ক্ষমতার কেন্দ্রিকরণ গণতন্ত্রের জন্য অশনি সংকেত: আকবর আলি খান

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২:৪৮ পিএম, ২৩ জুলাই ২০২২

গণতন্ত্র ছাড়া ধর্মনিরপেক্ষতা সম্ভব নয়। গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা ছাড়া অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। বাংলাদেশে সবশেষে যদি সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হয়, মারামারি ও হিংসার মাধ্যমে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। বাংলাদেশে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে গণতন্ত্রের মাধ্যমে। ক্ষমতার কেন্দ্রিকরণ গণতন্ত্রের জন্য একটি অশনি সংকেত। এসব কথা বলেছেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. আকবর আলি খান।

শনিবার (৩০ জুলাই) সকাল ১০ টায় রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে এমাজউদ্দিন আহমদ রিসার্চ সেন্টার আয়োজিত অধ্যাপক এমাজউদ্দিন আহমদের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্মারক বক্তৃতাতে অংশ নিয়ে একথা বলেন তিনি।

ড. আকবর আলি খান বলেন, আমি মনে করি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় উপাদান হলো গণতন্ত্র। আমরা যদি বাংলাদেশের ইতিহাস পড়ি তাহলে দেখতে পাবো অষ্টম শতাব্দীতে প্রথম বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রীতি শুরু হয়। বাংলাদেশের মানুষ সবসময়ই গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে। আমরা যদি বাংলাদেশ রাষ্ট্রের চার নীতি দিকে দেখি তাহলে নিঃসন্দেহে বলা যায় যে বাংলাদেশের রাজনীতির মূল স্তম্ভ হল গণতন্ত্র। কারণ হলো বাংলাদেশ রাষ্ট্রের যে আত্মপ্রকাশ সেটা হয়েছে গণতন্ত্রের মাধ্যমে। গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মধ্যেই আমরা বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছি। গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমেই বাংলাদেশে জাতীয়তাবাদের বিকাশ ঘটেছে এবং প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে।

দেশের প্রকৃত গণতন্ত্রের বিষয়ে তিনি বলেন, যে দেশে জনগণ সরকারকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে সেটিই হলো গণতন্ত্র। যে দেশে জনগণের নিয়ন্ত্রণ নাই সেটি ভোট হোক আর যাই হোক সেটিকে প্রকৃত নির্বাচন বলা চলে না এবং এই দিক থেকে দেখতে গেলে আমাদের এখানে গণতন্ত্র গড়ার প্রয়োজন রয়েছে।

ড. আকবর আলি খান বলেন, ৮০ বছর উপলক্ষে এমাজউদ্দিনের যে সংবর্ধনা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয় এতে দেখা যায়, সব দলের লোকের তিনি উপকার করেছেন। সবার মতামত ব্যক্ত করার স্বাধীনতার পক্ষে কাজ করেছেন। সেখানে এক জায়গায় লেখা ছিল অধ্যাপক এমাজউদ্দিন যখন ফজলুল হক মুসলিম হলের সহ-সভাপতি ছিলেন তখন ফজলুল হক হলের বার্ষিক ভোজ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেই ভোজে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শেরেবাংলা একে ফজলুল হক। এছাড়া মজলুম জননেতা মাওলানা ভাসানী ও হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী এই তিনজনকে তিনি তার বার্ষিক সভায় নিয়ে এসেছিলেন। এটা এমাজ ভাইয়ের পক্ষেই সম্ভব ছিল। কারণ তিনি সমঝোতার রাজনীতি করতেন তিনি সংঘাতের রাজনীতি করতেন না। সবাইকে একসঙ্গে কিভাবে আনা যায় সেজন্য তিনি সারাজীবন সাধনা করেছেন এটি তার একটি বড় উদাহরণ।

অধ্যাপক এমাজউদ্দিনের পররাষ্ট্রনীতির দর্শন উল্লেখ করে তিনি বলেন, পররাষ্ট্র নীতি নিয়ে অনেক লিখেছেন তার মধ্যে একটি হলো বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে মধ্যপ্রাচ্যের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে এবং সতর্ক থাকা উচিত। তার লেখা পড়লেই বোঝা যায় তিনি কোনো স্থায়ী বন্ধুত্বে বিশ্বাস করতেন না। তিনি বিশ্বাস করতেন রাষ্ট্রের স্বার্থ হলো স্থায়ী। কোনো বন্ধু স্থায়ী নয়। সেই দিক থেকে আমাদেরকে পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনার ইঙ্গিত দিয়ে গেছেন।

উদার গণতন্ত্রের অধ্যাপক এমাজউদ্দিন বিশ্বাস করতেন উল্লেখ করে ড. আকবর আলি খান আরও বলেন, তিনি গণতন্ত্র এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন। তার দুটি ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য তিনি উদারনীতি গণতন্ত্রে বিশ্বাসী ছিলেন সব দলের সঙ্গে তার সুসম্পর্ক ছিল। বাংলাদেশে গণতন্ত্রের অপরিহার্যতা নিয়ে তিনি বলেছেন এবং লিখেছেন।

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল লতিফ মাসুম এর সভাপতিত্বে আলোচনায় আরও অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক ড. লুৎফর রহমান, অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ, অধ্যাপক নাজমুল হাসান কলিমুল্লাহ, কবি আবদুল হাই শিকদার প্রমুখ।

আরএসএম/জেএস/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।