সংসদীয় কমিটিতে অভিযোগ

স্কুল-কলেজের ল্যাবের কম্পিউটার প্রধান শিক্ষক-সভাপতির বাড়িতে

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০:০৮ পিএম, ১১ আগস্ট ২০২২

দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আইসিটি ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে। এসব ল্যাবের জন্য বরাদ্দ কম্পিউটার প্রধান শিক্ষক তার ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি ল্যাবের কম্পিউটার স্কুল কমিটির সভাপতির বাড়িতে নিয়ে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। কোথাও কোথাও এসব কম্পিউটার টাওয়াল দিয়ে মুড়িয়ে রাখা হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এমন অভিযোগ নিয়ে আলোচনা উঠেছে। জাতীয় সংসদ ভবনে বুধবার (১০ আগস্ট) এ বৈঠক হয়।

বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, ‘কিছু ক্ষেত্রে সমস্যা থাকলেও ঢালাওভাবে অভিযোগ করা ঠিক হবে না। আমরা মনিটরিং জোরদার করছি। যেসব সমস্য আছে, তা ঠিক হয়ে যাবে।’

বৈঠকসূত্রে জানা গেছে, কমিটির সদস্য বিকল্প ধারার সংসদ সদস্য মাহী বি চৌধুরীসহ দু-তিনজন সদস্য আইসিটি ল্যাব পড়ে থাকা ও প্রশিক্ষিত শিক্ষক না থাকার বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন। তারা বলেন, অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আইসিটি ল্যাব করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তার অনেকগুলোই শুরু থেকে টাওয়াল দিয়ে মুড়িয়ে রাখা রয়েছে। এগুলো চালু করা হয় না।

‘আবার কিছু কম্পিউটার গভর্নিং বডির সভাপতি তার বাড়িতে নিয়ে গেছেন। কিছু নিয়ে গেছেন প্রধান শিক্ষক। কাগজে কলমে আইসিটি ল্যাব দেখানো হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে আইসিটিতে দক্ষতাসম্পন্ন ছাত্র-ছাত্রী নেই। দেখা গেছে, শিক্ষার্থীরা আইসিটি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে কিছুটা পারে। কিন্তু কম্পিউটার চালু করতে বললে বা কোনো প্রোগ্রাম ওপেন করতে বললে পারে না।’

মন্ত্রণালয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আইসিটি ল্যাবের এ বিষয়গুলো যথাযথ তদারকি করছে না বলেও অভিযোগ করেন তারা।

জবাবে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, কাগজে-কলমে যতটা হওয়ার কথা, আমাদের এখানে অনেক ক্ষেত্রে হয়তো সেটা হয় না। এক্ষেত্রে কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। এটা মেনে নিতে হবে। শিক্ষা তো এমন কোনো বিষয় না যে, একটা ক্লিক করলাম আর কাজ হয়ে গেলো। শিক্ষার ফল পেতে হলে কিছুটা সময় তো লাগবেই। মোটেও হচ্ছে না, সেটা ঠিক নয়। অনেক ক্ষেত্রে হচ্ছে। আবার কিছু হচ্ছে না, এটাও মিথ্যা নয়। আমরা মনিটরিং জোরদার করছি। পর্যায়ক্রমে সব ঠিক হয়ে যাবে।’

জানতে চাইলে কমিটির সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা এমপি বলেন, মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আইসিটি ল্যাবের বিষয়ে একটি প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে কতজন শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, তার তথ্যও দেওয়া হয়েছে। পরে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার সময় এগুলোতে সঠিকভাবে শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে কি না, সেই বিষয় এসেছে।

তিনি বলেন, ‘অনেক ক্ষেত্রে ল্যাব আছে কিন্তু প্রশিক্ষিত শিক্ষক নেই। সেজন্য সেটা ব্যবহার হচ্ছে না। আলোচনায় এমন বিষয়ও উঠে এসেছে যে, ল্যাব চালুর পর থেকেই সেটা চাদর বা টাওয়ালে মুড়িয়ে রাখা হয়েছে। ব্যবহার হচ্ছে না। সেটার বিষয়ে তদারকি করতে বলা হয়েছে।’

কমিটির বৈঠকে অভিযোগ উঠেছে, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলে একই ঠিকাদার বারবার কাজ পাচ্ছেন। বিশেষ করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মত বিশ্ববিদ্যালয়ও এমনটি হচ্ছে। অনেকে কার্যাদেশ পাওয়ার পর কাজ শুরু করেন না। শুরু করলেও কিছুদিন পর ফেলে রাখেন। বছরের পর পর বছর ঝুলতে থাকে। প্রতিবেদনে কাজ চলমান বলা হলেও বাস্তবে দেখা যাবে কাজ বন্ধ রয়েছে।

jagonews24

‘ঠিকাদারদের বেশিরভাগই মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের শক্তি। তারা দেশের উন্নয়নকে ব্যাহত করার চেষ্টা করছেন। এমনকি অনেকে আছে বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে ফেসবুকে কটূক্তি করছেন।’

জানা গেছে, বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন কমিটির সভাপতি আফসারুল আমীন। তিনি শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কাজ দুদকের মাধ্যমে তদারকির কথাও বলেন। তিনি বলেন, ‘বলা হচ্ছে কাজ চলমান। চলমান কাগজে-কলমে। গিয়ে দেখেন সব বন্ধ আছে। বাস্তবে কিছুই নেই।’

সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি জানানো হয়, কমিটি শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে বাস্তবায়নাধীন মহানগর, পৌরসভা ও জেলাপর্যায়ের স্কুল ভবনসমূহের প্রি-কাস্ট পাইলিংয়ের ওপর একতলা ভবন নির্মাণের কাজ কঠোর নজরদারি করাসহ নতুন ঠিকাদার তালিকাভুক্তির সুপারিশ করেছে।

কমিটির সভাপতিসহ বেশিরভাগ সদস্যই বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির সভাপতির ন্যূনতম যোগ্যতা এসএসসি পাস রাখার প্রস্তাব করেন। তবে শিক্ষামন্ত্রী তা নাকচ করে দেন। মন্ত্রী যুক্তি দিয়ে বলেন, ‘আমরা যারা আইনপ্রণেতা তাদের অনেকেই আছেন, যাদের শিক্ষাগত যোগ্যতার বালাই নেই। তাহলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সভাপতি হতে শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রয়োজন পড়বে কেন?’

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘অনেকে আছেন পঞ্চম শ্রেণিও পাস না। কিন্তু খুবই যোগ্য ও ভালো মানুষ। শিক্ষিত হলেই সবকিছু হয়ে যাবে, বিষয়টি তা নয়।’

তিনি বলেন, ‘শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ করে দিলে একটি ব্যারিয়ার (বাধা) সৃষ্টি হবে। আমরা শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়টি দিলাম না। কিন্তু মনোনয়ন দেওয়ার সময় শিক্ষিত ব্যক্তিদের প্রাধান্য দিতে পারি। কিন্তু যোগ্যতার বিষয়টি বিধিতে নিয়ে এলে অনেকের জন্য পথ রুদ্ধ করে দেওয়া হবে।’

কমিটির সভাপতি মো. আফছারুল আমীনের সভাপতিত্বে সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কমিটির শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, মো. আব্দুল কুদ্দুস, ফজলে হোসেন বাদশা, মো. আব্দুস সোবহান মিয়া, এম এ মতিন ও মাহী বদরুদ্দোজা চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

এইচএস/এএএইচ/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।