১০ মিনিটেই সেনজেন ভিসা, ১৫ লাখে চুক্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:২৫ পিএম, ০৩ জুলাই ২০২২

মাত্র ১০ মিনিটেই তৈরি হচ্ছে ২৬ দেশের সেনজেন ভিসা। শুনে অবাক হলেও একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে সহজ-সরল মানুষের কাছ থেকে ১৫ লাখ টাকার চুক্তিতে এই জাল ভিসা প্রদান করে আসছিল। ভিসা প্রদানকারী দেশের অনুমোদন ছাড়াই ফটোশপ আর কিছু সফটওয়ারের মাধ্যমে অসাধুচক্র তৈরি করছিল ২৬ দেশের সেনজেন ভিসা। এভাবে একাধিক বিদেশ যেতে ইচ্ছুক মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে চক্রটি।

সম্প্রতি জাল ভিসা চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেফতারের পর বেরিয়ে এসেছে এসব তথ্য।

রোববার (৩ জুলাই) বিকেলে গোয়েন্দা গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. মশিউর রহমান জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেফতাররা হলেন চক্রের মূলহোতা মো. জুয়েল প্রধান (৩৮), মো. মোকছেদুর রহমান ওরফে রাজ (৪০), মো. লিটন মাহমুদ (৪০), মো. ফুল মিয়া (৫২), মো. আরিফ হোসেন (৫০) ও মো. আব্দুল কাদের সোহাগ (৪৩)। তাদের কাছ থেকে জাল ভিসা ও ভিসা তৈরির সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।

মশিউর রহমান বলেন, জুয়েল প্রধান ভিসা জালিয়াতি চক্রের অন্যতম সদস্য। সেনজেন ভিসায় বিদেশ যেতে আগ্রহীদের জোগাড় করার দায়িত্ব তার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইমোতে নাদিম নামে এক ভুক্তভোগীর স্ত্রীর সঙ্গে পরিচয় হয় তার। গত ১০ জুন থেকে বিভিন্ন সময় চক্রটিকে ৭ লাখ টাকা দেন নাদিম। টাকা দেওয়ার কিছুদিন পর নাদিমকে একটি কানাডিয়ান ভিসা দেন তারা। নাদিম অনলাইনে চেক করে ভিসাটি জাল বলে জানতে পারেন। পরে নাদিম তার ৭ লাখ টাকা ফেরত চাইলে চক্রটি তাকে ইতালির ভিসা দেবে বলে জানায়।

প্রতারক চক্রের সদস্যরা গত ১৮ জুন ইতালির জাল ভিসা এবং ২২ জুনের একটি বিমান টিকিট দেয় নাদিমকে। নাদিম ভিসা ও টিকিট নিয়ে গত ২২ জুন ইতালি যাওয়ার উদ্দেশ্যে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যান। বিমানবন্দরে যাওয়ার পর রাত সাড়ে ৮টার দিকে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের কর্তব্যরত কর্মকর্তাকে তার পাসপোর্ট ও টিকিট দেখান। এই কর্মকর্তা পাসপোর্ট ও টিকিট দেখে জানান, এগুলো ভুয়া।

১০ মিনিটেই সেনজেন ভিসা, ১৫ লাখে চুক্তিডিসি মো. মশিউর রহমান

পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, পাসপোর্টে জাল ভিসার স্টিকার বসানোর কাজ করেন আরিফ হোসেন। এয়ার টিকিট ম্যানেজ করেন মুকসেদ ওরফে রাজ। টার্গেট দেশে যাওয়ার পর সেখানকার ইমিগ্রেশন পার করার দায়িত্ব পালন করেন ভারতীয় এক দালাল।

তিনি বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) এবং বিমানবন্দরের কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় এই চক্রকে ধরতে পেরেছি। তারা বাসায় বসে কম্পিউটারে ফটোশপে কাজ করে সর্বোচ্চ ২০ টাকা খরচ করে সেনজেন ভিসা তৈরি করেন। এরপর এগুলো ৫০০ টাকায় বিক্রি করেন দু-চারজন দালালের কাছে। সেই দালালরা বিভিন্ন শহর-উপশহরসহ মফস্বল থেকে মক্কেল ধরেন। তারপর তাদের পাসপোর্টে ওই ভিসার স্টিকার লাগিয়ে দেওয়া হয় ১৫ লাখ টাকার বিনিময়ে। এসব কাজে বেশিরভাগ সময়ই তারা ব্যর্থ হন। কিছু কিছু ক্ষেত্রে সফল হয়েছে কি না সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতাররা ঘটনার বিষয়ে জাড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। তারা একটি সংঘবদ্ধ ভিসা জাল-জালিয়াতি প্রতারক চক্রের সক্রিয় সদস্য। তারা পরস্পর যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের বিদেশ যেতে ইচ্ছুক মানুষের কাছ থেকে টাকা-পয়সা নিয়ে জাল ভিসা প্রদান করে প্রতারণা করে আসছেন বলে জানান ডিসি মো. মশিউর রহমান।

টিটি/ইএ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]