কোরবানির পশু পরিবহনে ৬ জুলাই থেকে বিশেষ ট্রেন

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:৩৯ পিএম, ০৩ জুলাই ২০২২

কোরবানির পশু পরিবহনের জন্য আগামী ৬-৮ জুলাই পর্যন্ত বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।

তিনি বলেছেন, কেউ অনলাইনে বা সরাসরি ক্রয় করে বাড়িতে পৌঁছানো নিয়ে সমস্যা থাকলে তারা ট্রেনে কিংবা অন্যান্য পরিবহনে পশু নিতে পারবেন, সেই ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

রোববার (৩ জুলাই) কোরবানির পশু বিক্রির অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ‘ডিজিটাল হাট ২০২২’ এর অনলাইন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের এটুআই ও একশপ এবং ই-ক্যাব যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

রেজাউল করিম বলেন, অনলাইনে গবাদিপশু ক্রয়ের ক্ষেত্রে যেন কেউ প্রতারণার শিকার না হয় সেটি লক্ষ্য রাখতে হবে। ডিজিটাল হাটের সঙ্গে সম্পৃক্ত এটুআই, একশপ, ই-ক্যাবসহ অন্যান্য ফোরাম সম্মিলিতভাবে সেটি নিশ্চিত করতে হবে। যেন মানুষের আস্থা বাড়ে। যদি কেউ প্রতারিত হয়, তারা আগামী বছর এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংযুক্ত হতে আগ্রহী হবে না।

মন্ত্রী বলেন, জরিপ অনুযায়ী ৯৭ লাখ ৭৫ হাজার কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে। এ চাহিদা মেটানোর জন্য এক কোটি ২১ লাখ ২৪ হাজার ৩৮৯টি গবাদিপশু প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যেন কোনোভাবে পশুর সংকট না হয়। একসময় ভারত-মিয়ানমার থেকে পশু না এলে কোরবানির পশু নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকতে হতো। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ যে এগিয়ে চলেছে তার অন্যতম অধ্যায় প্রাণিসম্পদ বিভাগের বৈপ্লবিক পরিবর্তন। এখন চাহিদার চেয়ে উদ্বৃত্ত পশু বাংলাদেশে উৎপাদন হচ্ছে।

তিনি বলেন, কোরবানির পশু ব্যবস্থাপনা নিয়ে একসময় নানা বিড়ম্বনা ও বিভিন্ন রকম প্রতিকূল অবস্থা ছিল। সেটা তথ্যপ্রযুক্তি আধুনিকায়নের মাধ্যমে অনেক সহজ হয়েছে। অনলাইনে পশু ক্রয়ের পর যদি কারও মনোপুত না হয়, সেক্ষেত্রেও তার প্রতিকারের ব্যবস্থা রয়েছে। আর্থিক লেনদেনের জন্য স্মার্ট কার্ডসহ অন্যান্য অ্যাপের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। এটি বিশ্বের বুকে বাংলাদেশের সমৃদ্ধ ডিজিটাল দেশে রূপান্তর হওয়ার দৃশ্যমান অবস্থা তুলে ধরেছে।

‘গতবছর অনলাইনে ৩ লাখ ৭৫ হাজার গবাদিপশু বিক্রয় হয়েছে। করোনা পরিস্থিতি কারণে অনেকেই কোরবানির জন্য আগ্রহী হননি। এ বছর আশা করা হচ্ছে, আরও বেশি গবাদিপশু বিক্রয় হবে।’

তিনি আরও বলেন, অনলাইনে ক্রয়কৃত গবাদিপশু পছন্দ না হলে ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে, যেন এটা সবার কল্যাণে কাজে লাগে ও কেউ যেন কোনোভাবে প্রতারণার শিকার না হন। অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এ বছর ভার্চুয়াল ক্যালকুলেটর নতুন সংযোজন করা হয়েছে। এটি ক্রেতা-বিক্রেতা সবাইকে অনাহুত সমস্যা থেকে মুক্ত করবে ও তাদের দুশ্চিন্তা দূর করবে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, অনলাইনে আপলোড করা গবাদিপশুর মালিকানা, ঠিকানা, মালিকের মোবাইল নম্বর, পশুর বয়স, ওজন ও ছবি সম্বলিত তথ্য দেওয়া নিশ্চিত করা জরুরি। আপলোডের ক্ষেত্রে গবাদিপশুর স্বাস্থ্য সনদ নিতে হবে। এক্ষেত্রে আমাদের ভেটেরিনারি সার্জন সেবা দেবেন। তাতে রোগাক্রান্ত ও কোরবানির অনুপযুক্ত পশু নির্ণয় করা যাবে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর খামারিদের অনলাইন প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে সংযুক্ত করতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে। এক্ষেত্রে ডেইরি ফার্মারস অ্যাসোসিয়েশন ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে উদ্যোগ নিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, অনলাইনে পশু ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে হাসিল আদায় করা যাবে না। এক্ষেত্রকে ইজারা বহির্ভূত রাখা হবে ও এ সংক্রান্ত হয়রানিতে কেউ যেন শিকার না হয় সেটা নিশ্চিত করতে হবে। এমনকি বাজারের বাইরে বাড়িতে বা রাস্তায় কেউ পশু বিক্রি করলে কোনোভাবেই তাদের কাছ থেকে হাসিল বা চাঁদা আদায় করা যাবে না। কোরবানির পশু পরিবহনকারী যানবাহন সড়কে, সেতুতে ও ফেরিতে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। অনলাইনে ক্রয়কৃত পশু আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রে কেউ সমস্যার মুখোমুখি হলে তা সমাধানে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ কাজ করবে। ক্রেতা-বিক্রেতা কেউ যেন সমস্যার মুখোমুখি না হয় সেটা আমাদের লক্ষ্য।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সিনিয়র সচিব এন এম জিয়াউল আলম ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন- বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. হাফিজুর রহমান ও এ এইচ এম শফিকুজ্জামান, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম সচিব ড. দেওয়ান মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য  রাখেন ই-ক্যাবের সভাপতি শমী কায়সার। ডিজিটাল হাট প্ল্যাটফর্ম নিয়ে উপস্থাপন করেন এটুআইয়ের হেড অব ই-কমার্স রেজওয়ানুল হক জেমি।

এএএম/আরএডি

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]