সুষ্ঠু-অবাধ-অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান টিআইবির

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:২০ পিএম, ৩০ জুন ২০২২
ফাইল ছবি

দুর্যোগ মোকাবিলা ও পরিবেশ সুরক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া, সুষ্ঠু-অবাধ অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের দাবি জানিয়েছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) সদস্যরা।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুন) সংগঠনটির বার্ষিক সাধারণ সভায় (ভার্চুয়াল) অংশ নেওয়া টিআইবির সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবার ভিত্তিতে সম্পৃক্ত বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ৪৭ জন সদস্য এ দাবি জানান।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামানের সঞ্চালনায় সভায় সভাপতিত্ব করেন টিআইবির সাধারণ পর্ষদ সদস্যদের নির্বাচিত প্রতিনিধি মোহাম্মদ শাহজাহান সিদ্দিকী।

সভায় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি সংগঠনটির সদস্যরা সরকারকে আনুষ্ঠানিকতার বাইরে গিয়ে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার মাধ্যমে একটি সুশাসিত বাংলাদেশ গড়ার জোরালো আহ্বান জানান।

সভায় অংশ নেওয়া সদস্যরা বলেন, টিআইবি যেমন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নির্মোহভাবে পক্ষপাতমূলক আচরণ থেকে বিরত থাকতে বদ্ধপরিকর, একইভাবে সংস্থাটির সঙ্গে সম্পৃক্ত সদস্যরাও ব্যক্তি-পেশাগত জীবনে রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

সিলেট ও সুনামগঞ্জসহ দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে চলমান বন্যায় বিশাল মানবিক বিপর্যয় মোকাবিলায় সরকারের প্রত্যাশিত প্রস্তুতি ও সাফল্য দেখাতে না পারা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সংবাদকর্মীদের জীবন-মানের উন্নয়নে দৃশ্যমান কোনো ভূমিকা পালন না করে উল্টো গণমাধ্যমের ওপর চাপ বৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় ‘প্রেস কাউন্সিল আইন-২০২২’ এর খসড়া তৈরি, বিনা শর্তে বিদেশে পাচার হওয়া টাকা দেশে আনার সুযোগ দেওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) সদস্যদের বার্ষিক সভায় অংশগ্রহণকারী সদস্যরা।

সভা শেষে এক ঘোষণাপত্রে উপস্থিত সদস্যরা সিলেট ও সুনামগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান বন্যা পরিস্থিতি বিপর্যয় মোকাবিলায় সরকার প্রত্যাশিত প্রস্তুতি ও সাফল্য দেখাতে না পারায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এ ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারকে আরও সক্রিয়-কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

একইসঙ্গে, সুনির্দিষ্ট সময়াবদ্ধ পরিকল্পনা প্রণয়ন-বাস্তবায়ন করে কয়লা ও এলএনজিভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন থেকে সরে গিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনে জাতীয়-আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার প্রতিপালনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন সদস্যরা।

ঘোষণাপত্রে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মতো নিবর্তনমূলক আইনের পাশাপাশি সম্প্রতি ‘প্রেস কাউন্সিল (সংশোধন) আইন, ২০২২’-এর খসড়ার মাধ্যমে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা তথা সব নাগরিকের বাক স্বাধীনতা চর্চার ক্ষেত্রে দেশে অভূতপূর্ব উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

বক্তারা বলেন, দেশ থেকে পাচার করা অর্থ বিনা প্রশ্নে ফেরত আনতে ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে আয়কর অধ্যাদেশে নতুন বিধান সংযোজনের অভূতপূর্ব অনৈতিক প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। এটি সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক, সংশ্লিষ্ট আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বৈষম্যমূলক। এ জাতীয় দুর্নীতি-সহায়ক সুযোগ দেওয়া বৈষম্যমূলক ও সংবিধানের মূলনীতি পরিপন্থী। অবিলম্বে এ সুযোগ বাতিল করে অর্থপাচারকারীদের জবাবদিহি নিশ্চিতের জন্য আন্তর্জাতিক ও জাতীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী পাচারকৃত অর্থ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিতে আহ্বান জানান তারা।

সভায় অংশ নেওয়া সদস্যরা ঘোষণাপত্রে উল্লেখ করেন, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের নামে শুধু চুনোপুঁটি নিয়ে টানাটানি হচ্ছে আর রাঘব-বোয়ালরা ধরা-ছোঁয়ার বাইরেই থেকে যাচ্ছেন। দুর্নীতির মূল হোতারা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে আইন ও প্রাতিষ্ঠানিক সামর্থ্যরে চেয়ে বেশি প্রভাবশালী হয়ে উঠেছেন। সে কারণে দুর্নীতির বিরুদ্ধে পদক্ষেপের বিষয়টি ক্রমশই আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ছে।

‘এসবের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর দায় রয়েছে। ব্যক্তিগত পরিচয় ও অবস্থানের ঊর্ধ্বে থেকে প্রতিষ্ঠানগুলোকে যে আইনি এখতিয়ার দেওয়া আছে, তার যথাযথ প্রয়োগ ঘটালে দেশে এত দুর্নীতির ঘটনা ঘটত না।’

এইচএস/এসএএইচ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]