দূরপাল্লার বাসে যাত্রী কম, রাতের একাধিক শিডিউল বাতিল

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:০০ পিএম, ০৬ আগস্ট ২০২২

দেশের বাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে দূরপাল্লার গণপরিবহনের ভাড়াও। শনিবার (৬ আগস্ট) সকাল থেকেই প্রায় সব গণপরিবহনে বাড়তি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ করছেন যাত্রীরা। রাতে গাবতলী বাস টার্মিনালে দেখা গেছে, বাড়তি ভাড়ার কারণে যাত্রী কম হওয়ায় অধিকাংশ বাসের শিডিউল বাতিল হয়েছে। অন্য সময়ে গাবতলীতে যাত্রীদের অনেক ভিড় থাকতো।

সংশ্লিষ্ট বাস কর্তৃপক্ষ বলছে, তেলের দামের সঙ্গে সঙ্গে যাত্রী কমে গেছে। রাতে যেখানে অধিকাংশ বাসে সিট খালি থাকতো না সেখানে অর্ধেক সিটও ফিলআপ হচ্ছে না।

যাত্রীরা বলছেন, এভাবে বাসের ভাড়া বাড়ালে আমরা চলাচল করবো কীভাবে। সেই তুলনায় তাদের ইনকাম বাড়েনি। মাত্র এক বছরের ভেতর দুবার বাসভাড়া বৃদ্ধি অযৌক্তিক। সাড়ে ৪০০ টাকার ভাড়া এখন গুনতে হচ্ছে সাড়ে ৬০০ টাকা।

jagonews24

শনিবার (৬ আগস্ট) রাতে গাবতলী বাস টার্মিনাল ঘুরে এসব চিত্র দেখা যায়।

রাজধানীর গাবতলী বাস কাউন্টারগুলোতে দেখা যায়, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) অনুমতি ছাড়াই প্রতিটি বাসে আসনপ্রতি ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়া হচ্ছে। এতে বিপাকে পড়েছেন দূরপাল্লার যাত্রীরা।

হঠাৎ করে ভাড়া বাড়তি নেওয়ার কারণে কমে গেছে যাত্রী। বাসপ্রতি অর্ধেক যাত্রীও পাচ্ছে না বলে অভিযোগ করছে বাস মালিক কর্তৃপক্ষ। তিন-চারটি ট্রিপের যাত্রী এক করে একটি বাসের সিট ফিলআপ হচ্ছে। এতে লোকসানের আশঙ্কা করছেন বাস মালিকরা।

কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহগামী এসবি সুপার ডিলাক্সের কাউন্টার প্রতিনিধি আলিমুজ্জামান আলাল জাগো নিউজকে বলেন, যাত্রী কম থাকায় আজ রাত ৭টা ও ৯টার ট্রিপ বাতিল করা হয়েছে। একদিকে সবকিছুর দাম বেশি অন্যদিকে যাত্রী না হলে আমাদের না খেয়ে মরতে হবে।

jagonews24

তিনি বলেন, সাড়ে ৫টায় গাবতলী থেকে ছেড়ে যায় এসবি সুলার ডিলাক্সের এসি বাস। যেখানে ৩৬ সিটের বিপরীতে যাত্রী ছিল মাত্র ৯ জন। অন্ততপক্ষে অর্ধেক যাত্রী থাকতো তাও তেল খরচে টাকাটা থাকতো। কিন্তু ৯ জন যাত্রী নিয়ে এতো খরচ কীভাবে তুলবো?

খুলনা-যশোরগামী ঈগল পরিবহনের কাউন্টারের টিকিট ম্যানেজার আফজাল হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ঢাকা থেকে খুলনার ভাড়া ছিল ৬৯০। সেখানে আমরা ৭৫০ টাকা করেছি। আর এসি গাড়ির ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ১ হাজার ৪০০। তবে ভাড়া বাড়তি নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যাত্রীও কমে গেছে ৬০-৭০ শতাংশ। বেশিরভাগ বাসে সর্বোচ্চ ১০-১৫ জন যাত্রী নিয়েই ঢাকা ছাড়ছে।

চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুরগামী চুয়াডাঙ্গা ডিলাক্সের টিকিট কাউন্টারের প্রতিনিধি আব্দুল খালেক জাগো নিউজকে বলেন, রাত ৭টা থেকে ১২টা পর্যন্ত প্রায় প্রতি ঘণ্টায় ঘণ্টায় আমাদের বাস ঢাকা ছেড়ে যায়। রাতের বাসের শিডিউলে ৮-১০ জন ছাড়া যাত্রী নেই। মনে হচ্ছে কিছু ট্রিপ বাতিল করে একটি গাড়ি দিতে হবে। না হলে লোকশান গুনবে কে?

রংপুর-দিনাজপুরগামী এস আর ট্রাভেলসের যাত্রী সোবহান সিকদার। জাগো নিউজকে তিনি বলেন, রাত সাড়ে ৯টায় ৭৫০ টাকা দিয়ে রংপুরের টিকিট কেটেছি। এভাবে দিনের পর দিন ভাড়া বাড়তে থাকলে আমাদের মতো যাত্রীরা কীভাবে যাতায়াত করবে।

আজ পর্যন্ত ভাড়া বাড়তি নেওয়ার চিত্রও রয়েছে গাবতলী বাস টার্মিনালে। ফরিদপুর-পটুয়াখালী-কুয়াকাটাগামী গোল্ডেন লাইনের কাউন্টার ম্যানেজার আক্তার হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, আমরা আগের ভাড়াই যাত্রীদের কাছ থেকে নিচ্ছি। তবে আজ বাড়তি না নিলেও সরকারিভাবে সিদ্ধান্তের পরে বাড়তি ভাড়া নিতে হবে।

jagonews24

তাদের বাসেও যাত্রী কম বলে জানান গোল্ডেন লাইনের কাউন্টার ম্যানেজার।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ বলেন, গতকাল (শুক্রবার) রাত ১২টা থেকে দেশে জ্বালানি তেলের দাম গড়ে ৫০ শতাংশ বাড়িয়েছে সরকার। এতে বাস পরিচালনার ব্যয় বেড়ে গেছে। তাই বাসভাড়া সমন্বয় করা জরুরি।

এর আগে শুক্রবার (৫ আগস্ট) দিবাগত রাতে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেয় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। ঘোষণা অনুযায়ী, প্রতি লিটার ডিজেল ও কেরোসিনে দাম বেড়েছে ৩৪ টাকা, অকটেনে ৪৬ এবং পেট্রলে বেড়েছে ৪৪ টাকা। দাম বাড়ার পর প্রতি লিটার ডিজেল ১১৪ টাকা, কেরোসিন ১১৪ টাকা, অকটেন ১৩৫ ও পেট্রল ১৩০ টাকায় কিনতে হবে। দাম বাড়ার আগে খুচরা বাজারে প্রতি লিটার ডিজেল ৮০ টাকা, কেরোসিন ৮০, অকটেন ৮৯ ও পেট্রল ৮৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল।

টিটি/জেএইচ/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]