নিয়োগ বিধিমালার সংশোধন চায় রেলওয়ে পোষ্য সোসাইটি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:৪৪ পিএম, ২৪ জুলাই ২০২২

আগামী এক মাসের মধ্যে রেলওয়ে ক্যাডার বহির্ভূত কর্মচারী নিয়োগ বিধিমালা ২০২০ সংশোধনসহ আট দফা দাবি জানিয়েছে রেলওয়ে পোষ্য সোসাইটি নামে একটি সংগঠন।

রোববার (২৪ জুলাই) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে এসব দাবি জানানো হয়।

মানববন্ধনে সভাপতির বক্তব্যে সংগঠনের সভাপতি মো. মনিরুজ্জামান মনির বলেন, সংশোধিত রেলওয়ে ক্যাডার বহির্ভূত কর্মচারী নিয়োগ বিধিমালা—২০২০ সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। এ নিয়োগবিধি মূলত রেলওয়ের শ্রমিক—কর্মচারী ও পোষ্যদের অধিকার বঞ্চিত করার এক ঐতিহাসিক দলিল। রেলওয়ে কর্মচারীবান্ধব নিয়োগবিধি প্রণয়নের দাবিতে রেলওয়ের সব ট্রেড ইউনিয়ন ও রেলওয়ে পোষ্য সোসাইটি দাবি জানিয়েছিল। কিন্তু রেলপথ মন্ত্রণালয় তা কর্ণপাত না করে জনবল নিয়োগের জন্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি জারি করে। এতে রেলওয়ে শ্রমিক—কর্মচারী ও পোষ্যদের মধ্যে চরম হতাশা, ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি বলেন, রেলওয়ে প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকেই সম্পূর্ণ আলাদা। সংশোধিত রেলওয়ে ক্যাডার বহির্ভূত কর্মচারী নিয়োগ বিধিমালা—২০২০ বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রচলিত বিধি—বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। রেলওয়ে একটি সম্পূর্ণ বিশেষায়িত টেকনিক্যাল প্রতিষ্ঠান। সামগ্রিকভাবে রেলওয়ের কর্মপদ্ধতি এবং কর্মকর্তা—কর্মচারীদের পদ—পদবি অন্য কোনো মন্ত্রণালয় বা বিভাগ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। স্বাভাবিক কারণে রেলওয়ে শ্রমিক—কর্মচারী ও পোষ্যরা মনে করে রেলওয়ে তাদের স্বতন্ত্র আইন দ্বারা পরিচালিত হয়ে আসছে এবং রেলওয়েকে চলমান স্বতন্ত্র প্রক্রিয়ায় পরিচালনা করা উচিত।

রেলওয়ে পোষ্য সোসাইটি দাবিগুলো হলো:

১. সংশোধিত নিয়োগ বিধিমালা-২০২০ সংশোধনপূর্বক রেলওয়ে কর্মচারীবান্ধব নিয়োগবিধি প্রণয়ন এবং আইবাস সিস্টেম রেল উপযোগী করে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে রেলওয়ের সব ট্রেড ইউনিয়ন ও উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা ও রেলওয়ে পোষ্য সোসাইটির সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রতিটি রেল কর্মচারীর পরিবার থেকে কমপক্ষে একজন পোষ্যর চাকরি নিশ্চিত করা।

২. প্রকাশিত ৮৬৫ জন খালাসী ও ১১১৩ জন ওয়েম্যানের ফলাফল থেকে অধিকার বঞ্চিত আন্দোলনরত রেলওয়ে পোষ্যদের পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চল মহাব্যবস্থাপক কর্তৃক অনুমোদিত তালিকা অনুযায়ী খালাসী ও ওয়েম্যান পদে নিয়োগ দেওয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া এবং জনবল নিয়োগের জন্য নিয়োগবিধি ১৯৮৫ অনুযায়ী জারিকৃত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির পরীক্ষা গ্রহণ সম্পন্ন হওয়া এবং আবেদিত চাকরি প্রত্যাশীদের পরীক্ষা গ্রহণ ও নিয়োগ সম্পন্ন করা।

