কুষ্টিয়া থেকে পদ্মা সেতু দেখতে এসে ফিরে গেলেন তারা

রাসেল মাহমুদ
রাসেল মাহমুদ রাসেল মাহমুদ , নিজস্ব প্রতিবেদক জাজিরা থেকে
প্রকাশিত: ০৯:৪৯ পিএম, ২৫ জুন ২০২২
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থেকে পদ্মা সেতু দেখতে আসেন তারা/ছবি: জাগো নিউজ

স্বপ্নের পদ্মা সেতু উদ্বোধন হলো আজ। বিশ্বের অন্যতম খরস্রোতা নদীর ওপর নির্মিত দেশের প্রথম দোতলা সেতু এটি। পদ্মা সেতু নিয়ে দেশের দক্ষিণাঞ্চল ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের মাঝে বাড়তি আগ্রহ রয়েছে। সেই আগ্রহ থেকে উদ্বোধনের দিনে এ দুই অঞ্চলের বিভিন্ন জেলার মানুষ পদ্মা সেতু দেখতে ছুটে আসেন। তবে আগে থেকেই নির্দেশনা ছিল- কাউকে সেতুতে উঠে হাঁটাহাঁটির সুযোগ দেওয়া হবে না।

ফলে দূর-দূরান্ত থেকে এসেও পদ্মা সেতু না দেখেই ফিরতে হয়েছে অনেককে। কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থেকে পদ্মা সেতু দেখতে আসা তেমনি ১১ জনকে সেতুর জাজিরা প্রান্তের টোল প্লাজার কাছ থেকে ফিরে যেতে হয়েছে।

শনিবার (২৫ জুন) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তের টোলপ্লাজার সামনে তাদের সঙ্গে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। এসময় উদ্বোধনের দিনে পদ্মা সেতু কাছ থেকে দেখতে না পাওয়ায় নিজেদের অসন্তোষের কথা জানান তারা।

দৌলতপুর থেকে আসা শাহাদাত হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ‘সকালে আমরা ১১ জন গাড়িতে কুষ্টিয়া থেকে রওনা করি। সেতু দেখার জন্য প্রথম দিনেই আসলাম। কিন্তু এখানে এসে দেখি সেতুর কাছাকাছি যেতে দিচ্ছে না। এত দূর থেকে দেখতে এসেও কাছে যেতে পারলাম না।’

তিনি বলেন, ‘বেলা ১১টার দিকে সেতুর জাজিরাপ্রান্তের এলাকায় পৌঁছেছি। প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করার পর যখন চলে যান, তারপর টোলপ্লাজার এখানে আসি। দুপুর ২টা থেকে এখানে দাঁড়িয়ে। সামনে আর এগোতে দিচ্ছে না।’

তার সঙ্গে আসা মিজানুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ‘আজকে উদ্বোধন হবে, এ কারণেই মূলত সেতু দেখতে আসা। কাজ ফেলে স্মরণীয় দিনটিতে পদ্মা ব্রিজ দেখতে আসলাম। দূর থেকে একটু-আধটু দেখা যায়। কাছে গিয়ে দেখার কোনো সুযোগ পাইনি।’

এদিকে, পদ্মা সেতু উদ্বোধন উপলক্ষে জনসভার আয়োজন করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। ফলে শনিবার ভোর থেকেই দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে বাসভর্তি হয়ে সমাবেশস্থলে আসেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। এতে মাদারীপুরের শিবচর এলাকার প্রায় অধিকাংশ রাস্তায়ই যানজট দেখা যায়। বাধ্য হয়ে অধিকাংশ মানুষকে কয়েক কিলোমিটার হেঁটে বিভিন্ন গন্তব্যে যেতে হয়েছে। যানজটের কারণে কুষ্টিয়া থেকে আসা ওই ১১ জনকেও প্রায় কয়েক কিলোমিটার হাঁটতে হয়েছে।

jagonews24

এ প্রসঙ্গে দৌলতপুর থেকে আসা মো. ঝন্টু আলী বলেন, ‘সকালে রুটি খেয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়েছি। সকালে রাস্তায় প্রচুর জ্যাম থাকায় ৮-১০ কিলোমিটার হেঁটে আসতে হয়েছে। দুপুরে এখানে এসে এক প্লেট ভাত আর একটু ডাল খেয়েছি। তবে কাছ থেকে সেতু দেখতে পারিনি। অন্য রাস্তা দিয়ে গিয়ে দেখতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সেখানেও সেনাবাহিনী আটকে দিয়েছে।’

মো. নূর ইসলাম মণ্ডল জাগো নিউজকে বলেন, ‘কষ্ট করে সবাই মিলে একসঙ্গে আসলাম। পদ্মা সেতু দেখতে পারলাম না। তবে আমাদের এ অঞ্চলের জন্য এটি অনেক বড় একটা উন্নয়নকাজ।’

শনিবার (২৫ জুন) বেলা ১১টা ৪৮ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজ হাতে নির্ধারিত টোল দেন। ১১টা ৫৮ মিনিটে মাওয়া প্রান্তে পদ্মা সেতুর ফলক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী। দুপুর ১২টা ৬ মিনিটে সেতু দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর জাজিরার অভিমুখে রওনা করে। দুপুর সোয়া ১২টার দিকে বাংলাবাজার ঘাটের জনসভাস্থলে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। পরে তিনি সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেন।

এদিকে, আর কয়েক ঘণ্টা পরই স্বপ্নের পদ্মা সেতু দিয়ে যাত্রীবাহী বাসসহ গাড়ি চলাচল শুরু হবে। সরকারের নির্দেশনা অনুসারে, রোববার (২৬ জুন) ভোর ৬টা থেকে নির্ধারিত টোল দিয়ে সেতু পার হতে পারবে যানবাহনগুলো। এ সেতুর মাধ্যমে ঢাকাসহ দেশের পূর্বাঞ্চল থেকে খুব সহজেই দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে যাতায়াত করা যাবে।

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ এক গণবিজ্ঞপ্তিতে জানায়, পদ্মা সেতুতে ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে গাড়ি চালানো যাবে না। এ সেতুর ওপর যে কোনো ধরনের যানবাহন দাঁড়ানো ও যানবাহন থেকে নেমে সেতুর ওপর দাঁড়িয়ে ছবি তোলা বা হাঁটা সম্পূর্ণ নিষেধ।

এছাড়া তিন চাকার যানবাহন (রিকশা, ভ্যান, সিএনজি, অটোরিকশা ইত্যাদি), পায়ে হেঁটে, সাইকেল বা নন-মটোরাইজড গাড়িযোগে সেতু পারাপার হওয়া যাবে না। গাড়ির বডির চেয়ে বেশি চওড়া এবং ৫ দশমিক ৭ মিটার উচ্চতার চেয়ে বেশি উচ্চতার মালামালসহ যানবাহন সেতুর ওপর দিয়ে পারাপার করা যাবে না। সেতুর ওপরে কোনো ধরনের ময়লাও ফেলা যাবে না।

আরএসএম/এএএইচ/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]