শিক্ষক নির্যাতনের শাস্তিসহ ১১ দাবি বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:৫৬ পিএম, ২৯ জুন ২০২২

শিক্ষাক্ষেত্রে সরকারি-বেসরকারি বৈষম্য দূরীকরণসহ ১১ দফা দাবি ও সারাদেশে শিক্ষক নির্যাতনের প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (বিটিএ)। একই সঙ্গে দাবি আদায়ে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২৯ জুন) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় সমিতির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে বিটিএ’র সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ শেখ কাওছার আহমেদের সঞ্চালনায় লিখিত বক্তব্য দেন সমিতির সভাপতি অধ্যক্ষ মো. বজলুর রহমান মিয়া।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা মাত্র ২৫ শতাংশ উৎসব ভাতা, এক হাজার টাকা বাড়ি ভাড়া ও ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা পান। শিক্ষক-কর্মচারীরা অবসরে যাওয়ার পর অবসর সুবিধা ও কল্যাণ ট্রাস্টের টাকা পেতে বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হয়। ফলে অনেক সময় শিক্ষক/কর্মচারী অর্থাভাবে বিনা চিকিৎসায় মারা যান। তাছাড়া কয়েক বছর কোনো সুবিধা না দিয়েই অবসর ও কল্যাণ ট্রাস্টে অমানবিকভাবে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন থেকে অতিরিক্ত ৪ শতাংশ কেটে নেওয়া হচ্ছে।

‘বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের কোনো বদলি ও পদোন্নতির সুবিধা নেই। একই কারিকুলামের কাজে নিয়োজিত থেকেও আর্থিক সুবিধার ক্ষেত্রে সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষক কর্মচারী ও বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে পাহাড়সম বৈষম্য। এমনকি বেসরকারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষকদের বেতন সরকারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষকদের একধাপ নিচে দেওয়া হয়।’

এরই মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের চাকরির বয়স ৬৫ বছর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু স্কুল ও কলেজের শিক্ষকদের চাকরির বয়স আগের মতোই আছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি/গভর্নিং বডির সদস্যদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ না করায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনায় নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিতে শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের দাবি যেন পাবলিক সার্ভিস কমিশনের মতো নিয়োগ কমিশন গঠন করা হয়। সেই সঙ্গে শিক্ষা প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে আনুপাতিক হারে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের পদোন্নতি করা।

সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ শেখ কাওছার আহমেদ বলেন, বর্তমানে শিক্ষক নির্যাতনের মাত্রা বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশের বিভিন্ন জায়গার শিক্ষকরা আহত, নিহত, নির্যাতিত ও লাঞ্ছিত হচ্ছেন। এসব ঘটনায় প্রতিবাদসহ দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই। যদি দাবি পূরণ না হয় তাহলে আমরা কঠোর আন্দোলনে যাব।

বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির ১১ দফা দাবি হলো-

১। মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করণ করা।

২. আসন্ন ঈদুল আজহার আগেই সরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের মতো পূর্ণাঙ্গ উৎসব ভাতা, বাড়ি ভাড়া ও চিকিৎসা ভাতার ব্যবস্থা।

৩. পূর্ণাঙ্গ পেনশন প্রথা চালুকরণ ও পেনশন প্রথা চালু না হওয়া পর্যন্ত অবসর নেওয়ার ৬ মাসের মধ্যে অবসর সুবিধা ও কল্যাণ ট্রাস্টের পাওনা এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন থেকে অতিরিক্ত ৪ শতাংশ করে কেটে নেওয়া বন্ধ করা।

৪. স্বীকৃতিপ্রাপ্ত সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করতে হবে।

৫. সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ‘প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক’ এর বেতন স্কেল যথাক্রমে ৬ষ্ঠ ও ৭ম গ্রেডে দিতে হবে।

৬. এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বদলি প্রথা চালু করা।

৭. শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরির বয়সসীমা ৬৫ বছরে উন্নতীকরণ।

৮. পাবলিক সার্ভিস কমিশনের মতো শিক্ষক নিয়োগ কমিশন গঠন ও শিক্ষা প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে আনুপাতিক হারে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের পদায়ন।

৯. করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীদের আর্থিক প্রণোদনা ও শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে শিক্ষা সহায়ক ডিভাইসের ব্যবস্থা।

১০. ম্যানেজিং কমিটি/গভর্নিং বোর্ডের সদস্যদের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ করা।

১১. শিক্ষাক্ষেত্রে বিরাজমান সরকারি-বেসরকারি সব বৈষম্য দূরীকরণে শিক্ষানীতি-২০১০ এর দ্রুত বাস্তবায়ন।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য বাবু রঞ্জিত কুমার সাহা, সিনিয়র সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ মো. আবুল কাশেম, সহ-সভাপতি আলী আসগর হাওলাদার ও বেগম নূরুন্নাহার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আবু জামিল মো. সেলিম, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ইকবাল হোসেন, দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন, সহ-মহিলা বিষয়ক সম্পাদক শাহানা বেগম, সহ-দপ্তর সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় সদস্য প্রবীর রঞ্জন দাস, আজম আলী খানসহ শিক্ষক নেতারা।

এমএইচএম/জেএস/এমআরএম/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]