জ্বালানিনির্ভরতা কমাতে হাঁটার পরিবেশ নিশ্চিতকরণের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:৩০ পিএম, ০৭ আগস্ট ২০২২

‘পথচারী নিরাপত্তা প্রবিধানমালা-২০২১’ দ্রুত প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করে পথচারীদের নিরাপদে এবং স্বাচ্ছন্দে হেঁটে যাতায়াত নিশ্চিতকরণের দাবি জানিয়েছেন পরিবেশবাদীরা।

রোববার (৭ আগস্ট) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনসহ (পবা) ১৯টি সংগঠনের সম্মিলিত উদ্যোগে আয়োজিত ‘জ্বালানি সাশ্রয় ও হাঁটাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে পথচারী প্রবিধানমালা দ্রুত প্রণয়ন এবং বাস্তবায়ন করুন’ শীর্ষক অবস্থান কর্মসূচিতে এ দাবি জানানো হয়।

বক্তারা বলেন, ঢাকা শহরের প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষ কোনো না কোনোভাবে হেঁটে যাতায়াত করা সত্ত্বেও নগর যাতায়াত পরিকল্পনায় হেঁটে যাতায়াতের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়নি। উপরন্তু ব্যক্তিগত গাড়িবান্ধব অবকাঠামো (এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, ফ্লাইওভার) প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে ও ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা বেড়েছে বহুগুণে। এতে নগরে যানজট, দূষণ, দুর্ঘটনাসহ সমস্যাগুলোও বেড়ে গেছে। বর্তমান প্রেক্ষাপট বিবেচনায় এবং ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার বৃদ্ধির ফলে সৃষ্ট সমস্যাগুলো হ্রাসের লক্ষ্যে ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও পথচারীবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলা আবশ্যক।

তারা বলেন, বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও। ব্যক্তিগত গাড়ির নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জ্বালানি অপচয় রোধ করার ক্ষেত্রে কার্যকরী ভূমিকা পালন সম্ভব। জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে। সম্প্রতি সংকটের মুখে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি পেয়েছে। যার প্রভাবে জনসাধারণের যাতায়াত ব্যয় ছাড়াও অন্যান্য খরচও বাড়বে। ঢাকা শহরে ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা ক্রমেই বেড়ে চলছে। ফলে শুধু জ্বালানি অপচয় নয়, বৃদ্ধি পাচ্ছে যানজট, দুর্ঘটনা, দূষণ। ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে এসব সমস্যা হ্রাস করা সম্ভব।

জ্বালানি নির্ভরতা কমাতে হাঁটার পরিবেশ নিশ্চিতকরণের দাবি

বক্তারা আরও বলেন, হেঁটে যাতায়াতের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ শহরের অধিকাংশ মানুষ হাঁটা, রিকশা, গণপরিবহনের ওপর নির্ভরশীল। হেঁটে যাতায়াতের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা হলে সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে।

ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্টের পরিচালক গাউস পিয়ারীর সভাপতিত্বে ও প্রকল্প কর্মকর্তা প্রমা সাহার সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন প্রজেক্ট ম্যানেজার নাঈমা আকতার, রায়েরবাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তাহাজ্জত হোসেন, ডিজ্যাবিলিটি ডিফারেন্ট প্রোগ্রামের নির্বাহী পরিচালক জাকির হোসেন, বি-স্ক্যানের কো-অর্ডিনেটর ইফতেখার মাহমুদ, লিও ক্লাব অফ ঢাকা ওয়েসিস এর পরিচালক আকিব দীপু, ছায়াতল বাংলাদেশের ভলান্টিয়ার কাকলী কাদেরসহ আরও অনেকে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ আন্দোলন মঞ্চ, মানবাধিকার উন্নয়ন কেন্দ্র, ধানমন্ডি কচিকণ্ঠ হাইস্কুল, ডাব্লিউডিডিএফ, প্রতিবন্ধী নারীদের জাতীয় পরিষদ, এসডিএসএল, টিম ইনক্লুশন বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন, সিসিএবি, বিওয়াইসিএন, দি ইনস্টিটিউট অব ওয়েলবীইং বাংলাদেশের নেতারা।

আরএসএম/আরএডি/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।