‘দুপুর পর্যন্ত ১০ লিটারের বেশি অকটেন বিক্রি করতে পারিনি’

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:১৩ পিএম, ০৬ আগস্ট ২০২২

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে ফিলিং স্টেশনগুলোতে (পাম্প)। রাজধানীর এক নম্বর, টেকনিক্যাল, গাবতলীর একাধিক তেলের পাম্প ঘুরে দেখা যায়, স্টেশনগুলোতে অকটেন, ডিজেলের চাহিদা অন্যদিনের তুলনায় কম। দু-একটি করে মোটরসাইকেল, গাড়ি আসছে অকটেন বা পেট্রল নিতে। দুপুর ১২টা পর্যন্ত ১০ লিটার ডিজেলও বিক্রি করতে পারেনি টেকনিক্যাল রোডের পূর্বাচল গ্যাস ফিলিং স্টেশন। শনিবার (৬ আগস্ট) বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনেতে তেল নেওয়া যানবাহনের সংখ্যা ছিল কম। স্টেশনগুলোর ম্যানেজাররা বলছেন, মোটরসাইকেলে অকটেন নেওয়ার ভিড় গেছে গতকাল (শুক্রবার) রাতে। স্বাভাবিক সময়ে যে পরিমাণ তেল বিক্রি হয়, আজ তেমনটা নেই।

শনিবার দুপুরে মিরপুর-১ নম্বরের স্যাম অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেড স্টেশনে মোটরসাইকেলের লম্বা লাইন দেখা যায়। কর্মচারীরা বলছেন, অকটেন বিক্রি স্বাভাবিক হলেও ডিজেল, পেট্রল বিক্রি কমেছে।

টেকনিক্যাল মোড়ের ডেনসো ফিলিং স্টেশনেও মোটরসাইকেলের লাইন ছিল না। স্টেশনটির ম্যানেজার শাহ আলম জাগো নিউজকে বলেন, দাম বাড়ার পর আজ তেল নেওয়ার চাপ কম। আমরা তেলও বিক্রি করি। যেহেতু এটা গ্যাসের পাম্প, এখান থেকে চালকরা তেল কম নেন। গতকাল (শুক্রবার) রাতে আমরা অনেক তেল বিক্রি করেছি। কোনো সমস্যা হয়নি।

তিনি বলেন, অন্যান্য দিনের চেয়ে আজ তেলের চাহিদা কম। আজ সারাদিন প্রায় ১০ লিটারের মতো অকটেন বিক্রি হয়েছে, ডিজেল এখনো বিক্রি হয়নি।

একই সড়কের আল মাহমুদ ফিলিং স্টেশনের অ্যাকাউন্টস ম্যানেজার মোতাহার হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, গতকাল (শুক্রবার) রাতে একটু ঝামেলা হয়েছে। কিছু মোটরসাইকেলচালক চিৎকার, চেঁচামেচি করেছেন। পুলিশে এসেছে। তবে আমরা তেল দেওয়া বন্ধ করিনি।

তিনি আরও বলেন, আজ গাড়ির চাপ কম। অন্যদিনের মতো গ্রাহক নেই। দাম বাড়তি, মানুষ বুঝে উঠতে পারছে না, কী করবে। অন্য শনিবার যে পরিমাণ তেল বিক্রি হতো আজ সেই পরিমাণ বিক্রি হচ্ছে না।

এদিকে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে দুশ্চিন্তায় উবার-পাঠাও চালকরা। মিরপুর-১ নম্বরের স্টার সিনেপ্লেক্সের সিনেমা হলের সামনে রাইড শেয়ারিং চালক নাইমুদ্দিন বলেন, এটা অমানবিক সিদ্ধান্ত। হঠাৎ করে রাতের আধারে এমন জরুরি সিদ্ধান্ত সরকার নিতে পারে না। আমার ক্ষমতা তিন কেজি, আপনি যদি আমার ওপর ১০ কেজির বোঝা চাপিয়ে দেন বাঁচবো কী করে। সরকারকে এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে হবে।

শুক্রবার (৫ আগস্ট) রাত থেকেই কার্যকর হয়েছে সরকার ঘোষিত ডিজেল, পেট্রল, কেরোসিন ও অকটেনের নতুন দাম। দাম বেড়েছে প্রতি লিটার ডিজেলে ৩৪, কেরোসিনে ৩৪, অকটেনে ৪৬ ও পেট্রলে ৪৪ টাকা। দাম বাড়ার পর প্রতি লিটার ডিজেল ১১৪ টাকা, কেরোসিন ১১৪ টাকা, অকটেন ১৩৫ টাকা ও পেট্রল ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আগে ভোক্তা পর্যায়ে খুচরা তেলের দাম ছিল প্রতি লিটার ডিজেল ৮০ টাকা, কেরোসিন ৮০ টাকা, অকটেন ৮৯ টাকা ও পেট্রল ৮৬ টাকা।

এসএম/আরএডি/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]