ক্যান্টনমেন্ট স্টেশনে ভিড় নেই, ৩ ঘণ্টায় ৪০০ টিকিট বিক্রি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২:১০ পিএম, ০২ জুলাই ২০২২

ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট রেলস্টেশনে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনাগামী ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি হচ্ছে। এখানে নির্বিঘ্নে ট্রেনের টিকিট কিনতে পারছেন যাত্রীরা। এ স্টেশনে টিকিটের জন্য দীর্ঘ সময় কাউকে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে না। টিকিট হাতে পেয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন টিকিটপ্রত্যাশীরা।

শনিবার (২ জুলাই) সকাল ৮টায় দ্বিতীয় দিনের মতো ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট রেলস্টেশনে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়। দিনের প্রথম তিন ঘণ্টায় মাত্র ৪০০ টিকিট বিক্রি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্টেশনের কর্মীরা।

এ দিন সকাল ৯টার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, স্টেশনের প্লাটফর্মে ঢুকতেই হাতের ডানপাশে একটি টিকিট বিক্রির কাউন্টার করা হয়েছে। সেখানে পৃথক দুটি ডেস্কে টিকিট বিক্রি করছেন রেলওয়ের দুই কর্মী। বাইরে টিকিটপ্রত্যাশীদের তেমন কোনো চাপ নেই।

দু-চারজন টিকিটপ্রত্যাশী স্টেশনে আসছেন, কোনো বিড়ম্বনা ছাড়াই টিকিট নিয়ে আবার চলে যাচ্ছেন তারা। কাউকে দীর্ঘসময় টিকিটের জন্য লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে না। লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট পাচ্ছেন না, এমন অভিযোগও কেউ করেন নি। এভাবে বেলা ১১টা পর্যন্ত ৪০০ এর মতো টিকিট বিক্রি হয়েছে বলে জানা গেছে।

সকাল ১০টার দিকে ময়মনসিংহের তিনটি টিকিট কিনেছেন মিরপুর-১ এর বাসিন্দা নাজমুল হাসান। তিনি বলেন, আজ সকাল ৮টায় অনলাইনে টিকিট কেনার চেষ্টা করেছি। অনেকবার চেষ্টা করেও পারিনি। মুহুর্তেই সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে। তাই কাউন্টার থেকে টিকিট কিনেছি। কোনো ঝামেলা পোহাতে হয়নি।

স্টেশনে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রির দায়িত্বে থাকা এক কর্মচারী বলেন, আজ ও গতকাল (শুক্রবার) টিকিটের তেমন চাপ ছিল না। নির্বিঘ্নে টিকিট নিতে পেরেছেন যাত্রীরা। তবে আগামীকাল (রোববার) ৭ জুলাইয়ের টিকিট বিক্রি হবে। তাই টিকিটপ্রত্যাশীদের চাপ বাড়তে পারে। সে অনুযায়ী আমরা প্রস্ততি নিয়ে রেখেছি।

জানতে চাইলে স্টেশন ম্যানেজার লিটন দে জাগো নিউজকে বলেন, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট রেলস্টেশনের কাউন্টারে প্রায় পাঁচ শতাধিক টিকিট বরাদ্দ থাকে। শনিবার বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ২২টি টিকিট বিক্রি বাকি ছিল। স্টেশনে টিকিট কিনতে যাত্রীদের তেমন ভিড় নেই।

তিনি বলেন, আগে সারাদেশের টিকিট কমলাপুর রেলস্টেশনে বিক্রি করা হতো। এতে সেখানে যাত্রীদের চাপ বাড়তো। তাই গত ঈদুল ফিতর থেকে ঢাকার ছয়টি রেলস্টেশনে বিভিন্ন অঞ্চলের টিকিট বণ্টন করে দেওয়া হয়েছে। এতে কমলাপুরে চাপ কমেছে।

ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট রেলস্টেশন থেকে ময়মনসিংহ এক্সপ্রেস ও মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস নামে দুটি ট্রেনের টিকিট বিক্রি হচ্ছে। মোট টিকিটের ৫০ শতাংশ কাউন্টারে ও বাকি ৫০ শতাংশ অনলাইনে বিক্রি হচ্ছে।

আজ (২ জুলাই) আগামী ৬ জুলাইয়ের ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনাগামী ট্রেনের টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে। আগামীকাল (৩ জুলাই) ৭ জুলাইয়ের টিকিট বিক্রি হবে। পরের দিন (৪ জুলাই) বিক্রি করা হবে আগামী ৮ জুলাইয়ের টিকিট এবং ৫ জুলাই বিক্রি করা হবে ৯ জুলাইয়ের ট্রেনের অগ্রিম টিকিট।

এছাড়া এই রেলস্টেশন থেকে ফিরতি টিকিট বিক্রি শুরু হবে ৭ জুলাই থেকে। ওই দিন ১১ জুলাইয়ের টিকিট বিক্রি হবে। ৮ জুলাই ১২ জুলাইয়ের টিকিট, ৯ জুলাই দেওয়া হবে ১৩ জুলাইয়ের টিকিট, ১১ জুলাই ১৪ এবং ১৫ জুলাইয়ের টিকিট বিক্রি হবে। এর মধ্যে ১০ জুলাই ঈদ হলে ১১ জুলাই সীমিত কয়েকটি আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করবে। তবে ১২ জুলাই থেকে সব ট্রেন চলাচল করবে।

বাংলাদেশ রেলওয়ে সূত্র জানায়, ঢাকায় ছয়টি স্টেশন ও গাজীপুরের জয়দেবপুর রেলওয়েস্টেশন থেকে ঈদের ট্রেনের টিকিট পাওয়া যাচ্ছে। ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশনে সমগ্র উত্তরাঞ্চলগামী আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট মিলবে। আর কমলাপুর শহরতলী প্ল্যাটফর্ম থেকে রাজশাহী ও খুলনাগামী ট্রেনের টিকিট পাওয়া যাবে।

এদিকে, ঢাকা বিমানবন্দর থেকে চট্টগ্রাম ও নোয়াখালীগামী সব আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট পাওয়া যাবে। তেজগাঁও রেলওয়েস্টেশনে পাওয়া যাবে ময়মনসিংহ, জামালপুর ও দেওয়ানগঞ্জগামী ট্রেনের টিকিট।

এছাড়া ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট রেলওয়েস্টেশনে পাওয়া যাবে মোহনগঞ্জগামী ও হাওর এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকিট। ফুলবাড়িয়া রেলস্টেশন থেকে পাওয়া যাবে সিলেট ও কিশোরগঞ্জগামী ট্রেনের টিকিট। আর গাজীপুরের জয়দেবপুর রেলস্টেশন থেকে পঞ্চগড়ের ঈদ স্পেশাল ট্রেন ছাড়বে।

এমএমএ/এমপি/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]