হাজারো বাইকপ্রেমীর পদচারণায় মুখর আইসিসিবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২:৩৫ এএম, ২৫ জুন ২০২২

কুড়িল থেকেই রাস্তার একপাশে দেখা মেলে বাইকারদের লম্বা সারি। আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টার, বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) ঢুকতে টিকিট কাউন্টারেও দেখা যায় লম্বা লাইন। টিকিট নিয়ে সবাই ঢুকে পড়ছেন বাইকারদের সবচেয়ে বড় মেলায়। দল বেঁধে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে বাইকাররা ছুটে এসেছেন তাদের বহুল কাঙ্ক্ষিত প্রদর্শনীতে। করোনা মহামারিতে গত দুই বছর আয়োজন করা সম্ভব হয়নি এ প্রদর্শনীর। তবে এবছর হাজারো বাইকপ্রেমীর পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে আইসিসিবি।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুন) থেকে সেমস গ্লোবাল ইউএসএ’র আয়োজনে শুরু হয়েছে ‘ষষ্ঠ ঢাকা বাইক শো-২০২২’। একই সঙ্গে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ‘১৫তম ঢাকা মোটর শো ২০২২’, ‘পঞ্চম ঢাকা অটোপার্টস শো-২০২২’ এবং ‘চতুর্থ ঢাকা কমার্শিয়াল অটোমোটিভ শো-২০২২’।

(২৫ জুন) শনিবার পর্যন্ত চলবে এসব প্রদর্শনী। এবারের আয়োজনে অংশ নিয়েছে ভারত, মালয়েশিয়াসহ আরও ১৫টি দেশের বিভিন্ন ব্র্যান্ড, ২৮৭টি প্রদর্শক, ৫৩০টি বুথের মাধ্যমে অংশ নিয়েছে।

রাজধানী বারিধারা থেকে শো’তে এসেছেন শামিম হোসাইন। তিনি জাগো ‍নিউজকে বলেন, এত লেটেস্ট বাইক আর কার এক জায়গায় দেখতে পারবো ভাবতেই পারিনি। জমকালো আয়োজন আর সবকিছু টেস্ট করে দেখতে পারছি। এ আয়োজন সত্যিই অসাধারণ।

প্রদর্শনীতে প্রায় ৬ থেকে ৭ জায়গায় রয়েছে হেলমেটের বুথ। গিয়ার এক্স তাদের বুথে সাড়ে ছয় হাজার থেকে ৫৫ হাজার টাকার হেলমেট নিয়ে এসেছে। তাদের এখান থেকে হেলমেট কিনলে থাকছে ১০ শতাংশ ছাড়। এত সুন্দর সব হেলমেট দেখে অভিভূত মিরপুর থেকে আসা তারিখ হাসান।

jagonews24

শো’তে মোটর গেম খেলার আয়োজন করেছে কয়েকটি বুথ। তাদের অন্যতম পেট্রোনাস লুব্রিকান্টস। সারি ধরে সবাই নাম লিখিয়ে গেম খেলছে। এই গেমে প্রথম হয়ে বুথ থেকে অনেকেই জিতে নিচ্ছে বিভিন্ন কোম্পানির টি-শার্টসহ নানা উপহার।

পেট্রোনাস লুব্রিকান্টসের ব্র্যান্ড ম্যানেজার জাকারিয়া খান বলেন, এখানকার প্রধান অংশগ্রহণকারী হচ্ছে বাইক কোম্পানিগুলো। এর সঙ্গে রয়েছে বাইকের অ্যাকসেসরিজ এবং লুব্রিক্যান্টস কোম্পানিগুলো। এছাড়া প্রাইভেটকারের বড় কোম্পাীন যেমন মিৎসুবিশি, হোন্ডা ও টয়োটাসহ একাধিক কোম্পানি অংশগ্রহণ করেছে। এখানে আসার উদ্দেশ্য হচ্ছে, মোটর শো’তে সবসময় হিউজ একটা ক্রাউড তৈরি হয়, যেখানে প্রোডাক্টের প্রদর্শনী ও বিক্রি উভয়ই খুব ভালো হয়। সবমিলিয়ে এ আয়োজন চমৎকার।

