এক বছরে কী কাজ করবে তা জানিয়ে চুক্তি করলো ৫২ মন্ত্রণালয়-বিভাগ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:৩৬ পিএম, ০৩ জুলাই ২০২২

আগামী এক বছর কী কাজ করবে তা জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সঙ্গে বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি (এপিএ) করেছে ৫২টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ।

রোববার (৩ জুলাই) ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর সঙ্গে বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি সই হয়। একই সঙ্গে ২০২১-২২ অর্থবছরে বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি (এপিএ) বাস্তবায়নে সেরা ১০টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও অনুষ্ঠানে শুদ্ধাচার পুরস্কারও দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেলন হক মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন। এসময় মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরকারি কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা বাড়ানো এবং গতিশীলতা আনতে সরকার কর্মসম্পাদন ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির আওতায় বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি চালু করে। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধি হিসেবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীর প্রতিনিধি হিসেবে সিনিয়র সচিব বা সচিবের মধ্যে প্রতি বছর এ চুক্তি সই হয়ে থাকে। এবার ৫২টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সঙ্গে বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি সই হয়েছে।

২০২২-২৩ অর্থবছরে এপিএ প্রণয়নে সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ২০১৮, রূপকল্প-২০৪১, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উদ্যোগ ও প্রতিশ্রুতি, অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা, টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট-২০৩০, ডেল্টা প্ল্যান-২১০০, মেগা প্রকল্প, মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন এবং এডিপি বাস্তবায়নকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মন্ত্রণালয় বা বিভাগগুলোর নিজস্ব পরিকল্পনা ও অ্যালোকেশন অব বিজনেস অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট কার্যক্রম এপিএতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

২০১৪-১৫ অর্থবছর থেকে সব মন্ত্রণালয় বা বিভাগ এপিএ সই করছে। পরবর্তীসময়ে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে মন্ত্রণালয় বা বিভাগের সঙ্গে অধীন দপ্তর বা সংস্থার এপিএ সই শুরু হয়। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বিভাগীয়, আঞ্চলিক এবং জেলা পর্যায়ের অফিস এপিএর আওতায় আনা হয়। সবশেষে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে উপজেলা পর্যায়ের অফিসে এপিএ সম্প্রসারিত হয়।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ আরও জানায়, বর্তমানে এপিএ প্রণয়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়নের কাজটি এপিএএমএস নামক একটি সফটওয়্যারের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হচ্ছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সমন্বয় ও সংস্কার ইউনিট এপিএ প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে সব মন্ত্রণালয় বা বিভাগসহ সব পর্যায়ের সরকারি অফিসকে সহযোগিতা দেওয়া যাচ্ছে।

সম্মাননা পেলো সেরা ১০ মন্ত্রণালয়

অনুষ্ঠানে মন্ত্রণালয় বা বিভাগের এপিএ সইয়ের পাশাপাশি ২০২০-২১ অর্থবছরে এপিএ বাস্তবায়নে সেরা ১০টি মন্ত্রণালয়/বিভাগকে সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। সেরা ১০টি মন্ত্রণালয় বা বিভাগের মধ্যে রয়েছে- তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, কৃষি মন্ত্রণালয়, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ ও অর্থ বিভাগ।

শুদ্ধাচার পুরস্কার পেলেন যারা

২০২১-২২ অর্থবছরে সিনিয়র সচিব বা সচিবদের মধ্য থেকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবের পদ থেকে অবসরে যাওয়া মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুম ও পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য (সচিব) মো. মামুন-আল-রশীদ, যৌথভাবে ‘শুদ্ধাচার পুরস্কার, ২০২১-২২’ পেয়েছেন।

শুদ্ধাচার কৌশল কর্ম-পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রথম খাদ্য মন্ত্রণালয়

এছাড়াও ২০২০-২১ অর্থবছরের জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল কর্ম-পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রথম স্থান অর্জনকারী খাদ্য মন্ত্রণালয়, দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারী সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারী বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়কে সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, সিনিয়র সচিব/সচিব এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরএমএম/আরএডি/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]