সিডিএ’র পাহাড় কাটা সমীচীন হয়নি: তথ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক চট্টগ্রাম
প্রকাশিত: ০৯:৩৯ পিএম, ০১ জুলাই ২০২২

সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরের ১৪শ একর খাস জমি ঘিরে মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। এখানে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার স্থানান্তর বাদেও আধুনিক স্পোর্টস কমপ্লেক্স, আইকনিক মসজিদ, ইকোপার্ক, আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম, জাতীয় হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালসহ জাতীয় অবকাঠামো তৈরির বিশাল কর্মযজ্ঞ হাতে নিচ্ছে প্রশাসন।

একই সঙ্গে সলিমপুরের সরকারি খাস জমিতে পাহাড় কেটে বসতি নির্মাণ করে বসবাসকারীদেরও সরকারিভাবে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে শুক্রবার (১ জুলাই) বিকেলে জঙ্গল সলিমপুর পাহাড়ি এলাকা পরিদর্শন করেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।

এসময় উপস্থিত ছিলেন- চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. মমিনুর রহমান, রাউজান উপজেলা চেয়ারম্যান এহেছানুল হায়দর চৌধুরী বাবুলসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা। পরিদর্শন শেষে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

সভায় তথ্যমন্ত্রী নতুন করে পাহাড় না কাটার জন্য অনুরোধ করেন ও এ সংক্রান্তে নোটিশ জারি করার জন্য জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেন। বায়েজিদ লিংক রোড করার সময় সিডিএ যে পাহাড় কেটেছে তাও সমীচীন হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

হাসান মাহমুদ বলেন, সলিমপুরে নতুনভাবে যেন কেউ সরকারি জায়গা দখল না করে। সরকারি জায়গা দখল বেআইনি। যেসব ভূমিহীন মানুষ এখানে বসবাস করছেন, তাদের পুনর্বাসন করা হবে। চট্টগ্রাম এম এ আজিজ স্টেডিয়ামের আশেপাশে সবগুলো পাহাড় ছিল। চারদিকে তাকালে সবুজ দেখা যেতো। এখন এসব পাহাড় নির্বিচারে কাটা হয়েছে।

তিনি বলেন, এখানেও নানা সমিতির নামে পাহাড় কাটা হয়েছে। চট্টগ্রাম শহরে প্রশাসনিক কার্যক্রম চালানোর জন্য জায়গার সংকট রয়েছে। এখন সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম শহরে আর্মি স্টেডিয়াম তৈরির জন্য আমি নতুন সেনাপ্রধানকে অনুরোধ করেছিলাম। তিনি আমাকে জায়গা দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। জায়গা দিলে তারাই (সেনাবাহিনী) নিজেদের খরচে স্টেডিয়াম করবেন। জঙ্গল সলিমপুরের এ জায়গাটিতে স্টেডিয়াম ও ক্রীড়া কমপ্লেক্স করার জন্য আর্মিকে জায়গা দেওয়া সম্ভব হবে।

আ’লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, এখানে ১৪শ একর জায়গা রয়েছে। কিন্তু বসতি রয়েছে মাত্র ৮৮ একর জায়গায়। আমাদের সরকার জনগণের সরকার। জনগণের অসুবিধা হয় এমন কোনো সিদ্ধান্ত সরকার নেবে না। আবার লোকজনকেও মানতে হবে এ দেশ আমাদের। এখানে যারা বসবাস করেন তারা সবাই পাহাড় কাটার সঙ্গে যুক্ত না। তাদের এখানে যারা নিয়ে এসেছেন তারাই পাহাড় কাটছে। যারা পাহাড় কাটার সঙ্গে যুক্ত তাদের নাম প্রশাসনের তালিকায় রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বায়েজিদ লিংক রোড করার সময় সিডিএ যে পাহাড় কেটেছে তাও সমীচীন হয়নি। বেআইনিভাবে করেছে বিদায় পরিবেশ অধিদপ্তর তাদের ১০ কোটি টাকা জরিমানা করেছে। এখানে প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করে দৃষ্টিনন্দন উপায়ে স্থাপনা তৈরি করা হবে।

জেলা প্রশাসক মমিনুর রহমান বলেন, গত ১৫ বছরে চট্টগ্রাম মহানগরসহ আশেপাশের এলাকায় পাহাড়ধসে ২২৮ জনের প্রাণহানিসহ জানমালের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আমরা এ ধরনের মৃত্যু আর চাই না। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা দিয়েছেন- ২০২৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশের প্রত্যেকটি গৃহহীন, ভূমিহীন মানুষকে পুনর্বাসন করতে হবে। এরই মধ্যে আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের সাড়ে তিন লাখ মানুষকে দুই শতাংশ জমিসহ দুর্যোগ সহনীয় টেকসই ঘর দেওয়াসহ পুনর্বাসন করে দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, এখানেও যারা ভূমিহীন, গৃহহীন লোকজন বসতি করে রয়েছেন, তাদের পুনর্বাসন করার প্রক্রিয়া হাতে নেওয়া হয়েছে।

ইকবাল হোসেন/আরএডি/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]