রাজধানীর উত্তরা থেকে আসা ইলিয়াছ জানান, প্রিমিয়াম বাইকগুলোতে হিউজ ডিসকাউন্ট থাকে এখানে। আবার এক জায়গায় সবরকম বাইক দেখার জন্যও এই প্রদর্শনী সবার কাছেই কাঙ্ক্ষিত। এছাড়া প্রোডাক্ট কিনলেও অনেক উপহার সামগ্রীও দিচ্ছে।

প্রদর্শনীতে বিভিন্ন কোম্পানি তাদের প্রোডাক্টের জন্য সার্ভিস ডিসকাউন্ট কুপন দিচ্ছে। টয়োটা কোম্পানি তাদের বুথ থেকে দিচ্ছে সার্ভিস ডিসকাউন্ট কুপন। রেজিস্ট্রেশন করার পর ২০ শতাংশ পর্যন্ত সার্ভিস ডিসকাউন্ট কুপন দিচ্ছে তারা।

বাংলাদেশের অটোমাবাইল সেক্টরের সবচেয়ে বড় ইভেন্ট এটা। প্রতিবছর এখানেই এই আয়োজন করা হয়ে থাকে।

সাভার থেকে আসা রফিকুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, চমৎকার স্টান্ট শোর আয়োজন করেছে সুজুকি, একই সঙ্গে ডিজে গানের ব্যবস্থাও করেছে। এছাড়া কেটিএম, হিরোও স্টান্টের আয়োজন করেছে। চারপাশে দর্শকের জটলা। সবমিলিয়ে চমৎকার এ আয়োজনে আসতে পেরে খুবই ভালো লাগছে।

মেলায় স্মার্ট টেকনোলজির বিক্রিয়কর্মীরা জানান, মটো ভ্লগিং করার জন্য তারা অ্যাকশন ক্যামেরা ও এর অ্যাকসেসরিজ প্রদর্শন করছে। তাদের আমদানিকৃত ইনস্টা থ্রি সিক্সটি ব্র্যান্ডের ক্যামেরাগুলো প্রদর্শনী থেকে কিনলে ১০ শতাংশ ছাড় পাওয়া যাবে। একই সঙ্গে থাকছে গিফট সামগ্রী।

jagonews24

মেলায় বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ তাদের বুথে কার রঙ করার জন্য কালার নিয়ে এসেছে। তাদের টেরিটরি ম্যানেজার মো. মাজহারুল হোসাইন জানান, তারা যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে নেক্সা অটোকালার এবং পিপিজি ব্র্যান্ডের কার কালার বাংলাদেশে এনে বাজারজাত করে। ঢাকায় তাদের ডিলার রয়েছে। কার কালার প্রশিক্ষণের জন্য রাজধানীর তেজগাঁওতে তাদের একটি ট্রেনিং সেন্টারও রয়েছে।

প্রদর্শনী আয়োজনের বিষয়ে মেহেরুন এন ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, কোভিড-১৯ মহামারির কারণে ২০২০ ও ২০২১ সালে ঢাকা মোটর শো আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। এই মহামারির কারণে সারাবিশ্বের ইভেন্ট ও এক্সিবিশন সেক্টর ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এবার মহামারির প্রাদুর্ভাব কমে যাওয়ায় আমরা ঘুরে দাঁড়াতে চাইছি এবং আমাদের প্রতিষ্ঠান ‘সেমস গ্লোবাল ইউএসএ’ এবছর প্রতিষ্ঠার ৩০ বছরে পা দিতে যাচ্ছে। তাই আমরা বড় পরিসরে ঢাকা মোটর শো আয়োজন করেছি।

এইচএআর/ইএ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]