যুবদের কর্মসংস্থানের মাধ্যমে এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:৪৭ পিএম, ১১ আগস্ট ২০২২

যেকোনো দেশের প্রাণশক্তি হলো তরুণ সমাজ। আজকের কিশোর, তরুণ ও যুবরাই আগামীর পরিবার, সমাজ ও দেশের চালিকাশক্তি। বর্তমানে দেশে ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সী সাড়ে চার কোটির বেশি তরুণ ও যুব জনগোষ্ঠী রয়েছে। এ জনগোষ্ঠীকে প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মসংস্থানের মাধ্যমে এসডিজি ও জাতীয় লক্ষ্যমাত্রা ২০৩০ অর্জন সম্ভব।

অথচ দেশের বিশাল যুবসমাজের মধ্যে মাত্র ৭ শতাংশ সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র থেকে সরাসরি সেবাগ্রহণ করে। প্রতি ৩৫০ জনের জন্য একজন করে সেবা প্রদানকারী রয়েছে। অর্থাৎ বিশাল এ যুবসমাজের ৯৩ শতাংশ জনগোষ্ঠী যথাযথ প্রজনন স্বাস্থ্য অধিকার ও সেবা সম্পর্কে না জানার ফলে অনেক এসব ক্ষেত্রে অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণসহ বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে।

এ ঝুঁকি এড়াতে সার্বিক সচেতনতা, সম্পৃক্তকরণ এবং স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রয়োজন বলে অভিমত দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে সুস্থ, সবল ও কর্মক্ষম জাতি গঠনের কোনো বিকল্প নেই বলে অভিমত দেন তারা।

বৃহস্পতিবার (১১ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু কল্যাণ পরিষদ মিলনায়তনে বেসরকারি এনজিও লাইটহাউসের আয়োজনে ও ইউএসএআইডি সুখী জীবন প্রকল্প, পাথ ফাইন্ডার ইন্টারন্যাশনালের সহযোগিতায় মিডিয়া অ্যাডভোকেসিসভায় এসব অভিমত তুলে ধরা হয়।

লাইটহাউসের নির্বাহী প্রধান মো. হারুন অর রশিদের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন। আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ সম্পাদক ফোরামের সদস্য সচিব ফারুক আহমেদ তালুকদার।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, দেশের প্রাণশক্তি হলো তরুণসমাজ। এদের যথাযথ গাইডলাইনের মাধ্যমে গড়ে তুলতে হবে। সরকারসহ বেসরকারিভাবে অনেক সংগঠন এ ব্যাপারে কাজ করছে ঠিক কিন্তু এর পরিধি আরও বাড়াতে হবে। এক্ষেত্রে গণমাধ্যমকর্মীদেরও অনেক ভূমিকা রয়েছে।

তিনি বলেন, দেশের বিশাল এ যুবসমাজকে রাজনীতি, অর্থনীতি ও সমাজনীতিসহ সববিষয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। বিশেষ করে প্রযুক্তির জ্ঞান বেশি বেশি করে অর্জন করতে হবে তাদের। অন্যথায় উন্নয়নের চাকা থেমে পিছিয়ে পড়বে বাংলাদেশ।

সভায় জানানো হয়, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ২০৩০ অর্জন করতে হলে সব বয়সী মানুষের সক্ষমতার পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের পাশাপাশি সবার অধিকার, বিশেষত প্রজনন অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে সামাজিক রীতিনীতি ও বিশ্বাস অনেক ক্ষেত্রেই তরুণ প্রজন্মের প্রজনন অধিকার ও স্বাস্থ্য সেবা বাধাগ্রস্ত করে। এ থেকে উত্তরণে প্রয়োজন আন্তঃপ্রজন্মের সংহতি ও সহযোগিতা।

এতে জানানো হয়, আগামীকাল ১২ আগস্ট বিশ্ব যুবদিবস উদযাপন করা হবে। জাতিসংঘ কর্তৃক বিশ্ব যুবদিবস-২০২২ এর নির্ধারিত প্রতিপাদ্য ‘আন্তঃপ্রজন্ম সংহতি: সব বয়সীদের জন্য ভালোবাসার পৃথিবী গড়ি’। প্রতিবছরের এ দিনটিতে আন্তর্জাতিক যুবদিবস উদযাপন করা হয়ে থাকে। ১৯৯৯ সালের ১৭ ডিসেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে আন্তর্জাতিক যুবদিবস উদযাপনের প্রস্তাবটি অনুমোদিত হয়েছিল। দিনটি প্রথম পালিত হয় ২০০০ সালে। দিবসটি উপলক্ষে শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে সভা-সেমিনার ও র্যালির আয়োজন করা হবে।

পাথ ফাইন্ডার ইন্টারন্যাশনাল বাস্তবায়িত ইউএসএআইডি সুখী জীবন প্রকল্প ২০১৮ সালে একটি জরিপ পরিচালনা করে, যা ২০১৯ সালে ফ্যাসিলিটি এসেসমেন্ট রিপোর্ট (২০১৯) নামে প্রকাশিত হয়। এ জরিপ অনুসারে, দেশের প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা খাতের মাত্র ১০ শতাংশ সেবা প্রদানকারী তরুণ ও যুবদের প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার জন্য প্রশিক্ষিত। অথচ দেশের তরুণ ও যুব জনসংখ্যা সাড়ে চার কোটির বেশি।

এমএএস/এমএএইচ/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।