২০ ঘণ্টা অপেক্ষা শেষে টিকিট পেয়ে খুশি মনা আফরোজ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০:৩২ এএম, ০২ জুলাই ২০২২

অডিও শুনুন

প্রতিবারের মতো এবারও কোরবানির ঈদ গ্রামে নিজের পরিবারের সঙ্গে উদযাপন করতে চান মনা আফরোজ। ঈদে গ্রামে যেতে সড়কপথে ভোগান্তি এড়াতে ট্রেনই তার ভরসা। আর ট্রেনের অগ্রীম টিকিট পেতে তাইতো শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে কমলাপুরে আসেন তিনি। উদ্দেশ্য ছিল পরের দিন (শনিবার) শুরুতেই এসি (তাপানুকুল) কামরার টিকিট সংগ্রহ করা। সফলও হয়েছেন তিনি। তবে এ সফলতার পেছনে তাকে কমলাপুরে অপেক্ষা করতে হয়েছে ২০ ঘণ্টা।

শনিবার (২ জুলাই) সকালে মনা আফরোজের সঙ্গে কথা হয় জাগো নিউজের। তিনি বলেন, গতকাল ১২টার দিকে পুরান ঢাকা থেকে কমলাপুর রেলস্টেশনে এসেছি। আজকের সিরিয়ালে আমি নারী কাউন্টারের লাইনে প্রথমে ছিলাম। টিকিট বিক্রির শুরুতেই এসি কামরার টিকিট সংগ্রহ করতে পেরেছি।

কথা হয় অপর টিকিট প্রত্যাশী হুসাইন আহমেদের সঙ্গে। পড়ালেখার পাশাপাশি একটি কোম্পানিতে খণ্ডকালীন (পার্টটাইম) চাকরি করেন তিনি। হুসাইন জাগো নিউজকে বলেন, আমরা কয়েকজন বন্ধু মিলে গতকাল (শুক্রবার) দুপুর থেকে অবস্থান করছি। বন্ধুরা মিলে সময় ভাগ করে আমরা সিরিয়ালে দাঁড়িয়েছি। অবশেষে আজ তিনটা শোভন চেয়ারের টিকিট পেয়েছি। আমরা অনলাইনেও টিকিট কাটতে চেষ্টা করেছি, কিন্তু পাইনি। অনলাইনে না পেলেও সরাসরি টিকিট পেয়ে খুশি বলে জানান হুসাইন।

এদিন পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও আগেভাগেই স্টেশনে এসেছেন। ঈদের আগে সড়কপথে অনেক বেশি যানজট থাকবে এমন আশঙ্কায় তারা ট্রেনের টিকিট পেতে আগ্রহী। যাত্রাপথের ভোগান্তি এড়াতে এজন্য আগেই ট্রেনের টিকিট সংগ্রহ করতে এসেছেন তারা।

jagonews24

এদিকে, টিকিট বিক্রির প্রথমদিন (শুক্রবার) কমলাপুর রেলস্টেশন পরিদর্শন করেন রেল মন্ত্রণালয়ের ঊধ্র্বতন কর্মকর্তারা। আজ বেলা ১১টায় রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন কমলাপুর স্টেশনে আসবেন বলে জানা গেছে। শান্তিপূর্ণভাবে টিকিট বিক্রি নিশ্চিত করতে কাজ করছেন রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী ও আনসার সদস্যরা। আর কালোবাজারে টিকিট বিক্রি বন্ধে পুলিশের পাশাপাশি রয়েছে র‌্যাবের উপস্থিতি।

শুক্রবার (১ জুলাই) থেকে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। ১ জুলাই দেওয়া হয় রেলের ৫ জুলাইয়ের টিকিট, ২ জুলাই দেওয়া হচ্ছে ৬ জুলাইয়ের টিকিট, ৩ জুলাই দেওয়া হবে ৭ জুলাইয়ের ট্রেনের টিকিট, ৪ জুলাই দেওয়া হবে ৮ জুলাইয়ের ট্রেনের টিকিট এবং ৫ জুলাই দেওয়া হবে ৯ জুলাইয়ের ট্রেনের টিকিট।

এছাড়া ফিরতি টিকিট বিক্রি শুরু হবে ৭ জুলাই থেকে। ওইদিন ১১ জুলাইয়ের টিকিট বিক্রি হবে। ৮ জুলাই ১২ জুলাইয়ের টিকিট, ৯ জুলাই ১৩ জুলাইয়ের টিকিট, ১১ জুলাই ১৪ এবং ১৫ জুলাইয়ের টিকিট বিক্রি হবে। তবে ১১ জুলাই সীমিত কয়েকটি আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করবে। ১২ জুলাই থেকে সব ট্রেন চলাচল করবে।

ঢাকায় ছয়টি স্টেশন এবং গাজীপুরের জয়দেবপুর রেলওয়ে স্টেশনে থেকে ঈদের ট্রেনের টিকিট পাওয়া যাচ্ছে। ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশনে সমগ্র উত্তরাঞ্চলগামী আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট বিক্রি হচ্ছে। কমলাপুর শহরতলী প্লাটফরম থেকে রাজশাহী ও খুলনাগামী ট্রেনের টিকিট পাওয়া যাচ্ছে। ঢাকা বিমানবন্দর থেকে চট্টগ্রাম ও নোয়াখালীগামী সব আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট পাওয়া যাচ্ছে। তেজগাঁও রেলওয়ে স্টেশনে পাওয়া যাচ্ছে ময়মনসিংহ, জামালপুর, দেওয়ানগঞ্জগামী ট্রেনের টিকিট।

এছাড়া ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট রেলওয়ে স্টেশনে পাওয়া যাচ্ছে মোহনগঞ্জগামী মোহনগঞ্জ ও হাওর এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকিট। রাজধানীর ফুলবাড়িয়া রেলস্টেশন থেকে পাওয়া যাচ্ছে সিলেট ও কিশোরগঞ্জগামী ট্রেনের টিকিট। গাজীপুরের জয়দেবপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে পঞ্চগড়ের ঈদ স্পেশাল ট্রেন ছাড়বে।

ইএআর/কেএসআর/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]