জিঙ্গেল বাজিয়ে মশা নিধন ডিএসসিসির

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:৪২ পিএম, ০২ জুলাই ২০২২

‘ঘরে কিংবা আশপাশে জমলে স্বচ্ছ পানি, তিনদিন পরে সেই পানিতে এডিস মশা জন্ম নেবে জানি’, ‘ডোরাকাটা এডিস মশা কামড়ায় দিনের বেলা, ঘুমালে তাই মশারি টানাবো, চলবে না যে হেলা’, ‘সচেতন থাকলে পরে নেই কেনো ভয়ডর, উদাসীন হই না যেন থাকি তৎপর।’—এভাবেই জিঙ্গেল বাজিয়ে মশা নিধন করছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)।

নিয়মিত মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে এমন অভিনব পদ্ধতি জিঙ্গেল সংযোজন করেছে ডিএসসিসি। প্রতিদিন সকালে নিধন কার্যক্রম ব্যবহৃত কীটনাশকের লার্ভিসাইডিং কার্যক্রমে হ্যান্ডমাইক সঙ্গে এ জিঙ্গেল বাজান মশককর্মীরা। এ ছাড়া জিঙ্গেলের শেষভাগে রয়েছে জনগণকে সচেতন হওয়ার আবেদন। সম্প্রতি ডিএসসিসির বিভিন্ন ওয়ার্ডে এ জিঙ্গেল বাজাতে দেখা গেছে।

ডিএসসিসির স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, নগরে মশার উপদ্রব বাড়ায় জনগণকে সচেতন করতে এ অভিনব পদ্ধতিতে তৈরি করতে নির্দেশনা দিয়েছেন ডিএসসিসি মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস। পরে বাংলাদেশ বেতারের সার্বিক সহযোগিতায় জিঙ্গেল বেলটি প্রস্তুত করা হয়েছে। কণ্ঠশিল্পী চম্পা বনিক ও অশোক পাল এ জিঙ্গেলে কণ্ঠ দিয়েছেন। জিঙ্গেলটির গীতিকার শফিকুল ইসলাম বাহার ও সুর করেছেন আশোক পাল। এখন সেই জিঙ্গেল বেল বাজিয়েই লার্ভিসাইডিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে ডিএসসিসি। এতে জনগণকে সচেতন করার পাশাপাশি মশককর্মীদের আরও বেশি পরিমাণে তদারকিও করা সম্ভব হচ্ছে।

শনিবার (২ জুলাই) ডিএসসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা আবু নাসের জাগো নিউজকে বলেন, এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে জনগণকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। পাশাপাশি লার্ভিসাইডিং কার্যক্রম নির্বিঘ্নে পরিচালনা করা জন্য এ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

জিঙ্গেল বেলের শেষভাগে সংযোজিত ভয়েস ওভার:
শোনেন শোনেন নগরবাসী শোনেন দিয়া মন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মশককর্মী করি নিবেদন। আপনার বাড়ি, বাড়ির আঙ্গিনা ও ছাদ, বাড়ির শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ও হিমায়ক যন্ত্র, ফুলের টব, দুবাড়ির মধ্যবর্তী জায়গা, পরিত্যক্ত বাড়ি বা স্থাপনা, নির্মাণাধীন ভবন, পরিত্যক্ত চাকা, উল্টে থাকা বালতি-গামলার উপরিভাগ, চিপস-আইসক্রিম-চকলেট-বিস্কুটের প্যাকেট, কোমল পানীয়ের ক্যান ও বোতল, প্লাস্টিকের পরিত্যক্ত বোতল ও ড্রাম, বনসাই বা ইনডোর প্ল্যান্ট, একবার ব্যবহার করে ফেলে দেওয়া চা ও ফলের রসের (জুস) প্যাকেট, টং দোকানসহ অস্থায়ী দোকান ও স্থাপনায় ব্যবহৃত পলিথিন, গাড়ির গ্যারেজ, ধোয়া বাসনপত্র রাখা হয় রান্নাঘরের এমন র্যাক, পানি জমে থাকে রান্নাঘর বা স্নানঘরের এমন নর্দমা, গৃহপালিত পশু-পাখির স্নান ও খাবারের পাত্র, চৌবাচ্চাসহ যেখানেই স্বচ্ছ পানি জমে থাকার অবকাশ থাকে সেখানেই এডিস মশা জন্মাতে পারে। তাই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সবাই নাগরিক দায়িত্ব পালন করি, আপনার আশপাশের এডিস মশার উৎসস্থল ধ্বংস করি। সবপাত্র ও আধার অপসারণ করি।

এমএমএ/এমএএইচ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]