জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে শাহবাগে ‘গণঅবস্থান’

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরের সামনে আজও ‘গণঅবস্থান’ করছেন কয়েকজন ব্যক্তি।

মঙ্গলবার (৯ আগস্ট) বিকেলে ‘বিক্ষুব্ধ ছাত্রজনতা’ ব্যানারে তারা সেখানে অবস্থান নেন। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত তারা অবস্থান করবে বলে জানান।

এর আগে গত ৭ আগস্ট বিকেলে শাহবাগে অবস্থান নিলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে তাদের সরিয়ে দেয়। একদিন পর ফের তারা অবস্থান নিয়েছেন।

গণঅবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া রুহুল আমিন বলেন, প্রশাসনের ভেতরে আস্তানা গেড়েছে ছাত্রলীগের গুণ্ডারা। তারা মনে করে আওয়ামী লীগ একাই মুক্তিযুদ্ধ করেছে এবং এই দেশটা তাদের। এ জন্যই আমাদের ন্যায্যদাবিকে তারা দমিয়ে রাখতে চায়। কিন্তু পুলিশ প্রশাসনের যাবতীয় হুমকিকে বৃদ্ধাঙুলি প্রদর্শন করে আমরা গত চারদিন থেকে এখানে অবস্থান নিয়েছি। কারণ আমরা বিশ্বাস করি জনগণ এখনো মরে যায়নি। তারা আজ হোক, কাল হোক জাগবেই। তাদের জাগিয়ে তোলার গুরুদায়িত্ব নিয়েই আমরা শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নিয়েছি।

আগামী ১২ আগস্ট এক গণসমাবেশের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, ১২ আগস্ট শুক্রবার বিকেল ৩টায় সর্বস্তরের মানুষকে আহ্বান জানিয়েছি শাহবাগে আসতে। বাকস্বাধীনতার দাবিতেই তাদের এখানে আসা দরকার। আমাদের উচিত মৌলিক অধিকারের প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার। এই ফ্যাসিস্ট সরকারকে বৃদ্ধিকৃত তেলের দাম প্রত্যাহার করতেই হবে। যতক্ষণ না এ দাবি মানা হচ্ছে ততক্ষণ আমরা এখানে অবস্থান করবো। পুলিশ যদি এখানে আমাদের হত্যা করে তবুও আমাদের রক্ত থাকবে এখানে ন্যায়ের পক্ষে। অতীতে যেভাবে বাংলাদেশ নিজেদের অধিকার ফিরিয়ে এনেছে, তেমনি এবারও পারবে।

একই দাবিতে অবস্থানকারী সরকারি নজরুল কলেজের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থী অমিত হাসান ভূঁইয়া বলেন, বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের মধ্যে চার কোটি মানুষ প্রতিদিন না খেয়ে থাকে। এই জুলুমের বিরুদ্ধে আজ আমাদের রুখে দাঁড়ানোর সময় হয়েছে। আজ গরিবের পেটে লাথি পড়ছে, কাল মধ্যবিত্তের পেটে পড়বে, পরশু বড়লোকদের পেটে। একদিন না একদিন আমাদের সবাইকেই ভুক্তভোগী হতে হবে এই অরাজকতার। সুতরাং সময় থাকতে সাবধান হোন। আমাদের এই যৌক্তিক আন্দোলনে শামিল হোন।

আল-সাদী ভূঁইয়া/বিএ/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।