প্রয়োজনীয় সব লাইসেন্স হালনাগাদ রয়েছে, দাবি বিএম ডিপো কর্তৃপক্ষের

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক চট্টগ্রাম
প্রকাশিত: ০৬:৪৭ পিএম, ০৭ জুলাই ২০২২
গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে বিএম ডিপো কর্তৃপক্ষের মতবিনিময়

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের বিএম ডিপোতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির প্রায় হাজার কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া, আইসিডি নীতিমালা অনুযায়ী সরকারি ২৫ সংস্থার হালনাগাদ করা লাইসেন্স-ছাড়পত্র রয়েছে বলে দাবি করেছে ডিপো কর্তৃপক্ষ।

বৃহস্পতিবার (৭ জুলাই) বিকেলে নগরীর একটি রেস্টুরেন্টে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এ তথ্য জানায় বিএম ডিপো কর্তৃপক্ষ।

এসময় লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিএম ডিপোর অভিভাবক প্রতিষ্ঠান স্মার্ট গ্রুপের মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মেজর (অব.) শামসুল হায়দার সিদ্দিকী।

লিখিত বক্তব্যে শামসুল হায়দার সিদ্দিকী বলেন, স্মার্ট গ্রুপ ২০০০ সালে পোশাক শিল্পের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে। এ পর্যন্ত আমাদের ২৫টি প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ কাজ করছেন। বিএম ডিপোতে প্রায় ছয় শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন।

তিনি বলেন, ২০১০ সালে দেশি-বিদেশি প্রায় ৫০০ কোটি টাকা বিনিয়োগে সীতাকুণ্ডের শীতলপুরে বিএম কন্টেইনার ডিপোটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। প্রতিষ্ঠার সময় থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) বেসরকারি ইনল্যান্ড কন্টেইনার ডিপো (আইসিডি) নীতিমালা ও নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের আইসিডি/অফডক নীতিমালা অনুযায়ী সরকারি ২৫টি সংস্থার প্রতিটির প্রয়োজনীয় লাইসেন্স-ছাড়পত্র নেয় বিএম ডিপো।

‘বর্তমানেও প্রতিটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স-ছাড়পত্র হালনাগাদ করা রয়েছে। বিপজ্জনক পণ্য (ডিজি গুডস) ব্যবস্থাপনার জন্য ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম ডেঞ্জারাস গুডস (আইএমডিজি) কোড মেনেই অপারেশনাল কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল এ ডিপো। সব ধরণের লাইসেন্স ও ছাড়পত্রের অনুলিপি এরই মধ্যে সরকারি তদন্ত কমিটিগুলোর সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, দুর্ঘটনার পর প্রতিশ্রুত অর্থসহায়তা দিতে শুরু করেছে ডিপো কর্তৃপক্ষ। এ পর্যন্ত নিহত ২৬ জন ও আহত ৪৩ জনের পরিবারকে মোট ৫ কোটি ৬৭ লাখ টাকা সহায়তা হিসেবে দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেক নিহতের পরিবারকে ১০ লাখ, অঙ্গ হারানো আহতদের ৬ লাখ ও সাধারণ আহতদের ৪ লাখ করে টাকা দেওয়া হয়েছে।

‘এছাড়া, ফায়ার সার্ভিসের নিহত সদস্যদের পরিবারকে ১৫ লাখ, অঙ্গ হারানো আহতদের ১০ লাখ ও সাধারণ আহতদের ৭ লাখ করে টাকা দেওয়া হয়েছে। নিহতদের মধ্যে যাদের পরিচয় শনাক্ত হয়নি ও যেগুলোতে আইনি জটিলতা রয়েছে, তাদের পরিবারকে পরবর্তী ধাপে অর্থ সহায়তা দেওয়া হবে।’

শামসুল হায়দার সিদ্দিকী আরও বলেন, নিহত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরিবারে কোনো উপার্জনক্ষম ব্যক্তি থাকলে যোগ্যতা অনুযায়ী তাদের চাকরির ব্যবস্থা করা হবে। যাদের পরিবারে উপার্জনক্ষম ব্যক্তি নেই ও যাদের ছোট সন্তান রয়েছে, তারা উপার্জনক্ষম না হওয়া পর্যন্ত নিহত কর্মীর মাসিক বেতন তাদের পরিবার পাবে।

‘দুর্ঘটনার পর এ পর্যন্ত ডিপোর প্রায় ৬০০ কর্মকর্তা-কর্মচারীর মে-জুন মাসের বেতন ও ঈদুল আজহার বোনাস পরিশোধ করা হয়েছে। নিহত-আহত প্রত্যেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর বাড়িতে গিয়ে বেতন-ভাতা-বোনাস পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।’

মতবিনিময়কালে বিএম ডিপোর পরিচালক শফিকুর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ইকবাল হোসেন/এসএএইচ/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।