২ অক্টোবরের মধ্যে জিয়ার মরণোত্তর বিচার শুরু চেয়ে আলটিমেটাম

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২:১৭ পিএম, ১৪ আগস্ট ২০২২

হাজারো সেনা কর্মকর্তা, বীর মুক্তিযোদ্ধা হত্যার দায়ে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মরণোত্তর বিচার দাবি করেছেন নিহতদের সন্তানরা। আগামী ২ অক্টোবরে মধ্যে বিচার শুরু না করলে সচিবালয় ঘেরাও করে অনশনের ডাক দিয়েছে ‘১৯৭৭ সালে খুনি জিয়ার সামরিক ষড়যন্ত্রের শিকার আমরা’ নামের সংগঠনটি।

jagonews24

রোববার (১৪ আগষ্ট) সকালে চন্দ্রিমা উদ্যানে জিয়ার কবরের সামনে এক মানবন্ধনে এ আলটিমেটাম দেওয়া হয়।

আলটিমেটাম ঘোষণা করে সংগঠনের সম্বন্বয়ক কামরুজ্জামান মিঞা লেলিন বলেন, সংসদ ভবন এলাকা থেকে জিয়ার ভুয়া কবর অপসারণ করতে হবে। ২ অক্টোবরের মধ্যে বিচারপ্রক্রিয়া শুরু করা না হলে আমরা কঠিন কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো।

তিনি আরও বলেন, ওই তারিখের মধ্যে বিচারপ্রক্রিয়া শুরু না হলে সচিবালয় ঘেরাও কর্মসূচি দেওয়া হবে ও সচিবালয়ের গেটে আমরা আমরণ অনশন ধর্মঘট পালন করবো।

মানববন্ধনে আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, খুনি জিয়াউর রহমান যে ঘটনা ঘটিয়েছিলেন তা খুবই নিকৃষ্ট। তার নাম উচ্চারণ করতে আমার ঘৃণা বোধ হয়৷ আপনারা জানেন, হাইকোর্ট জিয়াকে ঠান্ডা মাথার খুনি হিসেবে রায় দিয়েছেন।

সাবেক বিচারপতি বলেন, যতদিন পৃথিবী বেঁচে থাকবে, ততদিন এ রায়ও বেঁচে থাকবে। ১৯৭৭ সালের সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবর মাসে জিয়া কয়েকশ থেকে কয়েক হাজার মানুষকে হত্যা করেছেন। বিচারের নামে প্রহসন করে জিয়া একেক মিনিটে একেক বিচার করেছেন।

তিনি আরও বলেন, আমাদের দাবি ‘৭৭ সনে যারা হাজার হাজার সৈনিকদের হত্যা করেছেন তাদের নামেও কমিশন গঠন করা হোক। যাতে ভবিষ্যত প্রজন্ম জানতে পারে জিয়া কতখানি নরপিশাচ ছিলেন।

মানবন্ধনে সার্জেন্ট আফাজ উদ্দিন ভুঁইয়ার ছেলে মাকসুদুল আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বাবাও নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার। তবে উনি তার বাবার কবর জিয়ারত করতে পারলেও আমরা পারি না। কী অপরাধ করেছি আমরা?

তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান আমার বাবাকে নির্মমভাবে হত্যা করেছেন। এমনকি, বাবার লাশ আমরা দেখতে পারিনি। ওই সময় আমার বয়স ছিল মাত্র সাড়ে তিন বছর। আমি বাবাকে কখন আপন করে ডাকতে পারিনি।

মাকসুদুল আলম আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমি জিয়াউর রহমানের বিচার চাই। ৪৭ বছর হয়ে গেছে, কাঁদতে কাঁদতে চোখ দিয়ে আর পানি পড়ছে না। জিয়ার লাশ আমরা এখানে দেখতে চাই না, দেখলে আমাদের খুবই কষ্ট লাগে।

শহীদ কর্নেল নাজমুল হুদার মেয়ে ও সংসদ সদস্য নাহিদ ইজাহার খান বলেন, জিয়ার হাত নিরাপরাধ ও নিরস্ত্র মানুষের রক্তে রঞ্জিত। তিনি সামরিক বাহিনীর হাজারো সদস্যকে বিচারের নামে হত্যা করেছেন।

‘১৯৭৭ সালে জাপানের বিমান ছিনতাইয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ১ হাজার ১৫৬ জন সেনা ও বিমানবাহিনী সদস্যকে গুলি করে, ফাঁসি দিয়ে হত্যা করেন। আমরা আমাদের বাবাদের লাশও দেখতে পারিনি। আমরা জানি না, আমাদের বাবার লাশ কোথায়।

তিনি আরও বলেন, জিয়ার মত খুনী ব্যক্তির কবর জাতীয় সংসদ ভবনে হতে পারে না। শিগগির তার কবর স্থানান্তর করতে হবে।

সংগঠনের অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে- ১৯৭৭ সালের ২ অক্টোবর সেনা ও বিমানবাহিনীর যে সদস্যরা জিয়ার সামরিক ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে ফাঁসি, কারাদণ্ড ও চাকরিচ্যুত হয়েছেন তাদের নির্দোষ ঘোষণা করা, প্রাণ হারানো ও ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রকাশ করা। স্ব-স্ব পদে সর্বোচ্চ র‍্যাংকে পদোন্নতি দেখিয়ে বর্তমান স্কেলে বেতন-ভাতা ও পেনশনসহ সব সরকারি সুযোগ-সুবিধা দেওয়া। রাষ্ট্রীয়ভাবে নিহতদের শহীদ হিসেবে ঘোষণা করা ও কবরস্থান চিহ্নিত করে নামসহ স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি করা।

এসএম/এসএএইচ/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।