‘ক্ষতিকর কনটেন্টের বিষয়ে সতর্ক আছে ফেসবুক’

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:৪১ পিএম, ১৩ আগস্ট ২০২২
ছবি: সংগৃহীত

ক্ষতিকর কনটেন্টের বিষয়ে ফেসবুক সতর্ক আছে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির বাংলাদেশবিষয়ক হেড অব পাবলিক পলিসি সাবনাজ রশিদ দিয়া।

শনিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে বিধি-বিধানের আলোকে ডিজিটাল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ওটিটি প্ল্যাটফর্মের সঠিক নিয়ন্ত্রণবিষয়ক আয়োজিত সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন। সেমিনারটির আয়োজন করে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই)।

সাবনাজ রশিদ দিয়া বলেন, অন্যান্য দেশের পলিসি, আইন আর বাংলাদেশের অনেকটাই ভিন্ন, এখানে মানুষের কনটেন্ট ব্যবহারের ধরনও ভিন্ন। আমরা ক্ষতিকর কনটেন্টের বিষয়ে সতর্ক আছি। যে কোনো বিধি-বিধানের ক্ষেত্রে অবশ্যই মানুষের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বিবেচনায় রাখা উচিত। আমাদের পলিসিতে ঝুঁকিপূর্ণ কনটেন্টের বিষয়ে সচেতন থাকার বিষয়ে সরকার ও সুশীল সমাজ থেকেও বারবার বলা হয়েছে, আমরা সেই আলোকে ব্যবস্থাও নিয়েছি।

‘যে কোনো আইন করার সবাই স্টেকহোল্ডার, সুশীল সমাজ ও ব্যবসায়িক প্রতিনিধি- সবার বক্তব্য নেওয়া উচিত। নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া যে আইন করেছে সেটা ভালো উদাহরণ হতে পারে। ডিজিটাল লিটারেসি গুরুত্বপূর্ণ, মানুষকে এ বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। বিটিআরসি ও তথ্য মন্ত্রণালয় কোনটা, কী নিয়ন্ত্রণ করবে তা স্পষ্ট হওয়া দরকার।’

তিনি আরও বলেন, বিটিআরসির সঙ্গে আমাদের বৈঠক হয়েছে। তাদের আমরা ধন্যবাদ জানাই, আমাদের মতবিনিময়ের সুযোগ দেওয়ার জন্য। একটি নির্দিষ্ট বিধি-বিধানের আলোকে সামাজিকমাধ্যম নিয়ে কাজ করা যেতে পারে। আমরা বিটিআরসি, সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসহ সবার সঙ্গে আমাদের আলোচনা চালিয়ে যেতে চাই। তবে নেটফ্লিক্স বা বঙ্গবিডি যে নিয়মে চলে ফেসবুক সেই নিয়মে চলতে পারে না। কারণ দুই মাধ্যমের ধরনও ভিন্ন।

এফবিসিসিআই’র পরিচালক সাইদ আলমাস কবির বলেন, ওটিটি প্ল্যাটফর্ম উদীয়মান নতুন বিনোদনের মাধ্যম। এর মাধ্যমে দেশের বাইরেও আমাদের সংস্কৃতি ছড়িয়ে যেতে পারে। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ওটিটি প্ল্যাটফর্মের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে হবে। তাহলে লোকাল ওটিটি প্ল্যাটফর্মের বিকাশ ঘটবে। এছাড়া ওটিটি প্ল্যাটফর্মের নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ হওয়া উচিত।

টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নাসিম পারভেজ বলেন, সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ে ফেসবুকের সঙ্গে কথা বলেছি। একজন মানুষকে নিয়ে অসম্মানমূলক তথ্য প্রচার করলে, ওই ব্যক্তি যার সঙ্গে সম্পর্কিত নন সেটি যেন ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সরানো হয় সেটি বলেছি, এটা নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। আমরা বলেছি, একজন ফেক আইডি দিয়ে অপরাধে জড়াচ্ছেন। তিনি তো কোনো নম্বর বা ই-মেইলে দিয়ে খুলছেন। সে ক্ষেত্রে তাদের কাছে তথ্য চাইলে তারা দিচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, আমরা বলেছি, বাংলাদেশে ফেসবুকের অফিস করতে হবে, তারা বলেছে ভারতে তাদের অফিস রয়েছে, তাই নানা জটিলতা রয়েছে। সেই আলোকে আমরা বলেছি, তাহলে আমাদের ২৭ ঘণ্টার জন্য বিটিআরসি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য আলাদা দুইটি যোগাযোগমাধ্যম দেওয়ার জন্য, তারা বলেছে সেটি তারা দেবেন।

বেসরকারি টিভি চ্যানেল আরটিভির সিইও সৈয়দ আশিক রহমান বলেন, সোশ্যাল ও ওটিটি কন্টেন্টে দেশের সংস্কৃতি গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে উন্মুক্ত আকাশ ভয়ংকর ব্যাপার। সমস্যা সমাধানে এখানে ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটকসহ অন্যান্য প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠানের অফিস থাকতে হবে।

তিনি বলেন, সম্প্রতি অনেক ভুঁইফোড় এজেন্ট কিন্তু কাজ করছে। অনেকে দূর থেকে একটি কন্টেন্টে স্ট্রাইক করে দিচ্ছে, যেটা বড় সমস্যা তৈরি করছে। ফলে যারা কন্টেন্ট বানাচ্ছে তারা বড় ধরনের লোকসানে পড়ছেন। তাই সবার ঢাকায় অবশ্যই অফিস থাকতে হবে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপব্যবহার নিয়ে ভাবতে হবে, যেন ব্যক্তিগত গোপনীয়তা খর্ব না হয়। আর কপিরাইট ইস্যুটিও বড় সমস্যা তৈরি করছে।

বঙ্গবিডির সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক নাভিদুল হক বলেন, বাংলাদেশের ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলো নেটফ্লিক্সসহ আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছে। আমাদের দেশি প্ল্যাটফর্মগুলোকে যেন রেস্ট্রিকটেড করা না হয়। কপিরাইটের বিষয়টি যদি বলি সেখানে ফেসবুক, ইউটিউব ব্যবস্থা নিচ্ছে। কিন্তু দেশের আইন সেটি করছে না। কপিরাইট নিয়ে বৈষম্য যেন না হয়। দেখা যায়, প্রভাবশালীর অভিযোগ দ্রুত ব্যবস্থা নিলেও সাধারণ মানুষের অভিযোগ বছরের পর বছর পড়ে থাকলেও ব্যবস্থা নেওয়া হয় না, এটা যেন না হয়।

ঢাকা ট্রিবিউনের নির্বাহী সম্পাদক রিয়াজ আহমেদ বলেন, আমরাই প্রথম গণমাধ্যম হিসেবে ওটিটি নিয়ে মিটিং করেছিলাম। এখন কিন্তু পুরাতন মিডিয়া আরও পুরাতন হবে। সেখানে সংকট হবে কি না দেখতে হবে। পত্রিকার ছাপা সংস্করণের মতো এখন কিন্তু মানুষ টিভিও সেভাবে দেখে না। কোনো না কোনো মাধ্যমে মানুষ শুধু তথ্য চায়। তাই কোনো না কোনো ফরমেটে যেন সেটির ব্যবস্থা থাকে, এখানে যেন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়।

আইএইচআর/আরএডি/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।