লাইনে দাঁড়িয়েও টিকিট পেলেন না ফারহানা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২:০৭ পিএম, ০৫ জুলাই ২০২২

রাজধানীতে বেসরকারি একটি হাসপাতালে চাকরি করেন ফারহানা আফরোজ। করোনার প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতাল থেকে ছুটি পাননি তিনি। রাতে ডিউটি চলায় গত দুদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে দিনাজপুরগামী দ্রুতযান এক্সপ্রেসের কাউন্টারে এসে লাইনে দাঁড়ান ফারহানা। গতকালও (সোমবার) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত লাইনে সিরিয়ালে থাকলেও রাতে ডিউটি থাকায় সিরিয়াল দিয়ে চলে যান অফিসে। কিন্তু সকালে টিকিট ছাড়ার আগে আবারও লাইনে এসে দাঁড়াতে গেলেই পেছন থেকে কেউ তাকে ঢুকতে দেননি। এতে টিকিট প্রত্যাশী এই যাত্রীদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়ে যায়।

মঙ্গলবার (৫ জুলাই) সকালে রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে গিয়ে এমন চিত্র দেখা যায়।

ঈদযাত্রায় কমলাপুর স্টেশনের ১০টি কাউন্টারে অগ্রিম টিকিট দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে মাত্র একটি কাউন্টার রাখা হয়েছে নারী ও প্রতিবন্ধীদের জন্য। এতে টিকিট বিক্রির শুরুর দিন থেকেই
কাউন্টারটিতে দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। এতে সিরিয়াল দিতে গিয়ে প্রায়ই নারীদের মধ্যে হাতাহাতি, ধাক্কাধাক্কি লেগে যায়।

এদিন সকালেও এমন ঘটনা চোখে পড়ে। এসময় ভুক্তভোগী ফারহানা আফরোজ জাগো নিউজকে বলেন, আমি গতকালকে (সোমবার) যখন ৮ তারিখের টিকিট পেলাম না, সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আমি লাইনে ছিলাম। আমার রাত্রিকালীন ডিউটি চলতেছে। আমার ওয়ার্ডে কোভিড রোগী বেড়ে গেছে। এমন অবস্থায় আমার এক কলিককে দায়িত্ব দিয়ে আমি রাতে ডিউটিতে চলে গিয়েছিলাম। সকালে ৬টায় টিকিট ছাড়ার আগেই আমি এখানে আবার চলে আসি। আমার সিরিয়াল ছিল, কিন্তু পেছন থেকে কেউই লাইনে দাঁড়াতে না। এখানে পুলিশ ও আনসার ভিডিপির যারা দায়িত্বে ছিলেন, তারাও বিষয়টি জানেন। সামনে যারা ছিল তারা দিতে চাইলেও পেছন থেকে কেউই সিরিয়াল দিতে দিচ্ছিলো না। সামনে যিনি ছিলেন তিনি আমাকে ঢোকানোর চেষ্টা করছিলেন, কিন্তু পেছন থেকে না দেওয়াই এখানে ধাক্কাধাক্কি করে। পরে আমি বের হয়ে আসি।

কান্না জড়িত কণ্ঠে ফারহানা বলেন, আসলে আমি স্বাস্থ্য খাতে কাজ করছি। জনগণের জন্যই এই কোভিড পরিস্থিতিতে কাজ করছি। সিরিয়াল ভঙ্গ করে প্রবেশ করছি অনেকেই মনে করবে। অথচ সিরিয়ালে থেকেও রাতে ডিউটি করতে গিয়ে এখান এসে এখানে সিরিয়াল পাইনি। তাই আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে আহ্বান জানাই, তিনি যেন রেল যোগাযোগটা আরেকটু উন্নত করার জন্য বিবেচনা করেন।

লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা শর্মি বলেন, তিনি গতকাল (সোমবার) লাইনে ছিলেন। সারারাত তাকে দেখিনি, এখন এসে বলতেছে তিনি এখানে লাইনে ছিলেন। তাই জোর করে লাইনে ঢোকার চেষ্টা করছিলেন।

মেঘ নামে আরেক নারী বলেন, আমরা সারা রাত লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। তিনি এখন বলতেছে গতকাল (সোমবার) থেকেই লাইনে ছিলেন। টিকিট পাওয়া নিয়ে সবাই অনিশ্চয়তায়। তাই তাকে লাইনে ঢুকতে দেইনি।

এদিকে, যুথি আক্তার নামে এক পুলিশ কর্মকর্তা জাগো নিউজকে বলেন, গতকাল (সোমবার) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ওই নারী লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ব্যক্তিদের মধ্য থেকে একজন সিরিয়াল ম্যান্টেন করে। সে সময় তিনিও সিরিয়ালে ছিলেন। সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে থাকাদের সঙ্গে কথা বলেই তিনি গতকাল রাতে ডিউটিতে চলে যান। এখন সকালে টিকিট ছাড়ার আগেই যখন সিরিয়ালে দাঁড়াতে এসেছিল কেউ তাকে পেছন থেকে ঢুকতে দিচ্ছে না। আমরা কিছু বলতে গিয়েও বলতে পারেনি। কারণ যাত্রীরা পাশ থেকে হট্টগোল শুরু করে দিয়েছে।

আরএসএম/আরএডি/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।