চেকারের দেখা না মিললেও ভাড়া নিয়ে যাত্রীদের ক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:৪৯ পিএম, ১১ আগস্ট ২০২২
বাসের ভাড়া নৈরাজ্য নিয়ে ভোগান্তি রয়েছেন যাত্রীরা

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পাশাপাশি গণপরিবহনের ভাড়াও বাড়িয়েছে সরকার। নতুন ভাড়ার তালিকাও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু রাজধানীর অধিকাংশ গণপরিবহনে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। কোনো কোনো বাসে টানানো হয়নি ভাড়ার তালিকা। সেই সঙ্গে নেওয়া হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যাত্রীরা।

বৃহস্পতিবার (১১ আগস্ট) রাজধানীতে জাতীয় প্রেস ক্লাব, শাহবাগ, বাংলামোটরসহ বেশ কয়েকটি এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। এসব রুটে চলাচল করা বাসগুলো বেশি ভাড়া নিচ্ছে বলে অভিযোগ যাত্রীদের। তবে এদিন এসব রুটে বাসের কোনো পরিদর্শকের (চেকার) দেখা মেলেনি।

গুলিস্তান থেকে মিরপুর রুটে চলাচল করে বিহঙ্গ, শিকড়, দিশারী, খাজা ও বিকল্প পরিবহনের বাস। আর গুলিস্তান থেকে মোহাম্মদপুর রুটে চলে ট্রানস সিলভা পরিবহনের বাস। এগুলোর প্রত্যেকটিতেই দাঁড়িয়ে যাত্রী তোলা হয়। আর ভাড়া রাখা হয় সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি।

তেজগাঁও সরকারি বিজ্ঞান কলেজের শিক্ষার্থী জহিরুল ইসলাম জহির জাগো নিউজকে বলেন, গুলিস্তান থেকে ফার্মগেট যাবো, কিন্তু ভাড়া রেখেছে খামার বাড়ি পর্যন্ত।

বিহঙ্গ পরিবহনের যাত্রী জামাল জাগো নিউজকে বলেন, পল্টন থেকে আগারগাঁওয়ে যাবো, হেলপার ৪০ টাকা ভাড়া চেয়েছে। ৩০ টাকা দিয়েছি।

বিপুল নামের আরেক যাত্রী বলেন, প্রেস ক্লাব থেকে আগারগাঁও যেতে ৩০ টাকা ভাড়া নিয়েছে। অথচ এই ভাড়া মিরপুর পর্যন্ত নেওয়ার কথা।

jagonews24

এদিকে ফাল্গুনী পরিবহনের বাসে দেখা যায় কাকরাইল থেকে সাইন্সল্যাব পর্যন্ত ভাড়া ১৫ টাকা। অথচ শাহবাগ মোড়ে নামলেও তারা যাত্রীদের কাছ থেকে ১৫ টাকাই ভাড়া নিচ্ছে।

শিকড় পরিবহনের হেলপার মেহেদী বলেন, ভাড়ার তালিকা পেয়েছি, কিন্তু এখনো টানানো হয়নি। ভাড়া চার্ট অনুযায়ীই নেওয়া হচ্ছে।

খাজা বাবা পরিবহনের চালক ইমন হোসেন বলেন, আমরা এখন কোনো চেকার রাখি নাই। ভাড়া সরকার নির্ধারিত হারেই নেওয়া হচ্ছে। তবে তালিকা এখনো টানানো হয়নি।

এদিকে রাজধানীতে ওয়েবিল ও চেকিং প্রথা বাতিল করেছে ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি। ওয়েবিলের নামে বাড়তি ভাড়া আদায়ে তীব্র সমালোচনার মুখে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সমিতি বলছে, ঢাকা ও এর আশপাশের শহরতলির রাস্তায় বাসের কোনো চেকার থাকবে না। এক বাসস্ট্যান্ড থেকে অন্য বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত চলাচলের সময় বন্ধ রাখতে হবে বাসের দরজা। রুট পারমিটের স্টপেজ অনুযায়ী বাস থামানোর নির্দেশনাও দেওয়া হয়।

এর আগে ৬ আগস্ট বাসভাড়া বাড়ায় বিআরটিএ। এতে দেখা যায়, দূরপাল্লার বাসের ভাড়া আগে ছিল প্রতি কিলোমিটারে ১ টাকা ৮০ পয়সা, যা বাড়িয়ে এখন করা হলো ২ টাকা ২০ পয়সা।

এছাড়া মহানগর পর্যায়ে আগে প্রতি কিলোমিটারে বড় বাসের ভাড়া ছিল ২ টাকা ১৫ পয়সা, এখন তা ২ টাকা ৫০ পয়সা হয়েছে। মিনি বাসের আগে ছিল ২ টাকা ৫ পয়সা যা বাড়িয়ে করা হয়েছে ২ টাকা ৪০ পয়সা। এছাড়া সর্বনিম্ন ভাড়া বাসে ১০ টাকা, মিনিবাসে ৮ টাকা হয়েছে।

আরএসএম/জেডএইচ/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।