ফেসবুকে মন্ত্রী সেজে চাকরির প্রলোভন, ১৫ লাখ টাকা খোয়ালেন নারী

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:০৭ পিএম, ২৭ জুন ২০২২

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি সেজে ফেসবুকে এক নারীকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠানো হয়। দুদিন পর মেসেঞ্জারে কথা শুরু হয় তাদের। এটি যে বাণিজ্যমন্ত্রীরই ফেসবুক আইডি তা বিশ্বাস করানো হয় ওই নারীকে। একপর্যায়ে ভুক্তভোগী নারীকে সরকারি চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখানো হয় কথিত বাণিজ্যমন্ত্রীর আইডি থেকে। তবে শর্ত দেওয়া হয় এ কথা কাউকে বলা যাবে না, কোরআন শরীফ ছুঁয়ে শপথ করতে হবে এবং শপথের সেই ভিডিও দেখাতে হবে। এরপর মন্ত্রীর পিএস সেজে ভুক্তভোগী নারীর কাছ থেকে কয়েক দফায় ১৫ লাখ টাকা নেওয়া হয়। পরে ওই নারী বুঝতে পারেন, কথিত বাণিজ্যমন্ত্রী ও পিএস একই ব্যক্তি এবং তিনি প্রতারিত হয়েছেন। এরপর সিআইডিতে অভিযোগ করেন তিনি।

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির নামে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুলে প্রতারণার অভিযোগে মো. আলমগীর হোসেন (২৫) নামের এক যুবককে গ্রেফতারের পর এসব তথ্য উঠে এসেছে।

রোববার (২৬ জুন) রাতে গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানার সফিপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ওই যুবককে গ্রেফতার করেছে। এসময় তার কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত চারটি মোবাইল ও ১০টি সিমকার্ড জব্দ করা হয়।

সোমবার (২৭ জুন) মালিবাগে সিআইডির সদরদপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের বিশেষ পুলিশ সুপার রেজাউল মাসুদ এসব তথ্য জানান।

jagonews24

তিনি বলেন, আলমগীর দীর্ঘদিন ধরে বাণিজ্যমন্ত্রীসহ বিভিন্ন এমপি-মন্ত্রীর ছবি ও নাম ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া আইডির মাধ্যমে প্রতারণার ফাঁদ তৈরি করেন। ওই আইডিতে নিয়মিত মন্ত্রীর বিভিন্ন কর্মসূচির ছবি পোস্ট করে প্রচারণা চালাচ্ছিলেন তিনি।

রেজাউল মাসুদ বলেন, এক ভুক্তভোগী নারী সিআইডির সাইবার পুলিশ স্টেশনে অভিযোগ করেন, কিছুদিন আগে বাণিজ্যমন্ত্রীর ফেসবুক আইডি থেকে একটি ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠানো হয়। ওই নারী রিকোয়েস্ট অ্যাকসেপ্ট করলে তাকে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ১৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। একপর্যায়ে তিনি বুঝতে পারেন যে ওই ব্যক্তি বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি নন।

আলমগীরের বরাত দিয়ে সিআইডির এই বিশেষ পুলিশ সুপার বলেন, বাণিজ্যমন্ত্রীর নামে ভুয়া আইডি খুলে বিভিন্ন এলাকার চাকরিপ্রত্যাশীদের বিশেষ করে মেয়েদের টার্গেট করতেন আলমগীর। পরে তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিতেন। তিনি অসহায় নারীদের আস্থা অর্জন করে কৌশলে তাদের কাছ থেকে ব্যক্তিগত ছবি নিতেন। পরে ওইসব ছবি অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে টাকা আদায় করতেন। অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীদের নামে ভুয়া আইডি খুলে সেখানে তাদের গোপন ছবিও ছেড়ে দিতেন।

আলমগীরের বিরুদ্ধে কাফরুল থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে বলেও জানান এই সিআইডি কর্মকর্তা।

টিটি/ইএ/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]