বর্জ্য ও পয়ঃপানির জীবাণু নিয়ে গবেষণা করবে আইসিডিডিআরবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:০৯ পিএম, ১০ আগস্ট ২০২২

বর্জ্য ও পয়ঃপানির নমুনায় জীবাণুর উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি নিয়ে গবেষণা করবে আইসিডিডিআর,বি-র এনভায়রনমেন্টাল ইন্টারভেনশন্স ইউনিট (ইআইইউ)। গবেষণায় পরিবেশ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে টিকা দিয়ে প্রতিরোধযোগ্য চারটি জীবাণু যার মধ্যে টাইফয়েড, কলেরা, রোটা ভাইরাস আন্ত্রিক জীবাণু এবং এসএআরএস-সিওভি-২ পর্যবেক্ষণ করা হবে।

বুধবার (১০ আগস্ট) আইসিডিডিআর,বি-র এনভায়রনমেন্টাল ইন্টারভেনশন্স ইউনিট (ইআইইউ) রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট ঢাকা এবং রোহিঙ্গা শিবিরে বসবাসকারীদের মধ্যে সার্স কোভ-২ ও অন্যান্য আন্ত্রিক জীবাণু চিহ্নিত করতে এনভারনমেন্টাল সার্ভিলেন্স কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। এ উপলক্ষে ঢাকার গুলশানে একটি হোটেলে বুধবার এটির উদ্বোধনী সভা হয়।

সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইঞ্জিনিয়ার তাকসিম এ খান ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহম্মদ খুরশীদ আলম। আইইডিসিআর-এর পরিচালক অধ্যাপক ডা. তাহমিনা শিরিন এ সভায় সভাপতিত্ব করেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এনভায়রনমেন্টাল সার্ভিলেন্স বর্জ্য ও পয়ঃপানির নমুনাতে জীবাণুর উপস্থিতি বা অনুপস্থিতিসহ জনগণের মধ্যে এর প্রবাহ চিহ্নিত করতে সহায়তা করে। একই সঙ্গে জীবাণুর ঘনত্বের প্রবণতা সম্পর্কে ধারণা দেয় ও প্রাথমিক সতর্কতা জানায়। পাকিস্তান ও ভারতসহ কয়েকটি নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশ পোলিও ভাইরাসের জন্য এনভায়রনমেন্টাল সার্ভিলেন্স চালু করেছে এবং সফলভাবে সুপ্ত প্রাদুর্ভাব চিহ্নিত করতে পেরেছে। না হলে এ রোগ হঠাৎ আবির্ভূত হতো।

গবেষণার আওতায় ঢাকা শহরের নির্দিষ্ট কিছু স্থান ও রোহিঙ্গা শিবিরের নির্দিষ্ট ক্যাম্পের নর্দমা, খাল, পাম্প স্টেশন থেকে বর্জ্য পানির নমুনা সংগ্রহ করা হবে। পরে এটি জনগণের মধ্যে আম্রিক জীবাণু সালমোনেলা টাইফি, ভিব্রিও কলেরি, রোটাভাইরাস এবং সার্স-কোভি-২সহ এ চারটি ভ্যাকসিন প্রতিরোধযোগ্য জীবাণু চিহ্নিত এবং পর্যবেক্ষণ করার চেষ্টা করা হবে বলে জানানো হয়।

আইইডিসিআর-এর ভাইরোলজি শাখার প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. জাকির হোসেন হাবিব, নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশে চলমান এনভায়রনমেন্টাল সার্ভিলেন্সের বিভিন্ন দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করেন।

আইসিডিডিআর,বি-র ইআইইউ-এর প্রিন্সিপাল ইনভেস্টিগেটর ডা. মো. মাহবুবুর রহমান তার উপস্থাপনায় এ গবেষণার বিস্তারিত তথ্য তুলে করেন। তিনি বলেন, এ গবেষণার ফলাফল সরকারকে টিকাদানের মাধ্যমে প্রতিরোধযোগ্য রোগের ক্ষেত্রে সময়োপযোগী কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা বাস্তবায়নে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও মহামারীর ক্ষেত্রে জনস্বাস্থ্য সম্পর্কিত সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা জানান, পয়ঃবর্জ্যের এনভারনমেন্টাল সার্ভিলেন্স জনস্বাস্থ্যের জন্য অনেকভাবে উপকার করতে পারে। যেমন-

১. কমিউনিটিতে এসএআরএস-সিওভি-২ ও আন্ত্রিক জীবাণুর সংক্রমণের ক্ষেত্রে আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা গ্রহণে সহায়ক টুল হিসাবে ব্যবহার করা যেতে পারে।

২. ক্লিনিক্যাল সার্ভিলেন্স ব্যবস্থার তুলনায় এর ব্যয় তুলনামূলত অনেক কম।

৩. স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ বা স্বাস্থ্যসেবা আচরণগত পরিবর্তন দ্বারা পক্ষপাতদুষ্ট নয়।

৪. উপসর্গযুক্ত এবং উপসর্গহীন উভয় সংক্রমণের তথ্য প্রয়োজনীয় প্রদানে সক্ষম।

৫. এনভারনমেন্টাল সার্ভিলেন্স থেকে প্রাপ্ত তথ্য বা ডাটা জনস্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজনীয় প্রতিক্রিয়া গ্রহণে পরিকল্পনার জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে, যার মধ্যে স্বাস্থ্য যোগাযোগ, স্বাস্থ্য সেবা প্রদানে সেবাদানকর্মী ব্যবস্থাপনা এবং টিকার ক্যাম্পেইন।

এ গবেষণার ফলাফল সরকারকে টিকা দিয়ে প্রতিরোধযোগ্য রোগের ক্ষেত্রে কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা বাস্তবায়নে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও মহামারীর ক্ষেত্রে জনস্বাস্থ্য সম্পর্কিত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সরকারকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করবে বলেও জানান বক্তারা।

এএএম/এমআইএইচএস/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।