সন্ধ্যা-ভোর পর্যন্ত ঢাকার যেসব এলাকায় ছিনতাইকারীর তৎপরতা বেশি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১:২৪ পিএম, ২৮ জুন ২০২২

রাজধানীর খিলগাঁও, মালিবাগ রেলগেট, দৈনিক বাংলা মোড়, পীরজঙ্গি মাজার ক্রসিং, কমলাপুর বটতলা, মতিঝিল কালভার্ট রোড, নাসিরের টেক হাতিরঝিল, শাহবাগ, গুলবাগ, রাজউক ক্রসিং, ইউবিএল ক্রসিং, পল্টন মোড়, গোলাপ শাহ মাজার ক্রসিং, হাইকোর্ট ক্রসিং, আব্দুল গণি রোড, মানিকনগর স্টেডিয়ামের সামনে, নন্দীপাড়া ব্রিজ, বাসাবো ক্রসিং এলাকায় সন্ধ্যা হতে ভোর রাত পর্যন্ত ছিনতাইকারীদের তৎপরতা বেশি দেখা যায়।

এরই পরিপেক্ষিতে রাজধানীর খিলগাঁও, পল্টন, মুগদা, শাহজাহানপুর, শাহবাগ, মতিঝিল ও হাতিরঝিল এলাকা থেকে সংঘবদ্ধ মলমপার্টি ও ছিনতাইকারী চক্রের ২৬ জন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-৩। এসময় তাদের কাছ থেকে তিনটি অ্যান্টিকাটার, ১১টি ব্লেড, ১০টি বিষাক্ত মলম, একটি চাকু, নয়টি মোবাইল ফোন ও নগদ তিন হাজার ২৯০ টাকা জব্দ করা হয়।

মঙ্গলবার (২৮ জুন) র‍্যাব-৩ এর স্টাফ অফিসার (অপস্ ও ইন্ট শাখা) পুলিশ সুপার বীণা রানী দাস এ তথ্য জানান।

গ্রেফতাররা হলেন- মো. পাপ্পু (২৮), মো. জীবন (২২), মো. সজীব (২৬), মো. শহিদ শেখ (৩০), আলাউদ্দিন (৪২), মো. শফিক (১৮), আ. হক হৃদয় (২২), মো. রানা (১৮), মো. অন্তর (২৬), মো. মেহেদী হাসান(২০), মো. শাকিল(২৫), মো. রাব্বী আপন (২০), মো. আলমগীর (৪৫), মো. ফাইম(২২), মো. মামুন শেখ (৪২), মো. সজল (২৬), মো. ফেরদৌস (৩২), মো. রুবেল মাতবর (৩৪), মো. হানিফ ব্যাপারী (২৯), জাকির হোসেন (২৪), মো. সোহেল (১৯), মো. মাহাবুব ইসলাম রিয়ন (৪২), মো. আ. মান্নান (১৯), মো. হাবীব মিয়া(২২), মো. হৃদয় ওরফে মুজিবর (১৯) ও মো. রিফাত উদ্দিন চৌধুরী দুঃখু (২৪)।

বীণা রানী দাস বলেন, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন অসংখ্য যাত্রী ও পথচারী অজ্ঞানপার্টি ও ছিনতাইকারী কবলে পড়ে সর্বস্ব হারিয়ে জখমপ্রাপ্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে থাকেন। এসব ভুক্তভোগীদের বেশির ভাগই কোনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্বারস্থ হন না। ফলে সংঘবদ্ধ অজ্ঞানপার্টি ও ছিনতাইকারী চক্রের তৎপরতা দিন দিন বেপরোয়াভাবে বাড়ছে। অজ্ঞানপার্টি ও ছিনতাইকারী চক্রের সদস্যদের প্রায় সবাই মাদকাসক্ত।

তিনি বলেন, সম্প্রতি অজ্ঞানপার্টি ও ছিনতাইকারী চক্রের তৎপরতা বাড়ার বিষয়টি ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে র‍্যাব-৩ এর আভিযানিক দল রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সোমবার রাতে অভিযান চালায়। এসময় অজ্ঞানপার্টি ও ছিনতাইকারী চক্রের ২৬ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়।