৩. জনবল কাঠামো পুনর্গঠনের নামে মাথাভারি প্রশাসন সৃষ্টির আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত বাতিল করে মাঠ পর্যায়ে কাজ করা শ্রমিকদের পদ বাড়াতে হবে। প্রকল্পে নিয়োজিত শ্রমিকদের স্থায়ীকরণ, রেলওয়েতে সব প্রকার আউটসোর্সিংয়ের নামে পকেটসোর্সিং বন্ধ করতে হবে।

৪. রেলওয়ের রাজস্ব আয় বাড়ানো ও রেলওয়ে পোষ্যদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে রেলওয়ের ভূমি লিজ দেওয়ার প্রক্রিয়া পুনর্গঠন করে অব্যবহৃত ভূমি রেলওয়ে পোষ্য সুপার মার্কেট, বনায়ন, মৎস্য, কৃষি ও গবাদিপশু পালন প্রকল্পের মাধ্যমে রেলওয়ে পোষ্যদের বেকারত্বের অভিশাপ হতে মুক্তির লক্ষ্যে বিভিন্ন ব্যবসায়ী সমিতি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির ন্যয় বাংলাদেশ রেলওয়ে পোষ্য সোসাইটিকে ভূমি লীজ প্রদান ও রেলওয়ের ভূমিতে পিপিপির আওতায় যে সমস্ত প্রতিষ্ঠানকে ভূমি লীজ দেওয়া হচ্ছে, সে সকল প্রতিষ্ঠানে জনবল নিয়োগের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে রেলওয়ে পোষ্যদের নিয়োগের বিষয়টি চুক্তিপত্রে উল্লেখ করা।

৫. অবসরপ্রাপ্ত ও মৃত্যুবরণকারী কর্মচারীদের ফাইনাল সেটেলমেন্ট এর কাজ সরকার নির্ধারিত দুই মাস সময়ের মধ্যে দ্রুত নিষ্পত্তি করণ ও কর্মরত অবস্থায় মৃত্যুবরণকারী শ্রমিক-কর্মচারীর পোষ্যদের যোগ্যতানুযায়ী দ্রুততার সহিত নিয়োগ সম্পন্নকরণ করা।

৬. নিয়োগ, ক্রয়, ঠিকাদারি কাজ ও প্রকল্প বাস্তবায়নে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধিসহ সব প্রকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত টিম কর্তৃক দ্রুততম সময়ে তদন্ত সাপেক্ষে সব ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

৭. রেলওয়ে শ্রমিক-কর্মচারী ও পোষ্যদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকল্পে রেলওয়ে হাসপাতালগুলোয় আধুনিক চিকিৎসার সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। রেলওয়ের শ্রমিক-কর্মচারীর সন্তানদের স্বল্প ব্যয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের লক্ষ্যে রেলওয়ে পোষ্য সোসাইটির অধীনে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ন্যায় রেলওয়ে পোষ্য ইন্টারন্যাশনাল-স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়, টেকনিক্যাল ও মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠায় অব্যবহৃত রেল ভূমি লিজ দেওয়া।

৮. অবসরপ্রাপ্ত ও কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীদের আবাসনের জন্য ১০ শতাংশ করে পরিত্যক্ত রেল ভূমি লিজের মাধ্যমে স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করার দাবি জানাচ্ছি, এ ক্ষেত্রে ভারতীয় রেলওয়ের মডেল অনুসরণ করা।

মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশ রেলওয়ে পোষ্য সোসাইটির উপদেষ্টা আব্দুর রাজ্জাক মল্লিক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন সাগর, সহ—সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবির রাব্বি, চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি সাইদুজ্জামান শিপন, সহ—সভাপতি দেলোয়ার হোসেন বাপ্পি, সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল আলম ঠাকুর, সাংগঠনিক সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম রানা, দপ্তর সম্পাদক শাকেল হোসেন শাকিল, রেলপোষ্য ও চট্টগ্রাম প্রতিদিনের সিনিয়র রিপোর্টার জাহাঙ্গীর শুভ, সহ—দপ্তর সম্পাদক মো. মাহাবুব রহমান মানিক প্রমুখ।

ইএআর/আরএডি/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।