হোসেনি দালানে তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতি সম্পন্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:৩৮ পিএম, ০৮ আগস্ট ২০২২

হিজরি বছরের প্রথম মাস মহররমের ১০ তারিখ আশুরা, যা মুসলিম বিশ্বে ত্যাগ ও শোকের প্রতীক। এ দিনে হজরত মুহাম্মদ (স.)-এর দৌহিত্র হজরত ইমাম হোসেন (রা.) ফোরাত নদীর তীরে কারবালা প্রান্তরে শহীদ হন। সেই থেকে মুসলিম বিশ্বে কারবালার ঘটনাকে ত্যাগ ও শোকের প্রতীক হিসেবে পালন করে আসছে।

তারই ধারাবাহিকতায় পবিত্র আশুরা উপলক্ষে পুরান ঢাকার হোসনি দালানে তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার (৮ আগস্ট) এ মিছিলের মহড়া দিয়েছেন শিয়া সম্প্রদায়ের লোকজন। মঙ্গলবার (৯ আগস্ট) বাদ জোহর মিছিল হোসনি দালান থেকে বের হয়ে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করবে।

এছাড়া মোহাম্মদপুর, মিরপুর, বকশিবাজার, লালবাগ, ফরাশগঞ্জ, পল্টন, মগবাজার থেকেও তাজিয়া মিছিল বের হয়। এর মধ্যে হোসনি দালান থেকে সবচেয়ে বড় মিছিল বের হয়। এ মিছিলে হাজারো নারী-পুরুষ ও শিশুর পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে। লাল-কালো আর সবুজ অক্ষর-খচিত নিশান হাতে তারা খালি পায়ে মিছিল বের করেন। মিছিল থেকে ‘হায় হোসেন, হায় হোসেন’ মাতমে শোকের আবহ ছড়িয়ে পড়ে রাজপথে।

অন্যদিকে, সুষ্ঠুভাবে তাজিয়া মিছিল সম্পন্ন করতে দা, ছোরা, কাঁচি, বর্শা, বল্লম, তরবারি, লাঠি বহন নিষিদ্ধ করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। একই সঙ্গে আতশবাজি ও পটকা ফোটানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে পুলিশ ও র‌্যাব।

সোমবার (৮ আগস্ট) সরেজমিনে দেখা যায়, আশুরা উপলক্ষে হোসনি দালানে চলছে তাজিয়ার সাজসজ্জা এবং ধোয়া-মোছার কাজ। সকাল থেকে লোকজন জিয়ারতের জন্য হোসনি দালানে ঢুকছেন। প্রধান ফটকে পাহারায় রয়েছে পুলিশ। প্রত্যেককে তল্লাশি করে ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে। ইমাম হোসেনের প্রতীকী কবর জিয়ারত এবং দোয়া মোনাজাত করছেন শিয়া সম্প্রদায়ের লোকজন। কেউ মিষ্টি বিতরণ করছেন। প্রার্থনা করছেন। এছাড়া তাজিয়া মিছিলকে কেন্দ্র করে হোসনি দালান রোডের দুই পাশে হরেক হরেক রকম পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেন দোকানিরা।

হোসনি দালান রোডের বাসিন্দা আকবর হোসেন। তিন সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে দুপুর ১২টায় তিনিও হোসনি দালানে রওজা জিয়ারত যান। আলাপকালে আকবর হোসেন বলেন, আশুরার কয়েক দিন আগ থেকেই রওজা জিয়ারতে আসতে শুরু করেন ভক্তরা। এতে সবার মনে আত্মতৃপ্তি আসে। তিনি বলেন, মঙ্গলবার তাজিয়া মিছিলে শিয়া সম্প্রদায়ের সব লোক অংশ নেবেন। সবাই দিনটিকে শ্রদ্ধার সঙ্গে পালন করবেন।

কালো পতাকা নিয়ে বকশিবাজারের খাদে দেওয়ান রোড থেকে তাজিয়া মিছিলের মহড়ায় অংশ নেন সোলাইমান মিয়া। তিনি বলেন, আগে তাজিয়া মিছিল আরও জমকালো হতো। কিন্তু নানা বিধিনিষেধের কারণে এ মিছিলের আকার অনেকটা ছোট করা হয়েছে। বিশেষ করে মিছিলে দা, ছোরা, কাঁচি, বর্শা, বল্লম, তরবারি, লাঠি বহন নিষিদ্ধ করেছে ডিএমপি। কারণ, তাজিয়া মিছিলকে কেন্দ্র করে অনেক সময়ই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এতে নগরবাসীর মনে আতঙ্ক ও ভীতি সৃষ্টিসহ জননিরাপত্তার প্রতি হুমকি হয়ে ওঠে।

হোসনি দালানের অন্যতম খাদেম রবিউল ইসলাম। তিনি বলেন, ১০ মহররম ইমাম হোসেন (রা.) এর প্রতি শোক জানাতে শত শত বছর ধরে তাজিয়া মিছিল বের করে আসছে শিয়া সম্প্রদায়ের লোকজন। সে অনুযায়ী মঙ্গলবার জোহর নামাজের পর হোসনি দালান থেকে তাজিয়া মিছিল বের হবে। এ মিছিলে তাজিয়া তৈরি করা হয় ইমাম হোসেন (রা.)- এর সমাধির আদলে। তাজিয়া মিছিলে ভক্তরা শোকের গান গাইতে গাইতে বুক চাপড়ে ‘হায় হোসেন, হায় হোসেন’ বলে মাতম করেন।

২০১৫ সালে ২৩ অক্টোবর হোসনি দালানে তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতিকালে বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। এরপর থেকে প্রতি বছর শতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

র‌্যাব

গত ৪ আগস্ট হোসনি দালানে আশুরায় নিরাপত্তা প্রস্তুতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেছিলেন, ‘২০১৫ সালে হোসনি দালানে দুর্ভাগ্যজনক একটি ঘটনা ঘটেছিল, কিছু জঙ্গি তৎপরতা ছিল। আপাতত গোয়েন্দা ও সিটিটিসির (কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম) পক্ষ থেকে এবার ঝুঁকির কোনো তথ্য নেই।’

তিনি বলেন, ৯ অগাস্ট আশুরার দিনে রাজধানীর যেসব সড়কে তাজিয়া মিছিল যাবে, সেখানকার নিরপত্তা ব্যবস্থায় জোর দেওয়া হয়েছে। সে জায়গাগুলো ডগ স্কোয়াড ও বম ডিসপোজাল ইউনিট দিয়ে তল্লাশি করা হবে। এ ছাড়া ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পুলিশ সদস্যরা নিয়োজিত থাকবেন বলে জানান কমিশনার।

এমএমএ/এমএএইচ/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।