তেলের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার দাবি যাত্রী কল্যাণ সমিতির

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:৫০ পিএম, ০৬ আগস্ট ২০২২
জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ করে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি

জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

শনিবার (৬ আগস্ট) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধনে এই দাবি জানায় সংগঠনটি। শুক্রবার রাতে সরকার ঘোষিত জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে এই সমাবেশ ডাকা হয়।

প্রতিবাদ সমাবেশে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊধ্র্বগতিতে সাধারণ মানুষ দিশেহারা, এরকম চরম এক দুঃসময়ে জ্বালানি তেলের দাম একলাফে প্রায় ৫০ শতাংশ বাড়ানোর ফলে জনজীবনে চরম দুর্ভোগ নেমে এসেছে। তেলের দাম বাড়ায় পরিবহন ব্যয় দ্বিগুণ বেড়ে যাবে। নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যমূল্য সাধারণ মানুষের সামর্থ্যের বাইরে চলে যাবে। এরইমধ্যে পরিবহন সেক্টরে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হবে, ফলে আমদানির ওপর নির্ভরশীলতা বাড়বে।

তিনি বলেন, জ্বালানির দাম বাড়ায় প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে অনেক ছোট ছোট শিল্প-কলকারখানা বন্ধ হয়ে যাবে। ফলে একদিকে আমদানি ব্যয় বাড়বে, অন্যদিকে জাতীয় অর্থনীতিতে চাপ আরও বাড়বে। বেকারত্ব সমস্যা আরও প্রকট হবে।

মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, আমাদের দেশে সাধারণত তেলের দাম যে পরিমাণ বাড়ে তার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি বাড়ে বাস ও অন্যান্য গণপরিবহন ভাড়া। পণ্য পরিবহন ভাড়াও ইচ্ছেমতো বাড়িয়ে দেন ট্রাক-কাভার্ডভ্যান মালিকেরা। বাসের ক্ষেত্রে সরকার ও বাসের মালিক-শ্রমিক নেতারা মিলেমিশে একচেটিয়াভাবে যে পরিমাণ ভাড়া বাড়ায় তার চেয়েও কয়েকগুণ বাড়তি ভাড়া আদায় করে। সরকার বাসের ভাড়া বাড়িয়ে দিলেও সে অনুযায়ী বাসে আদায় হচ্ছে কি না তা তদারকি বা বর্ধিত ভাড়া আদায় বন্ধে তেমন কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারে না।

তিনি আরও বলেন, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ালেও বর্তমানে তা নিম্নমুখী। এই সময়ে বাজার পর্যবেক্ষণ না করে কেবল আইএমএফের প্রেসক্রিপশন বাস্তবায়নে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক ও গণবিরোধী। অনতিবিলম্বে বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার করে পূর্বের মূল্য বহাল রাখার দাবি জানান তিনি।

প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা বলেন, সরকার গত নভেম্বরে ডিজেল ও কেরোসিনের দাম এক লাফে ১৫ টাকা বৃদ্ধি করেছিল। তখন দাম নির্ধারণ করা হয় ৮০ টাকা লিটার। ডিজেলের দাম বাড়ানোর পর বাস ভাড়া বাড়ানো হয় প্রায় ২৭ শতাংশ, লঞ্চ ভাড়া বাড়ানো হয় ৩৫ শতাংশ। যা তেলের দাম বাড়ানো হারের চেয়ে ছিল অনেক বেশি।

সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন, সংগঠনের সহ-সভাপতি তাওহিদুল হক লিটন, যুগ্ম মহাসচিব এম. মনিরুল হক, প্রচার সম্পাদক মাহমুদুল হাসান রাসেল প্রমুখ।

আরএসএম/কেএসআর/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]