পানির সঠিক বণ্টন নিয়ে সরকারের প্রতিবাদ করার সৎ সাহস নেই: মোশাররফ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:১২ পিএম, ২৮ জুন ২০২২

নদীর পানির সঠিক বণ্টন নিয়ে সরকারের প্রতিবাদ করার সৎ সাহস নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

মঙ্গলবার (২৮ জুন) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে সাউথ এশিয়ান রিসার্চ সেন্টার আয়োজিত ‘বাংলাদেশ-ভারত পানি বণ্টন প্রসঙ্গ’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

মোশাররফ হোসেন বলেন, আজ আমাদের যারা সরকার পরিচালনা করেন, তারা ১৯৯৬ সালে একটা শুভংকরের ফাঁকি চুক্তি করে এখন পর্যন্ত নিশ্চুপ আছেন। ৫৪টি নদীর পানি বিভিন্নভাবে ভারত ব্যবহার করছে। এ নিয়ে কোথাও কোনো প্রতিবাদ করার সৎ সাহস সরকারের নেই।

বিএনপির জ্যেষ্ঠ এই নেতা বলেন, আমাদের এই পানি সংক্রান্ত বিষয়ের প্রকৃত ঘটনা জনগণকে জানাতে হবে। এর মধ্য দিয়ে তাদের মাঝে যদি একটা সচেতনতা তৈরি করা যায়, তবে জনগণ এ দাবিতে সোচ্চার হয়ে উঠবে। অতীতেও দেখেছি, ফারাক্কা বাঁধ নিয়ে ১৯৭৭ সালে চুক্তি করতে হয়েছে। কারণ জনগণ তখন সোচ্চার ছিল।

তিনি বলেন, ১৯৭৭ সালে জিয়াউর রহমানের সময় যে চুক্তিটা হয়েছিল, তাতে উল্লেখ ছিল ফারাক্কা পয়েন্টে পানি কী পরিমাণ থাকতে হবে। ১৯৯৬ তে ফারাক্কা বাঁধ নিয়ে যেই চুক্তিটা করা হলো, সেটা ছিল শুভংকরের ফাঁকি। এখানে সব কথাবার্তা লেখা আছে। কিন্তু কোনো গ্যারান্টি নেই। পানি ফারাক্কা পয়েন্টে কতটুকু আসবে, সেটার কোনো গ্যারান্টি নেই।

সরকারের সমালোচনা করে প্রবীণ এই রাজনীতিক বলেন, কিছুদিন আগে আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে লোক দেখানো মিটিং করেছেন। কখন গেলেন? যখন বাংলাদেশের মানুষ তলিয়ে গেছে। মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছে। কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তার সঠিক হিসাব দেওয়া হচ্ছে না।

ভারত বাঁধের সব গেট খুলে দেওয়ায় এই বন্যা হয়েছে মন্তব্য করে খন্দকার মোশাররফ বলেন, যখন আমাদের পানির প্রয়োজন নেই, তখন আমাদের ভাসিয়ে দিচ্ছে। আর যখন আমাদের জীবিকা ও জীবন রক্ষার জন্য পানির প্রয়োজন ছিল, তখন এই বাংলাদেশকে তারা (ভারত) মরুকরণ করে দিয়েছে।

দেশের নদী ব্যবস্থাপনা নিয়ে তিনি বলেন, পত্র-পত্রিকায় এসেছে, গত ১২২ বছরে এ রকম বন্যা বাংলাদেশে হয়নি। এই বন্যা কেন হচ্ছে? এই বাঁধের জন্য হচ্ছে। এই রিভার ম্যানেজমেন্ট (নদী ব্যবস্থাপনা), এই পানি ম্যানেজমেন্টের (ব্যবস্থাপনা) একতরফা যে সিদ্ধান্ত, এই বাংলাদেশের যে নতজানু পররাষ্ট্রনীতি, তার জন্য আজ এই বন্যা হচ্ছে।

সাউথ এশিয়ান রিসার্চ সেন্টারের সভাপতি মোস্তফা কামাল মজুমদারের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন পানি বিশেষজ্ঞ ড. এসআই খান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সম্পর্ক বিভাগের চেয়ারম্যান ড. সাইফুদ্দিন আহমেদ।

এমআইএস/এমপি/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]