র‍্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, গ্রেফতাররা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানায়- রাজধানীর বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন এলাকায় অজ্ঞানপার্টির সদস্যরা ঘোরাফেরা করতেন। সহজ সরল যাত্রীদের টার্গেট করে ডাব, কোমলপানীয় বা পানির সঙ্গে বিষাক্ত চেতনানাশক ওষুধ মিশিয়ে খাওয়ানোর চেষ্টা করতেন তারা। আবার কখনো যাত্রীবেশে বাস ও ট্রেনে চড়ে যাত্রীদের পাশে বসে তাদের নাকের কাছে চেতনানাশক ওষুধে ভেজানো রুমাল দিয়ে যাত্রীদের অজ্ঞান করতেন। এসব বিষাক্ত পানীয় পান বা বিষাক্ত স্প্রের ঘ্রাণ নেওয়ার পর ভুক্তভোগী যাত্রী অজ্ঞান হয়ে পড়লে তার সর্বস্ব কেড়ে নিয়ে তারা ভিড়ের মধ্যে মিশে যায়।

‘এছাড়াও ভিড়ের মধ্যে যাত্রীদের চোখে-মুখে বিষাক্ত মলম, মরিচের গুড়া বা বিষাক্ত স্প্রে করে সর্বস্ব কেড়ে নেয় তারা। চেতনানাশকের পরিমাণ বেশি হলে ওই ভুক্তভোগীর জ্ঞান ফিরতে ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লেগে থাকে। অজ্ঞানপার্টির শিকার ব্যক্তি শারীরিকভাবে দুর্বল ও বয়স্ক হলে সে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। অন্যদিকে ভুক্তভোগীর চোখে-মুখে বিষাক্ত মলম লাগানোর ফলে তার দৃষ্টিশক্তি চিরতরে হারানোর আশঙ্কা থেকে যায়। এসব অজ্ঞানপার্টির সদস্যরা নির্বিঘ্নে তাদের অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে।’

পুলিশ সুপার বীণা রানী দাস বলেন, অন্যদিকে সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারীরা রাজধানীর বিভিন্ন অলি গলিতে ওঁৎ পেতে থাকে। সুযোগ পাওয়া মাত্রই তারা পথচারী, রিকশা আরোহী, যানজটে থাকা সিএনজি, অটোরিকশার যাত্রীদের ধারালো অস্ত্র প্রদর্শন করে সর্বস্ব লুটে নেয়। সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত তুলনামূলক জনশূন্য রাস্তা, লঞ্চঘাট, বাসস্ট্যান্ড, রেল স্টেশন এলাকায় ছিনতাইকারীরা বেপরোয়া হয়ে ওঠে। তাদের ছিনতাইকাজে বাধা দিলে তারা নিরীহ পথচারীদের প্রাণঘাতী আঘাত করতে দ্বিধা করে না।’

তিনি আরও বলেন, রাজধানীর খিলগাঁও মালিবাগ রেইল গেইট, দৈনিক বাংলা মোড়, পীরজঙ্গি মাজার ক্রসিং, কমলাপুর বটতলা, মতিঝিল কালবার্ট রোড, নাসিরের টেক হাতিরঝিল, শাহবাগ, গুলবাগ, রাজউক ক্রসিং, ইউবিএল ক্রসিং পল্টন মোড়, গোলাপ শাহর মাজার ক্রসিং, হাইকোর্ট ক্রসিং, আব্দুল গণি রোড, মানিকনগর স্টেডিয়ামের সামনে, নন্দীপাড়া ব্রিজ ও বাসাবো ক্রসিং এলাকায় সন্ধ্যা থেকে ভোর রাত পর্যন্ত ছিনতাইকারীদের তৎপরতা বেশি পরিলক্ষিত হয়। এসব অজ্ঞানপার্টি ও ছিনতাইকারীদের আইনের আওতায় আনার ফলে পথচারীদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

সংঘবদ্ধ অজ্ঞানপার্টি ও ছিনতাইকারী চক্রের বিরুদ্ধে র‍্যাবের সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

টিটি/আরএডি/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]