ট্রেনের স্ট্যান্ডিং টিকিট পেয়েও খুশি ঘরমুখো মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:৩৪ পিএম, ০৬ জুলাই ২০২২

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে গত কয়েকদিন ধরেই ঢাকা ছাড়ছেন ঘরমুখো মানুষ। ট্রেনে-বাসে-লঞ্চে যে যেভাবে পারছেন বাড়ি ফিরছেন। তবে ঈদযাত্রায় ভোগান্তি এড়াতে বরাবরের মতোই মূল চাহিদা থাকে ট্রেনে। গত ১ জুলাই থেকে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়। কাঙ্ক্ষিত টিকিট পেতে দীর্ঘ সময় লাইনে অপেক্ষা করতে হয় টিকিটপ্রত্যাশীদের। অনেকে আবার অনলাইনে চেষ্টা করেও পাননি ট্রেনের অগ্রিম টিকিট। সব চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে স্ট্যান্ডিং টিকিট পেয়েই খুশি তারা।

বুধবার (৬ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে গিয়ে যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে এমনটাই জানা যায়।

দ্রুতযান এক্সপ্রেসে পঞ্চগড় যেতে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে আসেন জাহাঙ্গীর আলম। জাগো নিউজকে তিনি বলেন, বাড়িতে কবে যাবো সেটা নিশ্চিত ছিল না। তবে আজকে বাড়িতে যাবো বলেই স্টেশনে এসেছি। টিকিট না থাকায় স্ট্যান্ডিং টিকিট নেবো ভাবছি। কিন্তু এখনো টিকিট পাইনি। কাউন্টার থেকে বলেছে একটু অপেক্ষা করতে। কতগুলো টিকিট আছে সেটা দেখে তারা টিকেট ছাড়বে।

jagonews24

দিনাজপুরের পার্বতীপুর যাবেন রুহুল আমিন। টিকিট পেয়ে উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে তিনি বলেন, অনলাইনে টিকিট কাটার জন্য অনেকবার চেষ্টা করেছি, কিন্তু পারিনি। এরপরও তো বাড়ি যেতে হবে, তাই স্টেশনে আসলাম রাত আটটার ট্রেনে যাওয়ার জন্য। কাউন্টারে লাইনে এসে দাঁড়ালাম যেন অন্তত একটি টিকিট পাই। স্ট্যান্ডিং টিকিট পেয়েছি। এটা ভেবে ভালো লাগছে যে অন্তত দাঁড়িয়ে গেলেও ঈদটা বাড়িতে করতে পারবো।

মশিউর রহমান নামের আরেক যাত্রী বলেন, গত ঈদে বাড়ি যাইনি। ঈদ করতে এবার বাড়ি যাচ্ছি। অনলাইনে টিকিট পেতে তিনদিন চেষ্টা করেছি, তবে পাইনি। তাই পরে চিন্তা করলাম স্ট্যান্ডিং টিকিট কেটেই বাড়ি যাবো। রাত ৮টায় ট্রেন, তবে টিকিটের জন্য বিকেলেই চলে আসলাম। দাঁড়ানো হোক বা যাই হোক, একটা টিকিট পেলেই খুশি।

ঢাকায় থাকেন ইব্রাহিম। তবে জরুরি কাজে তাকে নওগাঁ যেতে হচ্ছে। এর আগে ট্রেনে মাত্র একবার ভ্রমণ করেছেন তিনি। বুধবার ট্রেনের টিকিট কাটতে এসে লাইনে দাঁড়িয়ে জাগো নিউজকে ইব্রাহিম বলেন, কোন ট্রেন যাবে, কখন যাবে, টিকিট কখন ছাড়বে- আসলে কিছুই জানি না। আসলাম, কোনোরকম একটা টিকিট পেয়ে নওগাঁ যেতে পারলেই হবে।

কাউন্টারে এসে টিকিটি পেয়ে উচ্ছ্বসিত নাজমুল হক জাগো নিউজকে বলেন, জয়পুরহাট যাবো, টিকিট পেয়েছি। স্ট্যান্ডিং টিকেট হলেও বাড়ি যেতে পারছি এটাই ভালো লাগছে।

এ বিষয়ে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের এক টিকিট বুকিং সহকারী জাগো নিউজকে বলেন, আজকে সবই স্ট্যান্ডিং টিকিট দেওয়া হচ্ছে। অনেক যাত্রী আসছেন স্ট্যান্ডিং টিকিট নেওয়ার জন্য। যতগুলো টিকিট রয়েছে সেগুলো আমরা যাত্রীদের দেওয়ার চেষ্টা করছি।

আরএসএম/কেএসআর/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।