যাত্রীশূন্য মাঝিরঘাট, দোকানিদের মাথায় হাত

মুসা আহমেদ
মুসা আহমেদ মুসা আহমেদ মাঝিরঘাট থেকে
প্রকাশিত: ০৫:২৮ পিএম, ২৬ জুন ২০২২

পদ্মা সেতু উদ্বোধনের আগে শরীয়তপুরে জাজিরার মাঝিরঘাটে দিনে সাত থেকে আটটি ফেরি হাজারো যানবাহন এবং যাত্রী পারাপার করতো। সেই ঘাট আজ যাত্রীশূন্য। ফেরি বা যানবাহনের দেখা নেই। দক্ষিণাঞ্চলের সব গাড়ি পদ্মা সেতু দিয়ে যাতায়াত করছে। এতে চালক এবং যাত্রীরা উচ্ছ্বসিত হলেও ক্রেতা না থাকায় মাথায় হাত মাঝিরঘাটের দোকানিদের।

গতকাল শনিবার (২৫ জুন) বহুল কাঙ্ক্ষিত পদ্মা সেতু উদ্বোধন হয়েছে। আজ রোববার (২৬ জুন) ভোর থেকেই সেতু দিয়ে যান চলাচল শুরু হয়েছে। প্রথম আট ঘণ্টায় ১৫ হাজার ২০০টি যান এই সেতু পার হয়েছে।

রোববার বিকেল ৩টায় মাঝিরঘাটে গিয়ে দেখা যায়, বিআইডব্লিউটিএ’র পন্টুন ফাঁকা। ঘাটে কোনো গাড়ি নেই। যানবাহনেরও কোনো চাপ নেই। ঘাটকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা হাট বা বাজারেও কোনো কোলাহল নেই। দোকানপাটে ক্রেতা নেই। ফলে অলস সময় কাটাচ্ছেন দোকানিরা। চায়ের দোকানগুলোতে দু-চারজন করে আড্ডা দিচ্ছেন, গল্প করছেন। তাদের আলোচনার মূল বিষয়- পদ্মা সেতু।

আলাপকালে মাঝিরঘাটের হৃদয় স্টোরের দোকানি মো. হারুন জাগো নিউজকে বলেন, ১৫ বছর ধরে এই ঘাটে তিনি মুদি ব্যবসা করছেন। প্রতিদিন তার দোকানে গড়ে ১৫ হাজার টাকা বিক্রি হতো। কিন্তু পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় গতকাল এবং আজ তার দোকানে তেমন বেচাকেনা নেই। অথচ প্রায় ২০০ বর্গফুট আয়তনের এই দোকান মালামালে ভরা।

jagonews24মাঝিরঘাটের পন্টুনে নেই কোনো কোলাহল

হৃদয় স্টোরের পাশে আল-আমিন স্টোর। এই দোকানেও মুদি মালামাল বিক্রি করা হয়। দোকানি আব্দুল মোতালেব আকন বলেন, এই দোকানের আয়েই তার সংসার চলে। দিনে ১০-১২ হাজার টাকা বিক্রি হতো। এখন বেচাকেনা নেই। দোকান খুলে অলস সময় পার করছি।

আব্দুল মোতালেব আকনের সঙ্গে যখন কথা হচ্ছিল তখন দোকানে বসা ছিলেন তার ছোট ছেলে আল-আমিন। তিনি বলেন, ঘাট চালু থাকা অবস্থায় দোকানে ভালো বেচাকেনা হতো। বাবার সঙ্গে দোকানে বসতাম। এখন ক্রেতা না থাকায় ব্যবসা নেই।

একই হতাশার কথা জানান ঘাটে থাকা রিপন হেয়ার কাটিংয়ের স্বত্বাধিকারী রিপন দাস। তিনি বলেন, এ ঘাট যখন চালু ছিল তখন দিনে এক হাজার ৫০০ টাকার মতো আয় হতো। পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে গতকাল দোকান বন্ধ রেখেছি। আজ বিকেল ৩টা পর্যন্ত মাত্র ৩০০ টাকা আয় হয়েছে।

মাঝিরঘাটে পন্টুন রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করতেন বিআইডব্লিউটিএ’র সারেং হুমায়ুন কবীর।

তিনি বলেন, দুদিন আগের চিত্র আর এখন চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। গতকাল থেকে ঘাটে কোনো ফেরি আসে না। পন্টুন ফাঁকা রয়েছে। এই সুযোগে দু-একটা লঞ্চ এখানে যাত্রী ওঠানামা করছে। মাওয়ার শিমুলিয়া ঘাটেও একই চিত্র।

এমএমএ/এমএইচআর/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]