশ্চিত করা প্রয়োজন। কৃত্রিম ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আমাদের বন্যা-জলাবদ্ধতা ও জনদুর্ভোগ থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব নয়।

নগর গবেষণা কেন্দ্রের সেক্রেটারি সালমা এ সাফি বলেন, যেকোনো প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে তার প্রভাব যাচাই করা অপরিহার্য। শুধুমাত্র প্রকল্প বাস্তবায়ন না করে পর্যাপ্ত গবেষণা ও ইমপ্যাক্ট স্টাডির মাধ্যমে পদক্ষেপ নেওয়া হলে অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাবকে অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।

বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কমাতে প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণে গুরুত্বারোপ

অনুষ্ঠানে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপডক ড. আকতার মাহমুদ বলেন, ভূমির ব্যবহার পরিবর্তন হওয়ার সঙ্গে নিম্নাঞ্চল ও কৃষিজমিতে বসতবাড়ি, সড়ক ও অন্যান্য অবকাঠামো গড়ে উঠছে। সড়কগুলো আমাদের বন্যার পানি সরে যাওয়ার ক্ষেত্রে বড় বাধা। প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় অনেকেই সাময়িক আর্থিকভাবে উপকৃত হলেও দীর্ঘমেয়াদে জনজীবন ও প্রকৃতির ক্ষতি হয়।

ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্টের পরিচালক গাউস পিয়ারী বলেন, ব্যবহৃত প্লাস্টিক, পলিথিন, প্লাস্টিকের বোতল, মোড়ক যত্রতত্র ফেলা জলাবদ্ধতার একটি বড় কারণ। আইনের শাসনের অভাবে সারাদেশেই নদী দখল, জলাশয়-জলাভূমি ভরাট চলছে। নাব্য সংকটের কারণে নদীগুলোর পানিধারণ ক্ষমতা কমে গেছে। আইনের প্রয়োগের মাধ্যমে আমাদের মৃতপ্রায় নদী-খাল-জলাধার পুনরুদ্ধারে সচেষ্ট হতে হবে।

বর্তমানে সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতির কারণে জনজীবনে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। এ ভয়াবহ বন্যার পেছনে বাংলাদেশসহ ভারতের আসাম, মেঘালয়ের অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত যেমন দায়ী তেমনি আমাদের প্রাকৃতিক হাওর-বাঁওড়, নদ-নদীসহ বিভিন্ন জলাশয়-জলাভূমি অবাধে ধ্বংস করে ফেলাকেও দায়ী করেন বিশেষজ্ঞরা।

এইচএআর/কেএসআর/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]