ট্রাকে ঢাকায় ইয়াবা এনে চালক নিতেন ৫০ হাজার, সহকারী ২০

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১:৩৪ পিএম, ০৭ আগস্ট ২০২২

কাজ হলো কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে ইয়াবার চালান ঢাকায় পৌঁছে দেওয়া। এজন্য প্রতি চালানে ট্রাকচালক পেতেন ৫০ হাজার টাকা। আর ২০ হাজার টাকা যেতো হেলপারের হাতে। এই চালান দেখাশুনার জন্য আবার থাকতো একজন ম্যানেজার। এ জন্য তিনি পেতেন ৩০-৫০ হাজার টাকা।

সাধারণত টেকনাফ থেকে ঢাকায় বৈধ মালামাল নিয়ে কোনো ট্রাক এলে চালক পান ৫-৮ হাজার টাকা এবং হেলপার পান ২-৩ হাজার টাকা। তাই বেশি লাভের আশায় অসাধু ট্রাকচালক ও হেলপাররা মালামালের সঙ্গে ইয়াবা নিয়ে আসতেন।

শনিবার রাতে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে অভিযান চালিয়ে এমনই একটি ট্রাক (ঢাকা মেট্রো-ট-১৩-৫৪২৮) জব্দ করে র‌্যাব। এসময় ট্রাকের তেলের ট্যাংকিতে বিশেষ কায়দায় লুকানো অবস্থায় ১ লাখ ৯০ হাজার পিস ইয়াবা পাওয়া যায়। এছাড়া উদ্ধার করা হয় চারটি মোবাইল ও মাদক বিক্রির নগদ ৩১ হাজার ৭০০ টাকা।

ট্রাকে ঢাকায় ইয়াবা এনে চালক নিতেন ৫০ হাজার, সহকারী ২০

এসময় ম্যানেজার মো. আমিনুল ইসলাম (২৬), ট্রাকচালক মো. নুরুল ইসলাম (৪৮) ও হেলপার মো. হেদায়েত উল্লাহকে (২০) গ্রেফতার করা হয়।

ট্রাকটির মালিকের নাম  সোহেল। তিনি ও ম্যানেজার আমিনুল টেকনাফের সিন্ডিকেট থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করেন। ইয়াবা সংগ্রহের পর সোহেলের নির্দেশনায় আমিনুল দেশের বিভিন্ন স্থানে সেগুলো পৌঁছে দেয়।

রোববার (৭ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

ট্রাকে ঢাকায় ইয়াবা এনে চালক নিতেন ৫০ হাজার, সহকারী ২০

তিনি বলেন, চক্রটি টেকনাফ থেকে ইয়াবা ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও টাঙ্গাইলসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পৌঁছে দিতো। মূলত ট্রাকের মালিক সোহেলের নেতৃত্বে গত ৪-৫ বছর ধরে এই চক্রটি পরিবহন ব্যবসার আড়ালে দেশের বিভিন্ন স্থানে ইয়াবা পাচার করে আসছে। চক্রটি পণ্যবাহী পরিবহনের চালক ও সহকারীকে মোটা অংকের টাকার প্রলোভন দেখিয়ে ইয়াবা পরিবহন করতো। এই ইয়াবাপাচার চক্রের সদস্য সংখ্যা ৭-৮ জন।

র‌্যাব জানায়, জব্দ করা ইয়াবার বাজারমূল্য প্রায় ৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, তেলের ট্যাংকিতে ইয়াবা রাখার পর সোহেল, আমিনুল ও নুরুল ইসলাম প্রথমে ট্রাক নিয়ে টেকনাফ থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওয়ানা করেন। চট্টগ্রাম আসার পর সোহেল ট্রাক থেকে নেমে যান। এরপর নুরুল ও হেদায়েতকে নিয়ে চট্টগ্রাম থেকে গাজীপুরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা করেন আমিনুল।

তিনি আরও বলেন, তাদের ট্রাকে অন্য কোনো মালামাল ছিল না। পথিমধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন চেকপোস্টে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা জানায়, গাজীপুর থেকে মালামাল লোড করে চট্টগ্রাম নিয়ে আসার জন্য তারা খালি ট্রাক নিয়ে গাজীপুর যাচ্ছে।

jagonews24

র‍্যাবের মুখপাত্র বলেন, গ্রেফতার আমিনুল অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন। অধিক অর্থ উপার্জনের উদ্দেশ্যে ট্রাক মালিক সোহেলের প্ররোচনায় মাদকপাচারে যুক্ত হন তিনি। মাদকের একটি চালান নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দিতে পারলে আমিনুল চালানপ্রতি ৩০-৫০ হাজার টাকা পেতেন। আমিনুল একাধিক মামলায় ইতোপূর্বে দুইবার বিভিন্ন মেয়াদে কারাভোগ করেছেন।

এদিকে মাদকের একটি চালান পৌঁছাতে পারলে ট্রাকচালক হিসেবে নুরুল পেতেন ৫০ হাজার টাকা।

কমান্ডার খন্দকার আল মঈন আরও বলেন, গ্রেফতার হেদায়েত আগে টেম্পুচালক ছিলেন। তারও যানবাহন চালনার কোনো বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই। হেলপারের কাজ করতে গিয়ে ট্রাক চালানো শেখেন। সোহেল ও হেদায়েতের উভয়ের বাড়ি চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে হওয়ায় এলাকার বন্ধুদের মাধ্যমে সোহেলের সঙ্গে পরিচয় হয় তার। সোহেলের বিশ্বস্ত হওয়ায় মাদক বহনের সময় তিনি ট্রাকের চালক ও হেলপার উভয় ভূমিকা পালন করেন। মাদকের একটি চালান পৌঁছাতে পারলে তিনি ১৫-২০ হাজার টাকা পেতেন।

পলাতক ট্রাক মালিক সোহেলের বিষয়ে র‍্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, সোহেলের বিষয়ে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তাকেও গ্রেফতার করা হবে।

টিটি/জেডএইচ/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।