বাংলাদেশে ‘ইইউ চেম্বার অব কমার্স’ প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:১১ এএম, ২৪ জুন ২০২২
সপ্তম ইইউ-বাংলাদেশ বিজনেস ক্লাইমেট সংলাপ

বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার লক্ষ্যে শিগগির ‘ইইউ-বাংলাদেশ মিনিং বিজনেস’ অনুষ্ঠিত হবে। এর লক্ষ্য হলো- ইইউ’র সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বাংলাদেশ ও ইউরোপের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা পারস্পরিকভাবে লাভজনক হতে পারে এমন সম্ভাবনাময় বাণিজ্যিক খাতগুলোকে তুলে ধরা।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুন) ঢাকায় সপ্তম ইইউ-বাংলাদেশ বিজনেস ক্লাইমেট সংলাপের পর এক যৌথ বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশে একটি ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) চেম্বার অব কমার্স-ইউরোচাম প্রতিষ্ঠা করা হবে।

এর লক্ষ্য বাংলাদেশি ও ইইউ’র বেসরকারি খাতের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করা এবং বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সুষ্ঠু ও টেকসই ব্যবসায়িক সম্পর্কের কল্যাণে ইউরোপের বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বাংলাদেশি সরকারি ও বেসরকারি খাতের সংযোগকারী উৎকর্ষ কেন্দ্র হিসেবে কাজ করা।

এটি ইবিএ-পরবর্তী বাণিজ্যে বাংলাদেশের উত্তরণ সুগম করতেও সাহায্য করবে।

২০১৬ সালের মে মাসে প্রতিষ্ঠার পর এটি ইইউ-বাংলাদেশ বিজনেস ক্লাইমেট ডায়ালগের সপ্তম পূর্ণাঙ্গ বৈঠক। বিজনেস ক্লাইমেট ডায়ালগের লক্ষ্য হলো যৌথভাবে বাংলাদেশের এক নম্বর বাণিজ্য অংশীদার এবং বাংলাদেশে এফডিআইয়ের দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎস ইইউ থেকে বাণিজ্য সহজতর করা।

২০২১ সালে ইইউতে বাংলাদেশের রপ্তানির পরিমাণ ছিল প্রায় ১৬ বিলিয়ন ইউরো। অন্যদিকে বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রপ্তানি ছিল ৩ বিলিয়ন ইউরো।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. তপন কান্তি ঘোষ এবং ইইউ রাষ্ট্রদূত চার্লস হোয়াইটলির সভাপতিত্বে ডায়লগে ডেনমার্ক, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, স্পেন ও সুইডেনের ইইউ কূটনৈতিক মিশনের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থার পাশাপাশি ইইউ বেসরকারি খাতের কয়েকজন প্রতিনিধি এতে অংশ নেন।

উভয়পক্ষ ট্যাক্স ও কাস্টমস, শিপিং ও লজিস্টিকস ও সবুজ ব্যবসা- এই তিনটি অগ্রাধিকার ক্ষেত্রে আলোচনায় অংশ নেয় এবং কিছু পদক্ষেপ গ্রহণে সম্মত হয়।

উভয়পক্ষই এক্সপ্রেস ও নন-এক্সপ্রেস এয়ার কার্গো উভয়ের কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স প্রক্রিয়া সহজ করার চ্যালেঞ্জ ও সুযোগ পরীক্ষা করতে কর ও কাস্টমসের অধীনে একটি যৌথ কমিটির বিষয়ে সম্মত হয়েছে।

শিপিং ও লজিস্টিকসের ক্ষেত্রে পণ্যসম্ভার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বন্দরে স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি উন্নয়নের লক্ষ্যে ইইউয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যের বৃহত্তম প্রবেশদ্বার চট্টগ্রাম বন্দর চত্বর থেকে অব্যবহাযোগ্য কনটেইনার অপসারণ ত্বরান্বিত করতেও সম্মত হয়েছে তারা।

এছাড়া রেল ও নদী টার্মিনালের মধ্যে খালি কনটেইনার বিনিময় অনুমোদন দেওয়া হবে বলে জানানো হয়।

jagonews24

কয়েক মাস আগে দেওয়া ইইউর প্রস্তাব অনুযায়ী বাংলাদেশের লজিস্টিক খাতে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) ব্যয় ও সুবিধা মূল্যায়ন করতে একটি জরিপ পরিচালনা করতে সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ।

‘সবুজ ব্যবসায়িক অনুশীলন’ বিজনেস ক্লাইমেট সংলাপে একটি নতুন বিষয়, যার অধীনে ইইউ পক্ষ ইউরোপে আসন্ন সাপ্লাই চেইন সুরক্ষায় যথাযথ প্রয়াসের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে বাংলাদেশ সরকারকে অবহিত করে এবং বাংলাদেশি রপ্তানির এক নম্বর বাজার ইইউ’র সঙ্গে সাবলীল বাণিজ্য নিশ্চিত করতে অভিযোজনমূলক পদক্ষেপ উতৎসাহিত করে।

পরিশেষে, মিশন প্রধানগণ বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক উন্নয়নে গঠনমূলকভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। পরে ২০২৩ সালের প্রথমার্ধ্বে পরবর্তী পূর্ণাঙ্গ বৈঠকের সময় নির্ধারণ করা হয়।

আইএইচআর/ইএ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]