‘পতেঙ্গা সৈকতের ইজারা দেওয়ার অধিকার সিডিএর নেই’

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক চট্টগ্রাম
প্রকাশিত: ০৯:০৮ পিএম, ১৩ আগস্ট ২০২২

চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত সংলগ্ন সরকারি জায়গা ইজারা দেওয়ার অধিকার চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) নেই বলে মন্তব্য করেছেন ফোরাম ফর প্ল্যান্ট চিটাগাং সংগঠনের নেতারা।

শনিবার (১৩ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে ‘ফোরাম ফর প্ল্যান্ট চিটাগাং’ এর আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন সংগঠনটির নেতারা। এতে লিখিত বক্তব্য দেন ফোরাম ফর প্ল্যান্ট চিটাগাং এর সহ-সভাপতি প্রকৌশলী সুভাষ বড়ুয়া। এ সময় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন সংগঠনটির সভাপতি প্রফেসর মো. সিকান্দর খান।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, খোলা জায়গা ইজারা না দিয়ে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতের মতো একটি সার্বজনীন উন্মুক্ত পরিসরে ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য উন্মুক্ত রেখেও বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব। সৈকতে আসা মানুষদের বিনোদন ও অবসরের পরিপ্রেক্ষিতে জলযান ভ্রমণ, ক্যাফে, রেস্টুরেন্ট, হরেক রকমের দোকান, খেলার ব্যবস্থা ও স্থাপনা নির্মাণ করে, এসব স্থাপনা সিডিএ ব্যক্তিগত খাতে ইজারা দিয়ে মুনাফা করতে পারে। সিডিএকে সেই পথে যাওয়া উচিত।

আরও বলা হয়, পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতকে ড্যাপে পাবলিক ওপেন স্পেস বা সর্বজনের উন্মুক্ত পরিসর হিসেবে সংরক্ষণের কথা বলা হয়েছে। ঢাকায় তুরাগ নদীর দখল ও দূষণ নিয়ে করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে সংবিধানের ১৮ক, ২১, ৩১ ও ৩২ নম্বর অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে ‘পরিবেশ, প্রাকৃতিক সম্পদ, জীববৈচিত্র্য, সব উন্মুক্ত জলাভূমি, সমুদ্র, সমুদ্র সৈকত, নদ-নদী, খাল-বিল, হাওর-বাওর, ঝিল, নদীর পাড়, পাহাড়-পর্বত, টিলা, বন এবং বাতাস ইত্যাদি কোনো ব্যক্তি বা কোম্পানিকে বাণিজ্যিকভাবে ইজারা দেওয়া চলবে না’ মর্মে হাইকোর্ট রায় দিয়েছেন। হাইকোর্টের সেই রায়ের আলোকে সিডিএ কোনো স্থান আইনগতভাবে ইজারা দেওয়ার অধিকার সংরক্ষণ করে না।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, যে কোনো উন্নত নগরীতে সব শ্রেণির মানুষের অবকাশ ও বিনোদনের জন্য খেলার মাঠ, পার্ক ও উন্মুক্ত পরিসরের নেটওয়ার্ক থাকে। চট্টগ্রাম নগরীতে তার সিকিভাগও নেই। নানা উপায়ে তাতে সর্বসাধারণের প্রবেশাধিকার সীমিত বা বন্ধ করা হয়েছে। অথচ বর্তমানে উন্নত বিশ্বের পরিশীলিত নগরগুলোতে উন্মুক্ত পরিসর বৃদ্ধির জন্য রীতিমতো প্রতিযোগিতা চলছে। ব্যক্তিগত খাতে ইজারা দিয়ে বিস্তৃত সৈকত বা নদীর তীরে প্রবেশ মূল্যের বিনিময়ে কোথাও প্রবেশের অধিকার হরণ করা হয়েছে এমন তথ্য আমাদের জানা নেই।

তারা বলেন, সিডিএ কর্তৃক নগরের উন্নয়ন মহাপরিকল্পনা এবং বিস্তৃত অঞ্চল পরিকল্পনায় (ড্যাপ) পতেঙ্গা সৈকতকে পাবলিক ওপেন স্পেস বা ‘সর্বজনের উন্মুক্ত পরিসর’ হিসেবে সংরক্ষণের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু ড্যাপকে অগ্রাহ্য করে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত সংলগ্ন ৭ কিলোমিটারের মধ্যে সাড়ে ৫ কিলোমিটার জায়গাকে পর্যটন জোন-১ এবং পর্যটন জোন-২ হিসেবে ভাগ করে টেন্ডারের মাধ্যমে ২৫ বছরের জন্য বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ইজারা দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে। এই অবৈধ প্রক্রিয়া বন্ধ করতে হবে।

পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত বাণিজ্যিক ব্যবহারের উদ্দেশ্যে ব্যক্তিপর্যায়ে ইজারা প্রদানের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার জন্য সংবাদ সম্মেলনে আহ্বান জানানো হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার আহমেদ জিন্নুর চৌধুরী, নির্বাহী সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার এবিএম এ বাসেত, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পরিবেশবিদ তাসলিমা মুনা, সদস্য সংস্কৃতি কর্মী শাহরিয়ার খালেদ, অধ্যাপক নাজিম উদ্দিন।

ইকবাল হোসেন/আরএডি/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।