সময় কাটাতে পত্রিকা পড়ছেন-তাস খেলছেন টিকিটপ্রত্যাশীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:৩১ এএম, ০৩ জুলাই ২০২২

ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরুর দিন থেকেই টিকিট পেতে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করছেন হাজারো মানুষ। ঈদযাত্রার টিকিট পেতে দীর্ঘ সময় লাইনে থাকতে হচ্ছে তাদের। কেউ কেউ ৩০ ঘণ্টা ধরে লাইনেই আছেন। এ অবস্থায় সময় পার করতে কেউ পত্রিকা পড়ছেন, কেউ তাস খেলছেন। শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ বই বা নোট নিয়ে লাইনে বসেই পড়ছেন। অনেকে অপেক্ষা করতে করতে ঘুমিয়েও পড়ছেন।

শনিবার (২ জুন) দিনগত রাতে রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে গিয়ে এমন চিত্রই দেখা গেছে।

ঈদে রাজধানী ছাড়েন প্রায় কোটি মানুষ। এতে বাস, লঞ্চ, ট্রেনসহ নানা পরিবহনে চাপ থাকে যাত্রীদের। সড়ক পথের দীর্ঘ জ্যাম ও চরম ভোগান্তির ফলে অনেকেই ট্রেনযাত্রাকে আরামদায়ক মনে করেন। তবে ট্রেনের টিকিট পেতেও পোহাতে হয় আরেক ভোগান্তি।

দীর্ঘ সময় লাইনে অপেক্ষায় থাকা সাইফুল ইসলাম আরও তিনজনকে নিয়ে বসে পড়েন তাস খেলতে।

যাত্রাবাড়ী থেকে আসা সাইফুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ঈদের ছুটিতে বাড়ি যাবো। সকালে এসে লাইনে দাঁড়িয়েছি।‌ আগামীকাল সকালে ট্রেনের টিকিট ছাড়বে। এত সময় শুধু দাঁড়িয়ে বা বসে পার হয় না। তাই সময় কাটাতে তাস খেলতে বসেছি।

গাইবান্ধা যাওয়ার জন্য সকালে এসে লাইনে দাঁড়ানো শাকিল জাগো নিউজকে বলেন, মাকে নিয়ে ঈদ করতে বাড়ি যাবো। টিকিট কাটতে এসে দেখি লম্বা লাইন।‌ আবার কালকের টিকিটের জন্য আজকেই লাইনে দাঁড়াতে হয়েছে। তাই রাতটা পার করতেই তাস খেলছি কয়েকজন মিলে।

শুধু খেলা নয়, অনেকে পত্রিকা পড়া বা বই ও নোট খাতা পড়ে সময় পার করছেন কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে।‌

রংপুরের টিকিট কাটতে লাইনে দাঁড়িয়ে পত্রিকা পড়তে থাকা মো. শিপুল রানা জাগো নিউজকে বলেন, সকাল থেকে এসে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। সকালে টিকিট পাইনি। এখনো পঞ্চাশের বেশি সিরিয়ালে আছি। টিকিট পাবো কি না তা জানি না। তারপরও দাঁড়িয়ে আছি যদি কাল পেয়ে যাই। ২৪ ঘণ্টা সময় পার করা কষ্টের ব্যাপার। তাই পত্রিকা পড়ে সময় কাটাচ্ছি।

নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা মোহাম্মদ আশরাফুল নামের এক শিক্ষার্থী জাগো নিউজকে বলেন, লালমনিরহাট যাওয়ার জন্য অগ্রিম টিকিট কাটতে আসছি। সকালে এসেছি। আগামীকালের জন্য টিকিট কাটবো তাও অনেক বড় লাইন। এত দীর্ঘ সময় পার করতে পড়ার জন্য নোট খাতা নিয়ে আসলাম।

কমলাপুর রেলস্টেশনে সমগ্র উত্তরাঞ্চলগামী আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট মিলছে। কমলাপুর শহরতলী প্ল্যাটফর্ম থেকে রাজশাহী ও খুলনাগামী ট্রেনের টিকিট পাওয়া যাচ্ছে। ঢাকা বিমানবন্দর থেকে চট্টগ্রাম ও নোয়াখালীগামী সব আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট পাওয়া যাচ্ছে। তেজগাঁও রেলওয়ে স্টেশনে পাওয়া যাচ্ছে ময়মনসিংহ, জামালপুর ও দেওয়ানগঞ্জগামী ট্রেনের টিকিট।

এছাড়া ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট রেলওয়ে স্টেশনে পাওয়া যাচ্ছে মোহনগঞ্জগামী মোহনগঞ্জ ও হাওর এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকিট। ফুলবাড়িয়া রেলস্টেশন থেকে পাওয়া যাচ্ছে সিলেট ও কিশোরগঞ্জগামী ট্রেনের টিকিট। গাজীপুরের জয়দেবপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে পঞ্চগড়ের ঈদ স্পেশাল ট্রেন ছেড়েছে।

আরএসএম/এমএইচআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]